Home/Tourism/মূর্তি নদীর উপর নয়া আর্চ ব্রিজ, বদলে যেতে পারে উত্তরবঙ্গের পর্যটনের ছবি
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

মূর্তি নদীর উপর নয়া আর্চ ব্রিজ, বদলে যেতে পারে উত্তরবঙ্গের পর্যটনের ছবি

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে খুলতে চলেছে মূর্তি নদীর উপর তৈরি নতুন আর্চ ব্রিজ। উদ্বোধনের আগেই সেতুর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। ধনুকের মতো আকৃতির সাদা-কালো সেতুটি ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের অন্যতম নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। সেতু চালু হলে লাটাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, নাগরাকাটা, লুকসান ও মহাবাড়ি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। একইসঙ্গে জলঢাকা বিন্দু, রঙ্গু ও কুমাইয়ের মতো পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছনোর সময়ও কমবে বলে প্রশাসনের আশা। ফলে নতুন সেতুকে ঘিরে পর্যটন ব্যবসাতেও সম্ভাবনার আলো দেখছেন স্থানীয়রা।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 22, 2026
•5 min read•
34
Share:
মূর্তি নদীর উপর নয়া আর্চ ব্রিজ, বদলে যেতে পারে উত্তরবঙ্গের পর্যটনের ছবি

চার বছরের অপেক্ষার পর খুলছে মূর্তি ব্রিজ

মূর্তি নদীর উপর নতুন সেতু তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই সেটি চালু হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও এতদিন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি।

এবার সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে সেতুটির উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। উদ্বোধনের আগে থেকেই অবশ্য নতুন ব্রিজটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে সেতুটির ধনুকাকৃতি নকশা নজর কেড়েছে। সাদা ও কালো রঙের সমন্বয়ে তৈরি এই আর্চ ব্রিজটি মূর্তি নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে একটি আলাদা দৃশ্য তৈরি করেছে।

ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকাঠামো হিসেবে তৈরি হলেও উদ্বোধনের আগেই এটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

কমবে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ

নতুন সেতু চালু হওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে যোগাযোগ ব্যবস্থায়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রিজটি চালু হলে দুই প্রান্তের মধ্যে যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার কমে যাবে।

এর ফলে লাটাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, নাগরাকাটা, লুকসান এবং মহাবাড়ি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত আরও সহজ হতে পারে।

এখন যে পথ ঘুরে যেতে হয়, নতুন সেতু চালু হলে তার একটি বড় অংশ এড়ানো সম্ভব হবে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহণ এবং পর্যটনকেন্দ্রিক গাড়ি চলাচলেও সময় সাশ্রয় হতে পারে।

বিশেষ করে পর্যটন মরশুমে এই পরিবর্তনের গুরুত্ব আরও বেশি হতে পারে। পর্যটকেরা কম সময়ে একাধিক জায়গায় পৌঁছতে পারলে একই সফরে আরও বেশি পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন।

একাধিক পর্যটনকেন্দ্রে পৌঁছনো হবে সহজ

মূর্তি নদীর নতুন সেতুর প্রভাব শুধু স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উত্তরবঙ্গের একাধিক পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার পথও আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জলঢাকা বিন্দু, রঙ্গু, কুমাইয়ের মতো জায়গায় যেতে পর্যটকদের নতুন রুটটি সুবিধা দিতে পারে। একইসঙ্গে ডুয়ার্সের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

উত্তরবঙ্গের পর্যটন মূলত প্রকৃতি, জঙ্গল, নদী ও পাহাড়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাই কোনও একটি এলাকার সঙ্গে অন্য এলাকার যোগাযোগ সহজ হলে পর্যটন সার্কিট তৈরির সুযোগও বাড়ে।

নতুন ব্রিজ সেই সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের মুখে নতুন আশার কথা

নতুন সেতুকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী স্থানীয় পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। তাঁদের আশা, যাতায়াতের সময় কমলে উত্তরবঙ্গের এই অংশে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে পারে।

পর্যটক বাড়লে শুধু হোটেল বা রিসর্ট নয়, তার প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় ছোট ব্যবসাতেও। খাবারের দোকান, চা-বাগানকেন্দ্রিক পরিষেবা, গাড়ি ভাড়া, গাইড পরিষেবা এবং স্থানীয় পণ্য বিক্রির মতো ক্ষেত্রগুলিতে অতিরিক্ত ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে যেসব পর্যটক একদিন বা দু’দিনের ছোট সফরে উত্তরবঙ্গে আসেন, তাঁদের জন্য কম সময়ে একাধিক জায়গায় পৌঁছতে পারা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সেতু সেই সুবিধা তৈরি করতে পারে।

