ফের ৭-৮ বছর আগের উত্তেজনাপূর্ণ হরমুজের পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। ইরান ও আমেরিকার সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত ডেডলকে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে অন্তত ২০০-র বেশি জাহাজ নোঙর করে অপেক্ষা করছে, যার মধ্যে বহু তেলবাহী ট্যাঙ্কারও রয়েছে।
আটকে পড়া এক ভারতীয় জাহাজের ফার্স্ট অফিসারের বক্তব্য, বর্তমানে তাঁরা হরমুজ থেকে প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছেন। এর আগে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে থাকলেও নিরাপত্তার কারণে আরও পিছিয়ে আসতে হয়েছে। কারণ, কয়েকদিন আগেই হরমুজ আংশিক খোলার খবর পেয়ে এগোতে যাওয়া দুটি ভারতীয় জাহাজের উপর গুলি চালানোর অভিযোগ সামনে এসেছে।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গেছে। সাধারণত যেখানে প্রতিদিন ১২০-১৩০টির বেশি জাহাজ যাতায়াত করে, সেখানে গত ১২ ঘণ্টায় মাত্র তিনটি জাহাজ চলাচল করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নাবিকদের নিরাপত্তা ও মানসিক চাপ। দিনরাত জলে আটকে থাকা, মাথার উপর দিয়ে মিসাইল বা ফাইটার প্লেন উড়ে যাওয়া, ড্রোন হামলার আশঙ্কা— সব মিলিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বহু জাহাজে এখনও তেল বা গ্যাসোলিন রয়েছে, ফলে সামান্য হামলাতেও বড় বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অচলাবস্থা শুধু সামুদ্রিক পরিবহণ নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ হয়, ফলে তেলের দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
নাবিকদের কথায়, “এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ ক্রুদের মনোবল ধরে রাখা। অনিশ্চয়তা যত বাড়ছে, পরিস্থিতি তত জটিল হচ্ছে।”



