Home/Tourism/কাউন্টারের লাইনের দিন শেষ! শান্তিনিকেতনে এবার মোবাইলেই হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট, পুজোর পর চালু ই-টিকিট
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

কাউন্টারের লাইনের দিন শেষ! শান্তিনিকেতনে এবার মোবাইলেই হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট, পুজোর পর চালু ই-টিকিট

শান্তিনিকেতন ঘুরতে গিয়ে আর টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। বিশ্বভারতীর হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট এবার মোবাইল থেকেই বুক করা যাবে। পুজোর পর এই অনলাইন টিকিট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে বিশ্বভারতী। পর্যটকদের সুবিধার জন্য প্রতিটি ই-টিকিটে বারকোড ব্যবহারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অনলাইন টিকিট পরিষেবা চালুর জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতন ভ্রমণে এবার যুক্ত হতে চলেছে প্রযুক্তির নতুন সুবিধা।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 16, 2026
•5 min read•
105
Share:
কাউন্টারের লাইনের দিন শেষ! শান্তিনিকেতনে এবার মোবাইলেই হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট, পুজোর পর চালু ই-টিকিট

পুজোর পর থেকেই মোবাইলে মিলবে টিকিট

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতন বরাবরই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। বিশ্বভারতীর বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা, রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত বাড়ি এবং সংগ্রহশালা দেখতে প্রতিদিনই বহু পর্যটক সেখানে যান।

কিন্তু হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সময় কাউন্টারে ভিড়ের মুখে পড়তে হয় পর্যটকদের। নির্দিষ্ট সময়ে দর্শন করতে চাইলে আগে থেকে পরিকল্পনা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই এবার অনলাইন টিকিট ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে বিশ্বভারতী।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুজোর পর থেকেই পর্যটকরা বাড়িতে বসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট বুক করতে পারবেন। ফলে শান্তিনিকেতনে পৌঁছে কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন কমবে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আগাম টিকিট কেটে সরাসরি দর্শনস্থলে যাওয়ার সুযোগ মিলবে।

বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, ই-টিকিট চালু করার পরিকল্পনা বেশ কিছুদিন ধরেই ছিল। পুজোর আগেই ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে পুজোর পর ই-টিকিট ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তুতি চলছে এবং তার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

এক টিকিটে একাধিক ঐতিহ্য দেখার সুযোগ

শান্তিনিকেতনের হেরিটেজ ওয়াকের অন্যতম আকর্ষণ হল রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন বাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ঘুরে দেখার সুযোগ।

পর্যটকদের জন্য উদয়ন, উদীচী, কোনার্ক, শ্যামলী এবং পুনশ্চ—রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত পাঁচটি বাড়ি দর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা, যেখানে কবিগুরুর জীবনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সামগ্রী এবং পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত রয়েছে।

হেরিটেজ ওয়াকের আওতায় শান্তিনিকেতন গৃহ এবং কলাভবন সংগ্রহশালাও রয়েছে। ফলে একবারের সফরেই শান্তিনিকেতনের ইতিহাস, রবীন্দ্র-ঐতিহ্য এবং বিশ্বভারতীর সাংস্কৃতিক পরিসর সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে পর্যটকদের।

নতুন অনলাইন ব্যবস্থায় শুধু আলাদা দর্শনীয় স্থানের জন্য টিকিট নয়, একসঙ্গে একাধিক জায়গা ঘোরার জন্য কম্বো টিকিটের ব্যবস্থাও থাকবে। ফলে পর্যটকরা নিজেদের পছন্দ এবং সময় অনুযায়ী প্যাকেজ বেছে নিতে পারবেন।

বারকোডেই যাচাই হবে ই-টিকিট

অনলাইন টিকিট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বারকোড প্রযুক্তি। প্রতিটি ই-টিকিটে নির্দিষ্ট বারকোড থাকবে। দর্শনস্থলে প্রবেশের সময় সেই বারকোড স্ক্যান করে টিকিটের বৈধতা যাচাই করা যাবে।

এর ফলে কাগজের টিকিটের উপর নির্ভরতা কমবে। একইসঙ্গে জাল বা ভুল টিকিট নিয়ে প্রবেশের সম্ভাবনাও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

বিশ্বভারতীর পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে ছুটির মরশুম বা পুজোর সময়ে যখন পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যায়, তখন অনলাইন বুকিং এবং বারকোড যাচাইয়ের ফলে কাউন্টারে চাপও কমতে পারে।

তবে নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর কীভাবে বুকিং, সময় নির্বাচন এবং প্রবেশ যাচাই হবে, সেই বিস্তারিত নিয়ম বিশ্বভারতীর তরফে পরবর্তীতে জানানো হবে।

কত টাকা টিকিট? পড়ুয়াদের জন্য ছাড়ও রয়েছে

বর্তমানে বিশ্বভারতীর হেরিটেজ ওয়াকের সাধারণ টিকিটের মূল্য মাথাপিছু ৩০০ টাকা। তবে পড়ুয়াদের জন্য আলাদা ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