ফলে স্থানীয় অর্থনীতির ক্ষেত্রেও সেতুটি ভবিষ্যতে ভূমিকা নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুধু পর্যটন নয়, স্থানীয় জীবনেও প্রভাব

নতুন ব্রিজের সুবিধা পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও পাবেন। দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াতের পরিবর্তে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হলে স্কুল, হাসপাতাল, বাজার এবং কর্মস্থলে পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও সময় কমতে পারে।

দুই প্রান্তের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হলে স্থানীয় বাণিজ্যিক কার্যকলাপও বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। কৃষিপণ্য বা অন্যান্য স্থানীয় সামগ্রী পরিবহণের ক্ষেত্রেও সময় সাশ্রয় হতে পারে।

ফলে সেতুটিকে শুধু পর্যটন পরিকাঠামো হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়বে না। স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হিসেবেও এর গুরুত্ব রয়েছে।

উদ্বোধনের আগেই কেন ভাইরাল?

নতুন সেতুটির নকশাই মূলত মানুষের আগ্রহের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। মূর্তি নদীর উপর ধনুকের মতো বাঁকানো কাঠামো দূর থেকেই নজর কাড়ে।

সেতুর বিভিন্ন অংশের ছবি এবং ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তরবঙ্গের বাইরে থাকা মানুষের মধ্যেও এটি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

প্রকৃতি এবং আধুনিক পরিকাঠামোর এই সমন্বয় পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। অনেক পর্যটকই এখন কোনও এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি নতুন স্থাপত্যও তাঁদের ভ্রমণের অংশ হিসেবে দেখতে চান।

সেই দিক থেকে মূর্তি ব্রিজ ভবিষ্যতে নিজেই একটি দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে কি না, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনী বিধির কারণে আটকে ছিল উদ্বোধন

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সেতুর নির্মাণকাজ বেশ কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনী বিধিনিষেধের কারণে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি।

এবার সেই বিধিনিষেধের পর্ব শেষ হওয়ায় সেতু উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফলে নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও যে অপেক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা এবার কাটতে চলেছে।

সেতু চালু হওয়ার পর সেটির ব্যবহার কতটা বাড়ে এবং স্থানীয় যোগাযোগ ও পর্যটনে বাস্তবে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক কর্মসূচি

মূর্তি ব্রিজের উদ্বোধন ছাড়াও মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গে একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, কোচবিহারে পৌঁছে প্রথমে মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেওয়ার কথা তাঁর। এরপর কোচবিহারে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

পরে আলিপুরদুয়ারে বিশ্ব গন্ডার দিবসের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। সুভাষিণী চা বাগানের মাঠে ওই কর্মসূচি হওয়ার কথা।

একাধিক কর্মসূচি থাকায় মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

নতুন সেতুকে ঘিরে এখন নজর ভবিষ্যতের দিকে

মূর্তি নদীর উপর নতুন আর্চ ব্রিজ চালু হলে যোগাযোগের সময় কমার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রেও নতুন সংযোগ তৈরি হতে পারে। লাটাগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি, নাগরাকাটা থেকে লুকসান—বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে শুধু সেতু তৈরি হলেই পর্যটনের উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। রাস্তার গুণমান, পার্কিং, পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা, স্থানীয় পরিষেবা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর উন্নতিও একইসঙ্গে প্রয়োজন।

নতুন ব্রিজকে কেন্দ্র করে যদি সেই পরিকাঠামোগুলিও উন্নত করা যায়, তাহলে মূর্তি নদী সংলগ্ন এলাকা আরও বড় পর্যটন সার্কিটের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, চার বছরের অপেক্ষার পর মূর্তি নদীর উপর নতুন আর্চ ব্রিজ চালু হতে চলেছে। প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ কমানোর সম্ভাবনা, একাধিক এলাকার যোগাযোগ সহজ হওয়া এবং বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে দ্রুত পৌঁছনোর সুযোগ—সব মিলিয়ে সেতুটিকে ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ব্রিজটি আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের পর্যটনের নতুন আকর্ষণ হয়ে ওঠে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10