Home/Tourism/লঞ্চের বদলে আকাশপথে বাঘদর্শন! সুন্দরবনকে ঘিরে মিঠুনের বড় পরিকল্পনা, আসছে ৩ দিনের ট্যুর প্যাকেজ
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

লঞ্চের বদলে আকাশপথে বাঘদর্শন! সুন্দরবনকে ঘিরে মিঠুনের বড় পরিকল্পনা, আসছে ৩ দিনের ট্যুর প্যাকেজ

সুন্দরবনের জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখার রোমাঞ্চ এবার আরও অন্যরকম হতে পারে। নদীপথে লঞ্চ বা নৌকায় ঘুরে বাঘ দেখার পাশাপাশি আকাশপথ থেকেও বাঘদর্শনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানালেন অভিনেতা তথা ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী। কম শব্দের হেলিকপ্টার, ছোট এয়ারক্রাফট কিংবা ড্রোন-ভিত্তিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই পরিষেবা চালুর ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে থাকা-খাওয়া, টাইগার সাফারি, ডলফিন দেখা এবং ধর্মীয় স্থান ঘোরাকে মিলিয়ে সুন্দরবনে ৩ দিনের পর্যটন প্যাকেজ তৈরির পরিকল্পনাও সামনে এসেছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 14, 2026
•5 min read•
17
Share:
লঞ্চের বদলে আকাশপথে বাঘদর্শন! সুন্দরবনকে ঘিরে মিঠুনের বড় পরিকল্পনা, আসছে ৩ দিনের ট্যুর প্যাকেজ

সুন্দরবনে পর্যটনের নতুন মডেলের ভাবনা

সুন্দরবন মানেই নদী, ম্যানগ্রোভ অরণ্য আর রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। বছরের বিভিন্ন সময়ে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা এই জঙ্গলে আসেন বাঘ দেখার আশায়। এতদিন পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ ছিল লঞ্চ বা নৌকায় চেপে নদীপথে জঙ্গল ঘোরা। ভাগ্য সহায় হলে নদীর ধারে বা জঙ্গলের মধ্যে বাঘের দেখা মিলত।

এবার সেই অভিজ্ঞতাকেই আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রবিবার সুন্দরবন পরিদর্শনে গিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী জানান, আকাশপথে বাঘ দেখানোর একটি পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। তবে এই ব্যবস্থায় বন্যপ্রাণীর যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মিঠুনের বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ চিড়িয়াখানার ধারণা সুন্দরবনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ এখানে বাঘকে বন্দি অবস্থায় নয়, তার নিজের প্রাকৃতিক পরিবেশেই দেখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। সেই ভাবনা থেকেই নতুন ধরনের পর্যটন ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ।

বাঘকে নিজের জঙ্গলেই দেখার সুযোগ

সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। কিন্তু অন্য পর্যটনকেন্দ্রের মতো এখানে কৃত্রিমভাবে বন্যপ্রাণী প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হলে সুন্দরবনের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যই নষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন মিঠুন।

তাঁর মতে, পর্যটকরা সুন্দরবনে আসবেন জঙ্গলের প্রকৃত পরিবেশ অনুভব করতে। তাই বাঘকে তার নিজের আবাসস্থলেই দেখার ব্যবস্থা করতে হবে। কৃত্রিম চিড়িয়াখানা তৈরি করলে সেই স্বাভাবিক আকর্ষণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আকাশপথে বাঘদর্শনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটকরা ম্যানগ্রোভ অরণ্যের উপর থেকে বাঘের গতিবিধি দেখার সুযোগ পেতে পারেন।

হেলিকপ্টার, ছোট এয়ারক্রাফট নাকি ড্রোন?

আকাশপথে বাঘ দেখানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শব্দ এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা। পর্যটকদের নিয়ে কোনও যানবাহন যদি বাঘের কাছাকাছি গিয়ে অতিরিক্ত শব্দ তৈরি করে, তাহলে তার প্রভাব বন্যপ্রাণীর উপর পড়তে পারে।

এই কারণেই কম শব্দে চলতে পারে এমন প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। মিঠুনের বক্তব্য অনুযায়ী, ছোট এয়ারক্রাফট, ড্রোন-ভিত্তিক ব্যবস্থা অথবা কম শব্দের হেলিকপ্টারের মতো বিকল্প নিয়ে ভাবা হচ্ছে।

তবে এটি এখনও পরিকল্পনার পর্যায়ে। বাস্তবে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, কত উচ্চতা থেকে পর্যটকদের বাঘ দেখানো হবে, কতজন পর্যটক একসঙ্গে এই পরিষেবা নিতে পারবেন এবং বন্যপ্রাণীর উপর কোনও বিরূপ প্রভাব পড়বে কি না—এসব বিষয় নির্ধারণের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই পর্যটনের চাবিকাঠি

সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে হলে শুধু জঙ্গল বা সাফারি পরিষেবা উন্নত করলেই হবে না। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেই কারণেই ক্যানিং থেকে গদখালি পর্যন্ত রেল যোগাযোগ তৈরির বিষয়টিও সামনে এসেছে। সুন্দরবনে যাওয়ার ক্ষেত্রে গদখালি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। বর্তমানে পর্যটকদের একটি বড় অংশ ক্যানিং হয়ে সড়কপথে গদখালি পৌঁছন এবং সেখান থেকে জলপথে জঙ্গলের দিকে যাত্রা করেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে পারে। একইসঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গদখালি পর্যন্ত রেল এলে বদলে যেতে পারে পর্যটন

