মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলার পর গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার Mojtaba Khamenei। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সময় তাঁর মুখ ও ঠোঁটে মারাত্মক আঘাত লাগে, যার ফলে ত্বক ঝলসে গিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সেই ক্ষত সারাতে প্লাস্টিক সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে। আঘাত এতটাই গুরুতর যে তিনি বর্তমানে স্পষ্টভাবে কথা বলতেও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়াও জানা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের জেরে তাঁর একটি পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা কেটে বাদ দিতে হয়েছে। একাধিকবার অস্ত্রোপচার করেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। ভবিষ্যতে তাঁর চলাফেরার জন্য কৃত্রিম পা বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর একটি হাতেও অস্ত্রোপচার হয়েছে, যদিও সেটি ধীরে ধীরে সেরে উঠছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সুপ্রিম লিডারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখনও পর্যন্ত জনসমক্ষে দেখা যায়নি তাঁকে। তাঁর কোনও সাম্প্রতিক ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি। সূত্রের খবর, তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আপাতত খুব সীমিত পরিসরে, নির্দিষ্ট কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে দেখা করছেন না।
এই হামলায় প্রাণে বেঁচে গেলেও ব্যক্তিগত জীবনে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন মোজতবা। হামলায় তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানের মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে, যা তাঁর মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হওয়া ওই হামলায় প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার Ali Khamenei-র মৃত্যু হয়। সেই হামলাতেই গুরুতরভাবে আহত হন মোজতবা খামেনেই। তারপর থেকেই তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের শারীরিক অবস্থার এমন অনিশ্চয়তা প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



