Home/International/এইচ-১বি ভিসা নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে ধাক্কা, ১ লক্ষ ডলারের ফি বেআইনি ঘোষণা মার্কিন আদালতের
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

এইচ-১বি ভিসা নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে ধাক্কা, ১ লক্ষ ডলারের ফি বেআইনি ঘোষণা মার্কিন আদালতের

বিদেশি দক্ষ কর্মীদের আমেরিকায় নিয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা কড়া শর্তে বড় ধাক্কা দিল মার্কিন আদালত। এইচ-১বি ভিসা আবেদনের জন্য সংস্থাগুলির উপর চাপানো ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন আর্থিক বোঝা চাপানোর অধিকার প্রেসিডেন্টের নেই। এই রায় প্রযুক্তি শিল্প, বহুজাতিক সংস্থা এবং হাজার হাজার বিদেশি পেশাদারের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 9, 2026
5 min read
2
Share:
এইচ-১বি ভিসা নীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে ধাক্কা, ১ লক্ষ ডলারের ফি বেআইনি ঘোষণা মার্কিন আদালতের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির অন্যতম বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল আমেরিকার একটি ফেডারেল আদালত। এইচ-১বি ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় মার্কিন সংস্থাগুলির উপর আরোপ করা ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বস্তি ফিরল বহু সংস্থা ও চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে।

এইচ-১বি ভিসা দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকার প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, গবেষণা এবং প্রকৌশল খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাদাররা এই ভিসার মাধ্যমে আমেরিকায় গিয়ে কাজ করার সুযোগ পান। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে ভারতীয় কর্মীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছিল, কোনও মার্কিন সংস্থা যদি বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে চায়, তাহলে এইচ-১বি ভিসার আবেদনের সময় অতিরিক্ত ১ লক্ষ ডলার জমা দিতে হবে। সরকারের দাবি ছিল, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং বিদেশি কর্মীদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে।

তবে সেই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন শিল্পমহল, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের তরফে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলির পক্ষে বহন করা কঠিন। ফলে দক্ষ কর্মী নিয়োগে সমস্যা তৈরি হবে এবং আমেরিকার প্রযুক্তি শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এরপরই বিষয়টি আদালতের দ্বারস্থ হয়। ম্যাসাচুসেটসের বস্টন শহরের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের হওয়া মামলার শুনানির পর বিচারক লিও সোরোকিন বিস্তারিত রায় দেন। ৪২ পাতার ওই রায়ে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্টের একতরফা সিদ্ধান্তে এমন আর্থিক শর্ত আরোপ করা সাংবিধানিক সীমারেখার বাইরে।

বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কর বা কর-সদৃশ কোনও আর্থিক দায় আরোপ করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। প্রেসিডেন্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ঠিকই, কিন্তু কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নতুন ধরনের ফি বা আর্থিক বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে পারেন না। আদালতের মতে, এইচ-১বি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যে অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তা কার্যত একটি নতুন করের সমতুল্য।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন অভিবাসন আইনের কোথাও প্রেসিডেন্টকে এই ধরনের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। ফলে প্রশাসনের পদক্ষেপ আইনগতভাবে টেকসই নয় এবং তা বাতিলযোগ্য।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রযুক্তি শিল্পে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বহু সংস্থা মনে করছে, আদালতের এই রায়ের ফলে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং গবেষণাভিত্তিক শিল্পে এইচ-১বি কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার বহু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি প্রতিভার উপর নির্ভরশীল। স্থানীয় বাজারে পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মী না পাওয়ার কারণে তারা আন্তর্জাতিক স্তর থেকে বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ করে থাকে। অতিরিক্ত ১ লক্ষ ডলারের ফি কার্যকর থাকলে নিয়োগ ব্যয় অনেক গুণ বৃদ্ধি পেত, যার প্রভাব সরাসরি ব্যবসার উপর পড়ত।

ভারতের ক্ষেত্রেও এই রায়ের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক এইচ-১বি ভিসাধারী ভারতীয় নাগরিক। তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা সংস্থা, স্টার্টআপ এবং বহুজাতিক কর্পোরেশনে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় এই ভিসার মাধ্যমে আমেরিকায় কাজ করেন। ফলে আদালতের এই রায়কে ভারতীয় পেশাদারদের জন্যও স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে। চাকরি, বাণিজ্য এবং অভিবাসন— প্রতিটি ক্ষেত্রেই মার্কিন নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বারবার বলা হয়েছে। এইচ-১বি ভিসার উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সেই বৃহত্তর নীতিরই অংশ ছিল বলে মনে করা হয়।

তবে আদালতের এই রায়ের ফলে প্রশাসনের সেই উদ্যোগে বড় ধাক্কা লাগল। এখন ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চতর আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আপিল আদালত কিংবা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্তও গড়াতে পারে।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ী মহল চাইছে সরকার ও কংগ্রেস মিলে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করুক, যাতে একদিকে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে, অন্যদিকে বিশ্বমানের প্রতিভা আকর্ষণের পথও বন্ধ না হয়। কারণ বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দক্ষ মানবসম্পদই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

সব মিলিয়ে, এইচ-১বি ভিসা ইস্যুতে আদালতের সাম্প্রতিক রায় শুধু অভিবাসন নীতির প্রশ্নেই নয়, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা এবং কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকা সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনে এই বিষয়ে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10