বিধায়ক বিকর্ণ নস্করের বক্তব্য, পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিঠুনও গদখালির গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন।

তাঁর মতে, গদখালি পর্যন্ত রেল যোগাযোগ তৈরি হলে পর্যটকরা সরাসরি একটি নির্দিষ্ট জায়গা পর্যন্ত রেলে পৌঁছে যেতে পারবেন। এরপর সেখান থেকে জলপথে সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে যাওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

এতে যাতায়াতের সময় ও ঝামেলা কমার পাশাপাশি সুন্দরবন ভ্রমণ আরও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা যেতে পারে। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় ব্যবসায়ী, নৌকা ও লঞ্চ পরিষেবা, হোটেল এবং অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারীরাও এর ফলে উপকৃত হতে পারেন।

দুই রাতের থাকা, সকাল-সন্ধ্যায় টাইগার সাফারি

শুধু একদিনের সুন্দরবন ভ্রমণের বদলে এবার পর্যটকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ৩ দিনের প্যাকেজ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মিঠুন।

এই প্যাকেজের মূল আকর্ষণ হবে সুন্দরবনের কোনও দ্বীপে থাকা। পর্যটকরা সেখানে দুই রাত কাটাতে পারবেন। সকালে এবং সন্ধ্যায় জঙ্গল সাফারির ব্যবস্থা থাকবে। ফলে পর্যটকদের একবার জঙ্গলে গিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসতে হবে না।

বরং দীর্ঘ সময় সুন্দরবনের পরিবেশের মধ্যে থাকার সুযোগ মিলবে। দিনের আলাদা সময়ে জঙ্গলের চরিত্রও পর্যটকরা কাছ থেকে অনুভব করতে পারবেন।

বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার সাফারি পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। কারণ এই সময় বন্যপ্রাণীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

টাইগার সাফারির পাশাপাশি ডলফিন দেখার সুযোগ

৩ দিনের প্রস্তাবিত প্যাকেজে শুধু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখাই নয়, ডলফিন সাফারিও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সুন্দরবনের নদী ও মোহনা অঞ্চলে ডলফিন পর্যবেক্ষণ পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে একই সফরে একদিকে ম্যানগ্রোভ অরণ্য ও বাঘ, অন্যদিকে নদীর জলজ প্রাণী—দুই ধরনের অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে।

এতে সুন্দরবনকে শুধু ‘টাইগার ট্যুর’ হিসেবে নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

হাট থেকে ধর্মীয় স্থান—এক প্যাকেজেই সব

মিঠুনের পরিকল্পনায় শুধু প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী পর্যটন নেই। সুন্দরবনের স্থানীয় জীবনযাত্রা এবং ধর্মীয় পর্যটনকেও একই প্যাকেজের মধ্যে আনার কথা বলা হয়েছে।

পর্যটকরা জঙ্গল সাফারি ও ডলফিন সাফারির পাশাপাশি স্থানীয় হাটে ঘুরতে পারবেন। সেখানে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা, স্থানীয় পণ্য এবং বাজার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকবে।

এরপর ধর্মীয় স্থানগুলিও ঘুরিয়ে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ একই সফরে প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় পর্যটন—চার ধরনের অভিজ্ঞতাকে একসঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পর্যটনের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব

এই ধরনের প্যাকেজ বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও লাভবান হতে পারে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে হোটেল, হোমস্টে, রেস্তরাঁ, লঞ্চ, নৌকা, গাইড এবং স্থানীয় বাজারের সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে পর্যটন বাড়ানোর সঙ্গে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ভারসাম্য বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মতো সংবেদনশীল বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে পর্যটকদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং শব্দদূষণ কমানো জরুরি।

আকাশপথে বাঘদর্শনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেই ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়টি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন হবে। প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য যাতে কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই হতে হবে মূল শর্ত।

সুন্দরবন পর্যটনে নতুন দিগন্তের সম্ভাবনা

বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবনকে আরও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

তারই মধ্যে মিঠুন চক্রবর্তীর সামনে আনা আকাশপথে বাঘদর্শনের ভাবনা নিঃসন্দেহে অভিনব। যদিও এটি এখনও বাস্তবায়নের আগের পর্যায়ে, তবু পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে সুন্দরবন পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।

একইসঙ্গে গদখালি পর্যন্ত রেল যোগাযোগ এবং ৩ দিনের সমন্বিত ট্যুর প্যাকেজ চালু হলে পর্যটকদের জন্য সুন্দরবন ভ্রমণ আরও সহজ ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, নদীপথে জঙ্গল দেখা থেকে আকাশপথে রয়্যাল বেঙ্গল দর্শন—সুন্দরবন পর্যটনে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরির পরিকল্পনা সামনে এসেছে। দুই রাতের থাকা, সকাল-সন্ধ্যার টাইগার সাফারি, ডলফিন দেখা, স্থানীয় হাট ঘোরা এবং ধর্মীয় স্থান ভ্রমণ—সবকিছুকে এক ছাতার নিচে এনে ৩ দিনের পূর্ণাঙ্গ ট্যুর তৈরির ভাবনা পর্যটনপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। এখন নজর, এই পরিকল্পনাগুলি কবে বাস্তব রূপ পায়।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10