হামলার বিবরণ
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল হোয়াইট হাউসের শীর্ষ আধিকারিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই হামলার খবর প্রকাশ করেছে। ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পরপর বিস্ফোরণে বিরাট আগুনের গোলা তৈরি হয়েছে। রাতের আকাশ আলোকিত হয়ে উঠেছে সেই ভয়ংকর আগুনে। আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ড। বিস্ফোরণের ধাক্কায় কেঁপে উঠেছে গোটা ইসফাহান শহর।
তেজস্ক্রিয়তার আশঙ্কা
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, পরমাণু স্থাপনায় এই হামলার পর ইসফাহান শহরে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরমাণু কেন্দ্রে বোমা হামলায় তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাসে মিশে যাওয়ার বিপদ থাকে। ইসফাহানের ক্ষয়ক্ষতি এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন
এই হামলা আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ মাত্র কিছুদিন আগেই আমেরিকা ইরানকে যুদ্ধবিরতির ১৫ দফা শর্ত দিয়ে ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করেছিল। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইসফাহানে এই হামলা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। আলোচনার সুর বজায় রেখে একই সময়ে এই ধরনের আক্রমণ শান্তি প্রক্রিয়াকে কার্যত প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্পের নীরবতা ও ভিডিও শেয়ার
হামলার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলেও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি ট্রাম্প। তাঁর এই নীরবতাকেই অনেকে পরোক্ষ স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখছেন। ভিডিও শেয়ার করার মাধ্যমে হামলার বার্তা দিলেও সরাসরি দায় স্বীকার না করার এই কৌশল আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংসের লক্ষ্য
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আমেরিকার পাঠানো ১৫ দফা শর্তের মধ্যে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলি ধ্বংস করার দাবিও ছিল। নাতান্জ়, ইসফাহান ও ফোরডো — তিনটি পরমাণু কেন্দ্র ভেঙে ফেলার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। আলোচনায় সেই শর্ত না মানায় এবার সরাসরি সামরিক পথে ইসফাহান গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই হামলার পর ইরানের পালটা প্রতিক্রিয়া কী হবে তা নিয়েই এখন উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব।