দলবদ্ধভাবে আসা পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে টিকিটের মূল্য মাথাপিছু ৫০ টাকা। একক পড়ুয়ার জন্য নির্ধারিত মূল্য ১৫০ টাকা। অন্যদিকে বিদেশি পর্যটকদের জন্য হেরিটেজ ওয়াকের টিকিটের দাম ১০০০ টাকা।

একটি দলে সর্বাধিক ২৫ জন পর্যটক প্রবেশ করতে পারেন। বর্তমানে রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালার কাউন্টার থেকে হেরিটেজ ওয়াকের টিকিট সংগ্রহ করা যায়।

অনলাইন বুকিং চালু হলে এই ব্যবস্থার পাশাপাশি মোবাইল থেকেই আগাম টিকিট কাটার সুযোগ পাওয়া যাবে। ফলে বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য পরিকল্পনা করা আরও সহজ হবে।

রবীন্দ্রভবনে এখনও সংরক্ষিত কবিগুরুর স্মৃতি

শান্তিনিকেতনের হেরিটেজ ওয়াকের সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা। কবিগুরুর জীবন ও কর্মের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্মারক এখানে সংরক্ষিত রয়েছে।

রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত সামগ্রী, পাণ্ডুলিপি এবং তাঁর জীবনের নানা পর্যায়ের স্মৃতিচিহ্ন পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের বিষয়। নোবেল পদকের প্রতিরূপও এখানে প্রদর্শিত হয়।

ফলে শান্তিনিকেতন ভ্রমণ শুধু পর্যটন নয়, রবীন্দ্রনাথের জীবন, সাহিত্য এবং বিশ্বভারতীর ইতিহাসকে কাছ থেকে জানার সুযোগও তৈরি করে।

অনলাইন টিকিট ব্যবস্থা চালু হলে এই ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলিতে পর্যটকের প্রবেশ প্রক্রিয়া আরও সংগঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৭-এ ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ চালুর পরিকল্পনা

বিশ্বভারতীর পর্যটন ব্যবস্থায় শুধু ই-টিকিটই নয়, আরও একটি নতুন সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শান্তিনিকেতনে ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শান্তিনিকেতনের ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথের জীবন এবং বিশ্বভারতীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অর্থাৎ আগামী দিনে শান্তিনিকেতনের পর্যটন ব্যবস্থায় একাধিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ই-টিকিট থেকে শুরু করে বারকোড এবং পরে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড—পর্যটকদের অভিজ্ঞতা বদলের দিকেই এগোচ্ছে বিশ্বভারতী।

পর্যটকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন?

শান্তিনিকেতনে পুজো, শীতের ছুটি কিংবা সপ্তাহান্তে পর্যটকের চাপ অনেকটাই বেড়ে যায়। সেই সময়ে টিকিট কাউন্টারে ভিড় তৈরি হলে দর্শনের সময়ও নষ্ট হতে পারে।

অনলাইন টিকিটের ফলে পর্যটকরা আগে থেকেই নিজেদের ভ্রমণের সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে কিংবা দলবদ্ধভাবে শান্তিনিকেতন ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের ক্ষেত্রে আগাম বুকিং সুবিধাজনক হতে পারে।

একইসঙ্গে কম্বো টিকিটের ব্যবস্থা থাকায় কোন কোন স্থান ঘুরবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করা সম্ভব হবে। পড়ুয়াদের জন্য ছাড় থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ছাত্রছাত্রীদের দলও তুলনামূলক কম খরচে হেরিটেজ ওয়াকের সুযোগ পাবে।

তবে অনলাইন ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করবে বুকিং ব্যবস্থা কতটা সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে তার উপর। পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য, নির্দিষ্ট সময়ের স্লট এবং টিকিট বাতিল বা পরিবর্তনের নিয়ম স্পষ্ট করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রযুক্তির মেলবন্ধন

শান্তিনিকেতনের মূল আকর্ষণ তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি, বিশ্বভারতীর ইতিহাস এবং এখানকার সাংস্কৃতিক পরিবেশই পর্যটকদের টানে।

সেই ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেই পর্যটন ব্যবস্থাকে আধুনিক করার চেষ্টা করছে বিশ্বভারতী। ই-টিকিট এবং বারকোড ব্যবস্থা সেই পরিবর্তনের প্রথম ধাপগুলির অন্যতম।

পুজোর পর ব্যবস্থা চালু হলে পর্যটকরা মোবাইলেই টিকিট কেটে শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী স্থানে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। এরপর ২০২৭ সালের শুরুতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পর্যটন অভিজ্ঞতায় আরও নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্র-ঐতিহ্য দেখার অভিজ্ঞতা এবার ধীরে ধীরে ডিজিটাল হচ্ছে। কাউন্টারের দীর্ঘ লাইনের বদলে মোবাইল বুকিং, টিকিট যাচাইয়ে বারকোড এবং ভবিষ্যতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড—সব মিলিয়ে বিশ্বভারতীর পর্যটন ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10