Home/War/ইরান যুদ্ধের আবহে চিন সফরে ট্রাম্প, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তীব্র জল্পনা
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

ইরান যুদ্ধের আবহে চিন সফরে ট্রাম্প, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তীব্র জল্পনা

ইরান সংঘাতের উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেই চিন সফরে রওনা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথম বেজিং সফরে যাচ্ছেন তিনি। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চিনে থাকার কথা ট্রাম্পের। সফরে চিনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, ইরান যুদ্ধ, বাণিজ্য এবং এশিয়ার ভূ-রাজনীতি— একাধিক ইস্যুতে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

May 13, 2026
5 min read
23
Share:
ইরান যুদ্ধের আবহে চিন সফরে ট্রাম্প, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তীব্র জল্পনা

পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় পদক্ষেপ নিল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বুধবার চিনের উদ্দেশে রওনা দিলেন। দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এই প্রথম বেজিং সফরে যাচ্ছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির রাষ্ট্রনেতার এই সাক্ষাৎ ঘিরে কূটনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

প্রথমে গত মার্চ মাসেই ট্রাম্পের চিন সফরের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ইরানকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সেই সফর স্থগিত রাখা হয়। অবশেষে নতুন সূচি অনুযায়ী বুধবার বেজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন ট্রাম্প। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত তাঁর চিনে থাকার কথা। এই সফরে চিনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে।

বেজিংগামী ‘মেরিন ওয়ান’ হেলিকপ্টারে ওঠার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। সেখানে তিনি জানান, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিশেষ করে ইরান সংঘাতের প্রসঙ্গ যে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে, তার ইঙ্গিতও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরান প্রসঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করব। সত্যি বলতে কী, আমার মনে হয় এই পরিস্থিতিতে চিন তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করেছে।”

এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার চিনকে আরও সক্রিয় ভূমিকায় দেখতে চাইছে ওয়াশিংটন। বিশেষত ইরানের সঙ্গে চিনের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণেই পরিস্থিতি সামাল দিতে বেজিংয়ের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। মার্কিন প্রশাসনের একাংশ সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির। এই অবস্থায় ট্রাম্পের চিন সফর আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরের অন্যতম বড় লক্ষ্য হতে পারে ইরান প্রশ্নে চিনকে কূটনৈতিকভাবে পাশে পাওয়া। কারণ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বর্তমানে চিনের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা থেকে শুরু করে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলেও বেজিংয়ের কৌশলগত উপস্থিতি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু ইরান নয়, এই বৈঠকে বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি, শুল্কনীতি এবং তাইওয়ান ইস্যুতেও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে আমেরিকা ও চিনের সম্পর্ক একাধিকবার টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা, চিপ রপ্তানি, দক্ষিণ চিন সাগর এবং তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল।

তবে সম্প্রতি দুই দেশই সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে বলে কূটনৈতিক মহলের দাবি। সেই প্রেক্ষিতেই ট্রাম্প-শি বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন’ বা এপেক শীর্ষ সম্মেলনে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই রাষ্ট্রনেতা। সেই বৈঠকে বাণিজ্য ও কৌশলগত স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে তারপর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে।

বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিও চাপের মুখে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের এই সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা করছেন। বিশেষত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান সংকট এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যের প্রশ্নে চিনের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া এখন আর সম্ভব নয়।

অন্যদিকে চিনও বর্তমানে নিজেদের ‘দায়িত্বশীল বৈশ্বিক শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। সেই কারণেই বেজিং এই বৈঠককে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই বৈঠক শুধু আমেরিকা ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, আগামী দিনে গোটা বিশ্বের কূটনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10