Home/Healthcare/নিউটাউনে ২০০০ শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’, ১০০০ বেডে বিনামূল্যে চিকিৎসা
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

নিউটাউনে ২০০০ শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’, ১০০০ বেডে বিনামূল্যে চিকিৎসা

নিউটাউনে তৈরি হতে চলেছে আদানি গোষ্ঠীর ২০০০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’। বৃহস্পতিবার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি-সহ সংস্থার শীর্ষ কর্তারা। প্রস্তাবিত হাসপাতালের ২০০০টি বেডের মধ্যে ১০০০টি আর্থিকভাবে দুর্বল ও দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ক্ষেত্রে বরাদ্দ থাকবে বলে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। বাকি ১০০০টি বেড বাণিজ্যিক পরিষেবার আওতায় থাকবে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 24, 2026
•5 min read•
12
Share:
নিউটাউনে ২০০০ শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’, ১০০০ বেডে বিনামূল্যে চিকিৎসা

নিউটাউনে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড় প্রকল্প

নিউটাউনে প্রস্তাবিত এই হাসপাতালকে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় একটি বড় বেসরকারি বিনিয়োগ প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ নামে হাসপাতালটি আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য তৈরি হবে বলে জানা গিয়েছে।

প্রকল্পটির কথা প্রথম প্রকাশ্যে আসে জুলাইয়ে। তখন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আদানি গোষ্ঠী নিউটাউনে ২০০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল তৈরির জন্য লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই ঘোষণার সময়ই জানানো হয়েছিল, মোট শয্যার অর্ধেক অর্থাৎ ১০০০টি দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য রাখা হবে এবং বাকি ১০০০টি বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হবে।

এর পর জুলাইয়ের মধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, প্রকল্পটি নিয়ে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে ভূমিপুজো বা নির্মাণ শুরুর প্রক্রিয়া এগোতে পারে।

১০০০ বেডে বিনামূল্যে চিকিৎসা

এই হাসপাতালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হতে চলেছে দরিদ্র রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট বেডের ব্যবস্থা।

মোট ২০০০ শয্যার মধ্যে ১০০০টি বেড অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন। বাকি ১০০০টি বেড বাণিজ্যিক পরিষেবার জন্য থাকবে।

তবে বিনামূল্যের চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগী বাছাইয়ের নিয়ম, যোগ্যতার মাপকাঠি, কোন কোন চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হবে এবং কীভাবে রোগীরা পরিষেবা পাবেন—এই বিষয়গুলির বিস্তারিত কাঠামো এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

ফলে প্রকল্পটি চালু হওয়ার পর এই ব্যবস্থাগুলিই সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রকল্পে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা

রাজ্য সরকারের তরফে আগে হাসপাতাল প্রকল্পের কথা জানানো হলেও সেই সময় প্রকল্পের মোট ব্যয় বা বিনিয়োগের বিস্তারিত অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে আজকের অনুষ্ঠানের প্রেক্ষিতে প্রায় ৪০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে এই বিনিয়োগের অঙ্ক এবং প্রকল্পের সম্পূর্ণ আর্থিক কাঠামো নিয়ে আদানি গোষ্ঠীর বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি। তাই প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় নির্মাণ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

এর পাশাপাশি আগামী কয়েক বছরে বাংলায় আদানি গোষ্ঠীর আরও বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও রাজ্য সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে।

গৌতম আদানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানির উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

এর আগে প্রকল্প নিয়ে আলোচনার সময় করণ আদানি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বলে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল। পরে গৌতম আদানির পক্ষ থেকেও প্রকল্পটি শুরু করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিপত্র পাঠানো হয় বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে সেই ঘোষণার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে আরও একটি আনুষ্ঠানিক ধাপ এগোল।

নিউটাউনে বাড়ছে বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো

আদানির হাসপাতাল ছাড়াও নিউটাউনে আরও বড় স্বাস্থ্য প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা শিল্পের সূত্র উদ্ধৃত করে একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, Manipal Healthcare নিউটাউনে প্রায় ৬০০ শয্যার একটি হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা করছে। একইসঙ্গে Apollo-ও কলকাতায় আরও হাসপাতাল তৈরির জন্য জমি খুঁজছে বলে খবর।

