নেতানিয়াহুর হুঙ্কার ও নতুন জোটের ইঙ্গিত
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই এই নতুন জোটের বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হবে। তেহরানের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, ইরানই এই জোটের মূল লক্ষ্যবস্তু। নেতানিয়াহু বলেন, "আমরা ইতোমধ্যেই শত্রুপক্ষের দুটি প্রধান নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি—পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতাকে কঠোরভাবে আঘাত করেছি।" আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই যৌথ সাফল্যই যে নতুন আঞ্চলিক মিত্রদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
আরব আমিরশাহির যুদ্ধের প্রস্তুতি
এই সমীকরণে সবচেয়ে বড় মোড়টি এনেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাতে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে আবু ধাবি। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’র অবরোধ তুলতে আমিরশাহি প্রশাসন আমেরিকাকে সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
আমিরশাহির এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, তাঁরা ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠন করতে চাইছেন যাতে বিশ্ব বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি ইরানের নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখা যায়। যদি আমিরশাহি সত্যিই এই লড়াইয়ে অংশ নেয়, তবে তারাই হবে প্রথম আরব দেশ যারা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি অস্ত্র ধরবে।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও রণকৌশল
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান প্রায়শই এই পথটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামাতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমিরশাহি এই অবরোধ তোলার লড়াইয়ে নামলে তা ইরানের নৌ-শক্তির ওপর বড় চাপ তৈরি করবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই জোটে অন্তর্ভুক্তি তেহরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও একঘরে করে দেবে।
উপসংহার: বদলে যাওয়া মানচিত্র
ইজরায়েলের প্রযুক্তি আর আরব দেশগুলোর কৌশলগত অবস্থান যখন মিলেমিশে এক হচ্ছে, তখন তেহরানের জন্য চাপ যে কয়েকগুণ বাড়বে তাতে সন্দেহ নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ বা আব্রাহাম চুক্তি যে আজ সামরিক জোটের রূপ নিতে চলেছে, মঙ্গলবারের ঘোষণা তারই প্রমাণ। তবে এই জোটে সৌদি আরবের মতো বড় শক্তিগুলো ঠিক কী ভূমিকা নেয়, তার ওপরেই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের আগামীর শান্তি বা বৃহত্তর মহাযুদ্ধের ভবিষ্যৎ।



