মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আবহে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল ইয়েমেন। বৃহস্পতিবার সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর উপর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হাউথি বিদ্রোহীরা। এই হামলায় অন্তত ৩০ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহতের সংখ্যা ৫০-এর বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর উপর এটি হাউথিদের সবচেয়ে বড় হামলা। দীর্ঘদিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্যেই এই আক্রমণ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, মারিব এবং হাদরামাউত প্রদেশের একাধিক সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ওই এলাকাগুলি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। হাউথি সংগঠনও এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
হাউথি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারির দাবি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আল-রুয়াইক, আল-আবর এবং আল-থানিয়াহ এলাকার সৌদি সমর্থিত বাহিনীর ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করা হয়েছিল।
হাউথিদের দাবি, এই অভিযানে শতাধিক সেনা হতাহত হয়েছেন। যদিও এই সংখ্যার স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকেও হামলার বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব প্রকাশ করা হয়নি।
হামলার পর হাউথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে সেনারা সরে না গেলে ভবিষ্যতে আরও আক্রমণ চালানো হবে। এর ফলে ইয়েমেনের সংঘাত পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনে ২০১৪ সাল থেকে সংঘাত চলছে। ইরান সমর্থিত হাউথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা-সহ দেশের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট সমর্থন করে আসছে।
এই গৃহযুদ্ধের জেরে ইয়েমেনে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং খাদ্য, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও নিরাপত্তার সংকটে ভুগছেন। সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল নিয়েও হাউথিদের কার্যকলাপ আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এদিকে, ইয়েমেনে নিযুক্ত আমেরিকার কূটনৈতিক মিশন এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। তাদের বক্তব্য, হাউথিদের এই আক্রমণ ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে চালানো ধারাবাহিক সহিংসতার আরও একটি উদাহরণ।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ইরান, ইজরায়েল, আমেরিকা এবং তাদের মিত্র দেশগুলির মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই ইয়েমেনে এই বড়সড় হামলা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাউথিদের সামরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি হলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের পরিস্থিতি শুধু অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক লড়াই। ইরান ও সৌদি আরবের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতাও এই সংঘাতের অন্যতম কারণ।
বর্তমান হামলার পর সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন বাহিনী কী পদক্ষেপ নেয়, তার উপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। একইসঙ্গে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই হামলার পালটা জবাব দিলে ইয়েমেনে ফের বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষ শুরু হতে পারে।