ফলে নিউটাউন আগামী দিনে কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। নতুন হাসপাতালগুলির ফলে উন্নত চিকিৎসার পরিকাঠামো এবং হাসপাতালভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

তবে নতুন প্রকল্পগুলির বাস্তব পরিষেবা কতটা দ্রুত শুরু হয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে তার সুবিধা কতটা পৌঁছয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বিনিয়োগের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

বড় হাসপাতাল তৈরি হলে চিকিৎসক ও নার্সের পাশাপাশি টেকনিশিয়ান, প্রশাসনিক কর্মী, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আদানির বাংলায় বৃহত্তর বিনিয়োগ পরিকল্পনার সঙ্গে এই হাসপাতাল প্রকল্পকেও যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, শিল্প ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগের ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

তবে হাসপাতাল নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কর্মসংস্থানের নির্দিষ্ট সংখ্যা বা পরিষেবা চালুর সময়সীমা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।

দরিদ্রদের জন্য পরিষেবা কতটা কার্যকর হবে?

হাসপাতালের ১০০০টি বেড বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য রাখার ঘোষণা নিঃসন্দেহে প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। কিন্তু এই পরিষেবা বাস্তবে কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে এখনও বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে।

কারা ‘দরিদ্র’ হিসেবে বিবেচিত হবেন? তাঁদের জন্য বহির্বিভাগ থেকে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত কোন কোন পরিষেবা বিনামূল্যে থাকবে? ওষুধ, পরীক্ষা এবং অন্যান্য চিকিৎসা খরচও কি এর আওতায় আসবে? রোগী ভর্তি ও রেফার করার প্রক্রিয়া কী হবে?

এই বিষয়গুলির স্পষ্ট নীতিমালা প্রকাশিত হলে সাধারণ মানুষ প্রকল্পটির সুবিধা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাবেন।

শুধু হাসপাতাল নয়, আরও প্রকল্পের পরিকল্পনা

আদানি গোষ্ঠীর বাংলায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হাসপাতালটি একমাত্র প্রকল্প নয়। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, Writers’ Buildings-এর সংস্কার এবং কলকাতার Kumartuli Ghat পুনর্গঠনের মতো প্রকল্পের সঙ্গেও আদানি গোষ্ঠীর নাম যুক্ত হয়েছে।

ফলে বৃহস্পতিবারের হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে বাংলায় আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগ সম্প্রসারণের একটি অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তবে প্রতিটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সময়সীমা এবং বিনিয়োগের পরিমাণ আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব কাজের অগ্রগতি মিলিয়ে দেখাই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সামনে নজর নির্মাণকাজের গতিতে

এখন মূল প্রশ্ন, ২০০০ শয্যার এই হাসপাতাল কবে সম্পূর্ণ হবে এবং কবে থেকে রোগী পরিষেবা শুরু হবে। বৃহস্পতিবারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর নির্মাণকাজের গতি, হাসপাতালের পরিকাঠামো, চিকিৎসা পরিষেবার ধরন এবং বিনামূল্যের ১০০০ বেডের ব্যবস্থাপনা—সবকিছুর দিকেই নজর থাকবে।

বিশেষ করে দরিদ্র রোগীদের জন্য ঘোষিত বিনামূল্যের পরিষেবা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয়, সেটিই প্রকল্পটির সামাজিক প্রভাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হবে।

সব মিলিয়ে, নিউটাউনে ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে ২০০০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পটি ঘোষণার পর্যায় পেরিয়ে বাস্তবায়নের পথে এগোল। ১০০০টি বেড দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে রাখার ঘোষণা এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখন নজর হাসপাতাল নির্মাণের সময়সীমা, পরিষেবা কাঠামো এবং সাধারণ মানুষের জন্য ঘোষিত সুবিধাগুলি বাস্তবে কতটা দ্রুত কার্যকর হয়, সেদিকে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10