Home/International/পার্টি ড্রাগ, মদ ও ওষুধের মিশ্রণেই মৃত্যু সৌদি রাজপুত্রের! লন্ডনের হোটেল কক্ষে মিলল দেহ
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

পার্টি ড্রাগ, মদ ও ওষুধের মিশ্রণেই মৃত্যু সৌদি রাজপুত্রের! লন্ডনের হোটেল কক্ষে মিলল দেহ

লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে সৌদি রাজপুত্র আবদুল্লা ইবনে ফাহাদ ইবনে আবদুল্লা ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে জালাভি আল সৌদের মৃত্যুর কারণ সামনে এল। তদন্তে জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত মদ্যপান, ‘পার্টি ড্রাগ’ এবং একাধিক ওষুধের সংমিশ্রণ তাঁর হৃদযন্ত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। মাত্র ২৯ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jul 24, 2026
5 min read
22
Share:
পার্টি ড্রাগ, মদ ও ওষুধের মিশ্রণেই মৃত্যু সৌদি রাজপুত্রের! লন্ডনের হোটেল কক্ষে মিলল দেহ

লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে সৌদি রাজপরিবারের সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে জানা গিয়েছে, একসঙ্গে অতিরিক্ত অ্যালকোহল, মাদক এবং চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ সেবনের কারণেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ২৯ বছর বয়সি সৌদি রাজপুত্র আবদুল্লা ইবনে ফাহাদ ইবনে আবদুল্লা ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে জালাভি আল সৌদের।

ঘটনাটি ঘটে লন্ডনের কিংস্টোন এলাকার ম্যারিয়ট হোটেলে। গত বছরের ২৫ নভেম্বর ওই হোটেলেই মৃত্যু হয়েছিল রাজপুত্রের। তবে তদন্ত এবং আদালতের নথি প্রকাশ্যে আসার পর শুক্রবার বিষয়টি সামনে আসে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রিন্স আবদুল্লা ১৯ নভেম্বর ওই হোটেলে এসে ওঠেন। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রায় এক সপ্তাহ সেখানে থাকবেন। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে শেষবার জীবিত অবস্থায় দেখা যায় ২৫ নভেম্বর সকালে। ফুটেজে দেখা যায়, তিনি সিগারেট খাওয়ার জন্য হোটেলের বাইরে বেরিয়েছিলেন।

এরপর ওই দিনই হোটেলের এক কর্মী তাঁর ঘরের শৌচালয়ে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত চিকিৎসকদের খবর দেওয়া হলেও ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।

মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হয়। সেই রিপোর্টেই উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃত্যুর সময় তাঁর শরীরে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে ২২২ মিলিগ্রাম। ইংল্যান্ডে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে যে আইনি সীমা নির্ধারিত রয়েছে, এই পরিমাণ তার প্রায় তিন গুণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বেশি মাত্রায় অ্যালকোহল শরীরে থাকলে একজন ব্যক্তি অচেতন বা কোমায় চলে যেতে পারেন। তবে শুধু মদ নয়, তাঁর শরীরে আরও বেশ কিছু পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

ময়নাতদন্তে রক্তে পাওয়া গিয়েছে গামা-হাইড্রোক্সিবিউটাইরেট বা জিএইচবি। এটি অনেক সময় ‘পার্টি ড্রাগ’ নামে পরিচিত। অতিরিক্ত মাত্রায় এই পদার্থ গ্রহণ করলে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা, অচেতনতা এবং হৃদযন্ত্রের জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এছাড়াও তাঁর শরীরে গাঁজা এবং জ্যানাক্সের উপস্থিতি পাওয়া যায়। জ্যানাক্স মূলত উদ্বেগ কমানোর জন্য ব্যবহৃত একটি ওষুধ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই ওষুধটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়েছিল এবং এর মাত্রা নিয়েও বিশেষ কোনও অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালকোহল, মাদক এবং বিভিন্ন ধরনের ওষুধ একসঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে তার প্রভাব অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এই সংমিশ্রণই শেষ পর্যন্ত তাঁর হৃদযন্ত্রের উপর ভয়াবহ চাপ তৈরি করে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আদালতে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রিন্স আবদুল্লা দীর্ঘদিন ধরে মদ এবং ওষুধের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। নেশাজনিত সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে রোহ্যাম্পটনের প্রাইরি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল।

তবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও তাঁর সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত নেশাজাতীয় দ্রব্যের অতিরিক্ত ব্যবহারই তাঁর মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

প্রিন্স আবদুল্লার মৃত্যু সৌদি রাজপরিবারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও আলোড়ন তৈরি করেছে। যদিও তদন্তকারীরা এটিকে কোনও অপরাধমূলক ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং দীর্ঘদিনের আসক্তি এবং একাধিক পদার্থের বিপজ্জনক মিশ্রণকেই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই ঘটনা ফের একবার মাদক ও অ্যালকোহলের সঙ্গে প্রেসক্রিপশন ওষুধ মেশানোর ভয়াবহ পরিণতির বিষয়টি সামনে এনে দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কোনও ওষুধ গ্রহণের সময় অ্যালকোহল বা অন্য কোনও নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করলে শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10