Home/International/জেলেনস্কির জন্মশহরে রুশ হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ্মী মিত্তলের স্টিল কারখানা! মৃত ২
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

জেলেনস্কির জন্মশহরে রুশ হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ্মী মিত্তলের স্টিল কারখানা! মৃত ২

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতীয় শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তলের ব্যবসায়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জন্মশহর ক্রিভি রিহে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত দু’জন। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লক্ষ্মী মিত্তলের সংস্থা আর্সেলরমিত্তালের স্টিল কারখানাও। বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ব্লাস্ট ফার্নেস পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আপাতত উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে সংস্থাটিকে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Aug 17, 2026
5 min read
3
Share:
জেলেনস্কির জন্মশহরে রুশ হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ্মী মিত্তলের স্টিল কারখানা! মৃত ২

ক্রিভি রিহে ভয়াবহ রুশ হামলা

রবিবার রাতের পর সোমবার ইউক্রেনের একাধিক এলাকায় রুশ হামলার খবর সামনে এসেছে। এর মধ্যে বিশেষ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্রিভি রিহ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জন্মশহর হিসেবেও এই শহরটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরে এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা। হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন পরিকাঠামো এবং শিল্পাঞ্চলও।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, রাশিয়া ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোর সময় পরিকাঠামোগুলিকে পরিকল্পিত ভাবে নিশানা করছে। বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাকে আঘাত করার ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়ছে বলে দাবি কিয়েভের।

এই হামলার সবচেয়ে বড় শিল্পক্ষতিগুলির একটি হল আর্সেলরমিত্তালের কারখানায়। সংস্থাটি ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ ইস্পাত প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।

ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ্মী মিত্তলের সংস্থা

ভারতীয় শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তলের নেতৃত্বাধীন আর্সেলরমিত্তাল দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের ইস্পাত শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ক্রিভি রিহের কারখানাটি সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকেন্দ্র।

রুশ হামলায় কারখানার বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ব্লাস্ট ফার্নেসের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার জন্য উৎপাদন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি আগেও একাধিকবার সমস্যার মুখে পড়েছে। তবে এবারের হামলায় গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

আর্সেলরমিত্তাল ইউক্রেনের ইস্পাত শিল্পের অন্যতম প্রধান সংস্থা হওয়ায় উৎপাদন বন্ধের প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মী ও সংস্থার উপর নয়, দেশের শিল্পক্ষেত্রেও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পালটা হামলার পরেই রুশ আক্রমণ

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের এই নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছে ইউক্রেনের বড় আকারের ড্রোন হামলার পর। রবিবার রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, ওই হামলায় মোট ৮২২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানী মস্কোর দিকে প্রায় ৬০০টি ড্রোন এগিয়ে আসছিল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোন মস্কো অঞ্চলে প্রতিহত করা হয়।

রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের এই আক্রমণকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখছে মস্কো।

এর পরেই ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ বাহিনীর পালটা হামলা শুরু হয়। ড্রোনের পাশাপাশি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও ইউক্রেনের তরফে জানানো হয়েছে।

শিল্পাঞ্চলও যুদ্ধের নিশানায়

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি শিল্প ও পরিকাঠামো ব্যবস্থার উপর হামলার ঘটনা বাড়ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি ব্যবস্থা, পরিবহণ পরিকাঠামো এবং শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।

ক্রিভি রিহের ঘটনা সেই পরিস্থিতিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্পাত কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের আরও একটি উদাহরণ।

ইউক্রেনের জন্য ইস্পাত শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের আগে দেশের অন্যতম বড় শিল্পক্ষেত্র ছিল এটি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বহু কারখানা উৎপাদন কমিয়েছে অথবা সাময়িক ভাবে বন্ধ করেছে। কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবার নিরাপত্তার কারণে কর্মীদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

আর্সেলরমিত্তালের কারখানায় এবার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্লাস্ট ফার্নেসের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন থমকে গেল।

জেলেনস্কির কড়া অভিযোগ

রুশ হামলার পর জেলেনস্কি মস্কোর বিরুদ্ধে পরিকাঠামোকে ইচ্ছাকৃত ভাবে নিশানা করার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যালেস্টিক হামলার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ক্রিভি রিহে হতাহতের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতি সেই অভিযোগকে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে। ইউক্রেনীয় প্রশাসনের সামনে এখন একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো পুনর্গঠন, অন্যদিকে চলমান যুদ্ধের মধ্যে শিল্প উৎপাদন সচল রাখার চ্যালেঞ্জ।

কারখানার উৎপাদন কবে ফের শুরু করা যাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামতির পরেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

যুদ্ধের আঁচ ভারতীয় শিল্পেও

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের প্রভাব আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ব্যবসায় পড়েছে। এবার সেই তালিকায় আরও স্পষ্ট ভাবে উঠে এল লক্ষ্মী মিত্তলের শিল্পগোষ্ঠীর নাম।

ভারতীয় শিল্পপতির সংস্থার কারখানায় হামলা হওয়ার ঘটনা দেখিয়ে দিল, যুদ্ধের প্রভাব কোনও নির্দিষ্ট দেশের সীমান্তের মধ্যে আটকে নেই। আন্তর্জাতিক শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গেও তা সরাসরি যুক্ত।

রবিবার রাশিয়ায় নজিরবিহীন ড্রোন হামলা এবং তার পরেই ইউক্রেনের মাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা—পরপর এই পালটা আক্রমণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। ক্রিভি রিহের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পশহরে ফের হামলা হওয়ায় আগামী দিনে ইউক্রেনের শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10