রবিবার সকালে এই বৈঠক নিয়ে ‘Bad News’ দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance। তিনি জানান, ইরান আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত মানতে রাজি হয়নি, যার ফলেই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।
এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভান্স। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ দূত Steve Witkoff এবং Jared Kushner। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বিদেশমন্ত্রী Abbas Araghchi এবং পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf।
বৈঠকের সময় Trump-কে বারবার ফোন
ভান্স জানান, পুরো বৈঠক চলাকালীন তাঁরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ৬ থেকে ১২ বার ফোনে কথা হয়েছে ট্রাম্পের সঙ্গে। ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ীই প্রস্তাবগুলি ইরানের সামনে রাখা হয়।
কোথায় ভাঙল আলোচনা?
ভান্স স্পষ্ট করে বলেন, মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে Nuclear Issue-কে কেন্দ্র করে।
আমেরিকার দাবি ছিল—
ইরানকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে তারা পরমাণু বোমা তৈরি করবে না
ভবিষ্যতেও Nuclear Weapons তৈরির কোনও পরিকল্পনা থাকবে না
এই বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দিতে হবে
কিন্তু এই শর্তে রাজি হয়নি ইরান। ফলে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
ভান্স বলেন,
“আমরা চেয়েছিলাম একটা clear commitment—ইরান কখনও Nuclear Bomb তৈরি করবে না। কিন্তু সেই নিশ্চয়তা পাইনি।”
আমেরিকার অবস্থান
ভান্স দাবি করেন, আমেরিকা তাদের অবস্থান খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিল এবং প্রয়োজন হলে নমনীয়তাও দেখাতে প্রস্তুত ছিল।
তবুও এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যেখানে ইরান শর্ত মানতে রাজি।
তিনি আরও জানান, বৈঠক চলাকালীন শুধু ট্রাম্পই নন, মার্কিন প্রশাসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।
ইরানের পাল্টা দাবি
অন্যদিকে, ইরান এই ব্যর্থতার দায় চাপিয়েছে আমেরিকার উপর।
তেহরানের দাবি, আমেরিকা অবাস্তব ও অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে, যার ফলে আলোচনা এগোয়নি।
সূত্রের খবর, ইরান বিদেশে আটক থাকা তাদের সম্পদ মুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নীতি পরিবর্তনের মতো বিষয়ও আলোচনায় তুলেছিল। কিন্তু সেগুলিতেও কোনও ঐকমত্য হয়নি।
ভবিষ্যৎ কী?
ভান্স জানিয়েছেন, আপাতত কোনও চুক্তি হয়নি ঠিকই, তবে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে ইরান এই শর্তগুলি মানতে পারে।
সব মিলিয়ে, বহু প্রতীক্ষিত এই US-Iran বৈঠক কোনও সমাধান না এনে বরং নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করল আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে।



