কামরার নিচে ধোঁয়া, আচমকাই থামল কাঞ্চনজঙ্ঘা
বৃহস্পতিবার সকাল তখন প্রায় ৮টা। শিয়ালদহ থেকে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে ছুটছিল ১৩১৭৩ আপ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনের বেলমুড়ি স্টেশনের কাছে পৌঁছতেই ট্রেনের একটি কামরার নিচের অংশ থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখা যায়।
বিষয়টি নজরে আসতেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। আগুন লেগেছে কি না, কিংবা বড় কোনও যান্ত্রিক সমস্যা হয়েছে কি না, তা নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে চালক ট্রেনটিকে বেলমুড়ি স্টেশনে দাঁড় করিয়ে দেন। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে একাধিক কামরা থেকে যাত্রীরা নেমে প্ল্যাটফর্মে চলে আসেন।
ব্রেকসুতে ঘর্ষণ থেকেই ধোঁয়া?
প্রাথমিকভাবে রেলের তরফে মনে করা হচ্ছে, ট্রেনের চাকার ব্রেকসুতে অতিরিক্ত ঘর্ষণের কারণেই ধোঁয়া তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ট্রেন থামার পর রেলের আধিকারিকদের খবর দেওয়া হয়। তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংশ্লিষ্ট কামরা এবং ট্রেনের যান্ত্রিক ব্যবস্থা পরীক্ষা করেন।
প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বড় কোনও দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি বলেই জানা গিয়েছে।
২০ মিনিট পর ফের রওনা
বেলমুড়ি স্টেশনে দাঁড় করানোর পর প্রায় ২০ মিনিট ধরে ট্রেনটি পরীক্ষা করা হয়। রেলের কর্মীরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর সকাল ৮টা ২২ মিনিট নাগাদ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ফের যাত্রা শুরু করে।
যাত্রীদেরও এরপর ট্রেনে উঠিয়ে দেওয়া হয়। গন্তব্যের উদ্দেশে ফের রওনা দেয় ১৩১৭৩ আপ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস।
ঘটনার কারণে সাময়িকভাবে আতঙ্ক তৈরি হলেও ট্রেনের যাত্রা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকেনি। রেল কর্তৃপক্ষও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখে।
যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক কেন ছড়াল?
ট্রেন চলন্ত অবস্থায় কামরার নিচ থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বেরতে দেখায় স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ধোঁয়ার উৎস স্পষ্ট না হওয়ায় প্রথমে অনেকে আগুন বা বড়সড় যান্ত্রিক গোলযোগের আশঙ্কা করেন।
এরপর চালক ট্রেন থামিয়ে দেওয়ায় অনেক যাত্রী দ্রুত কামরা থেকে বেরিয়ে প্ল্যাটফর্মে চলে আসেন। রেলকর্মীরা পরিস্থিতি পরীক্ষা করার পর ধীরে ধীরে আতঙ্ক কাটে।
রেলের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির নির্দিষ্ট কারণও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এর আগেও দুর্ঘটনার সাক্ষী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস
কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অতীতের একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি। ২০২৪ সালের ১৭ জুন শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসকে পিছন থেকে ধাক্কা দিয়েছিল একটি মালগাড়ি।
উত্তরবঙ্গের রাঙাপানি এলাকায় ওই দুর্ঘটনায় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং বহু যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তী তদন্তে রেল পরিচালনা ও সিগন্যাল ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছিল।
সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও অনেকের মনে রয়েছে। ফলে একই ট্রেনে ফের ধোঁয়া বেরনোর খবর সামনে আসতেই যাত্রীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়।
বড় দুর্ঘটনা না হলেও নজরে রেল কর্তৃপক্ষ
এবারের ঘটনায় অবশ্য বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। ধোঁয়া দেখা দেওয়ার পর চালক দ্রুত ট্রেন থামিয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। রেলের আধিকারিকরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।
তবে চলন্ত ট্রেনের ব্রেক বা চাকার অংশ থেকে ধোঁয়া বেরনোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সেই কারণে সংশ্লিষ্ট অংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর ট্রেনটি ফের যাত্রা শুরু করলেও পুরো বিষয়টি নজরে রাখা হয়েছে।
যাত্রা স্বাভাবিক, তদন্তে রেল
বেলমুড়ি স্টেশনে সাময়িক বিরতির পর কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ফের উত্তরবঙ্গের পথে রওনা দেয়। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হয়নি।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে রেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা করছে। ব্রেকসুতে ঘর্ষণ থেকেই ধোঁয়া তৈরি হয়েছিল কি না, নাকি অন্য কোনও যান্ত্রিক সমস্যা ছিল—তা বিস্তারিত পরিদর্শনের পরই স্পষ্ট হবে।
বৃহস্পতিবার সকালের এই ঘটনায় বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ট্রেনযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের অতীত দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রেল কর্তৃপক্ষ।



