১৮টি সংস্থাকে ‘সন্ত্রাসী’ তকমা
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা 'তাসনিম' প্রকাশিত আইআরজিসি-র বিবৃতিতে মেটা, গুগল, আইবিএম, টেসলা, এমনকি এনভিডিয়ার মতো শক্তিশালী সংস্থাগুলোকে ‘সন্ত্রাসী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, এই আইসিটি ও এআই সংস্থাগুলো যুদ্ধের লক্ষ্য নির্ধারণে এবং গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে সরাসরি সাহায্য করছে। তালিকায় আরও রয়েছে বোয়িং, ডেল, ওরাকল, জেপি মরগ্যান এবং জেনারেল ইলেকট্রিকের মতো সংস্থা। স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৮টা থেকে এই সংস্থাগুলোর আঞ্চলিক দফতরে হামলা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে কর্মীদের দ্রুত দফতর ছাড়ার পরামর্শও দিয়েছে ইরান।
কৌশল বদলাচ্ছে ইরান
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের প্রথাগত যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তন করছে। বর্তমান যুগে রণক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মূল চাবিকাঠি হলো ‘ডেটা’ বা তথ্য। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। তেহরান সম্ভবত এই তথ্য সরবরাহের উৎসকেই পঙ্গু করে দিতে চাইছে। অর্থাৎ, সশরীরে যুদ্ধের বদলে তারা এখন ‘ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার’ বা তথ্যযুদ্ধের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।
আমেরিকার পালটা চ্যালেঞ্জ
ইরানের এই হুমকিকে অবশ্য বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ মার্কিন প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, তেহরানের যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় ওয়াশিংটন পুরোপুরি প্রস্তুত। জনৈক মার্কিন আধিকারিক দাবি করেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তির ৯০ শতাংশই ইতোমধ্যেই ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে মার্কিন সংস্থা বা সম্পত্তির ওপর কোনো আঘাত এলে তার ফল হবে ভয়াবহ—এমনই প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে আমেরিকা।
উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে
যদি সত্যিই প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর ওপর কোনো ধরনের হামলা হয়, তবে তার প্রভাব কেবল আমেরিকার ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শেয়ার বাজারে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাইবার হামলা বা আঞ্চলিক দফতরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইরান তাদের শক্তির জানান দিতে চাইছে।
এখন দেখার বিষয়, স্থানীয় সময় রাত ৮টার সেই সময়সীমার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়। তেহরানের এই ‘ডিজিটাল রণকৌশল’ কি কেবল বাগাড়ম্বর, নাকি সত্যিই এক নতুন ধরনের বিশ্বযুদ্ধের সূচনা—সেই উত্তর দেবে সময়।



