মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আবহ। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পালটা হিসেবে সোমবার ভোর থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে ইজরায়েল। রাজধানী তেহরান, ইসফাহান, তাবরিজ এবং কারাজ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, পশ্চিম ও মধ্য ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলিকেই লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ইরান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার। দক্ষিণ বেইরুটে ইজরায়েলের হামলায় অন্তত দুই জন নিহত এবং ১১ জন আহত হন। ইজরায়েলের দাবি, হেজবোল্লার একটি কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্য করেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। এর জবাবে রাতেই ইরান ইজরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি দেখে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি প্রকাশ্যে জানান, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে পালটা হামলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেবেন। তবে সেই অনুরোধ কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে বড়সড় বিমান হামলা শুরু করে ইজরায়েল।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের সম্ভাব্য উন্নতি নিয়ে নেতানিয়াহুর আপত্তি থাকতে পারে। ফলে সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলেও অনেকে মনে করছেন।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।



