এই হামলার পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি ইরান। একই দিনে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় হামলা চালিয়েছে তেহরান। এতে বাহরাইনে দুজন এবং আমিরাতে ছয়জন আহত হয়েছেন।
সংঘাতের আঁচ এদিন ইজরায়েলেও পড়েছে। দক্ষিণ ইজরায়েলের একটি রাসায়নিক কারখানায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর বিষাক্ত গ্যাস লিকের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের গৃহবন্দি থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া জর্ডনের একটি বিমান ঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে ইরান। শনিবার ইরান দাবি করেছে, আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় একটি মার্কিন এফ-১৬ বিমান গুলি করে নামানো হয়েছে, যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী আইআরজিসি আমেরিকাকে কড়া হুমকি দিয়েছে। তাদের দাবি, মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলি সুরক্ষিত রাখতে চাইলে সোমবার বেলা ১২টার মধ্যে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার নিন্দা জানাতে হবে বলে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আইআরজিসি। একই সঙ্গে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এক কিলোমিটারের মধ্যে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধ এখন নতুন দিকে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী শনিবার ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর লোহিত সাগর অঞ্চলেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ভয় দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর পর লোহিত সাগরেও যদি জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হবে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতায় এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীরা একটি বৈঠকে বসেছেন বলে জানা গেছে। কূটনৈতিক পথে এই যুদ্ধের সমাধান মিলবে কিনা, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।



