ধর্মীয় প্রাঙ্গণের ভিতরেই ভয়াবহ সংঘর্ষে উত্তাল জার্মানির মোয়ার্স শহর। ডুইসবার্গ এলাকার একটি গুরুদ্বারে প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা থেকে শুরু হয় তীব্র হাতাহাতি, যা মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে কয়েকজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এরপর আচমকাই একদল ব্যক্তি পেপার স্প্রে ব্যবহার করে, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তারপর শুরু হয় ধস্তাধস্তি, মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা। সংঘর্ষে ছুরি ও কৃপাণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কিছু প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন, একজন ব্যক্তি পিস্তল বের করে শূন্যে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। যদিও পুলিশ এখনও অস্ত্রটি উদ্ধার করতে পারেনি। ঘটনাস্থল থেকে শেল কেসিং উদ্ধার হয়েছে, যা দেখে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে এটি একটি ব্ল্যাঙ্ক-ফায়ারিং পিস্তল হতে পারে।
সংঘর্ষের সময় গুরুদ্বারের ভিতরে নারী ও শিশুরাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। হঠাৎ এই হামলায় বহু মানুষ আতঙ্কে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। আহতদের অধিকাংশের মাথা ও শরীরে আঘাত লেগেছে, তবে আপাতত কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই সংঘর্ষের নেপথ্যে গুরুদ্বারের নতুন পরিচালন কমিটি নির্বাচন এবং তহবিল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকতে পারে। পুরনো ও নতুন কমিটির সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধই এই হিংসার প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।



