দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সামরিক হামলার জেরে পারস্য উপসাগর সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ভয়াবহ তেল দূষণের ছবি সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গিয়েছে, ইরানের কাশেম (Qeshm) দ্বীপ এবং লাভান দ্বীপ সংলগ্ন জলে কয়েক মাইল জুড়ে তেলের স্তর ভেসে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধকালীন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ ও তেল শোধনাগার থেকেই এই তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়েছে।
৭ এপ্রিলের একটি স্যাটেলাইট ছবিতে হরমুজ প্রণালীর একাংশে প্রায় পাঁচ মাইল এলাকা জুড়ে তেলের দাগ স্পষ্ট দেখা যায়। পরিবেশ সংস্থা Greenpeace-এর মুখপাত্র নিনা নোয়েলের বক্তব্য, মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ইরানি জাহাজ থেকে তেল চুঁইয়ে সমুদ্রে মিশতে শুরু করে।
এছাড়াও লাভান দ্বীপের কাছে আরেকটি বড় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। সেখানে একটি ইরানি তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং সেখান থেকেও বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল জলে মিশে যায়।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, এই দূষণের ফলে কচ্ছপ, ডলফিন, তিমি, ডুগং, সামুদ্রিক পাখি ও প্রবাল প্রাচীর মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তেল জলে মিশে গেলে প্রাণীদের শরীরে বিষক্রিয়া, খাদ্য শৃঙ্খলের ভাঙন এবং বাস্তুতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তৈরি হয়। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের তেল দূষণের সঙ্গে এই পরিস্থিতির তুলনাও টানা হচ্ছে।
পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, উপকূলবর্তী বহু দেশের পানীয় জল, মাছ ধরার অর্থনীতি এবং উপকূলীয় জনজীবনও এর ফলে বিপর্যস্ত হতে পারে। কারণ পারস্য উপসাগরের জল বহু দেশে লবণমুক্ত করে ব্যবহার করা হয়।



