মধ্যপ্রাচ্যের টানাপোড়েনের আবহে বড় কূটনৈতিক মোড়ের সম্ভাবনা। দ্বিতীয় দফার আলোচনার আগে হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সঙ্কেত দিয়েছে ইরান। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক রিপোর্টগুলিতেও বলা হয়েছে, তেহরান ওমানমুখী অংশে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ হামলার পর ‘পাল্টা চাপ’ হিসেবে ইরান হরমুজে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এর ফলে বহু তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব তেল সরবরাহের বড় অংশ এই জলপথের উপর নির্ভরশীল।
এখন কূটনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, দীর্ঘ সংঘাতের ইতি টানতে ইরানও আগ্রহী। সেই কারণেই ওমানের দিকে থাকা অংশে চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে পুরো প্রণালী সম্পূর্ণ মুক্ত হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল— জলপথে আগে পাতা মাইন সরানো হবে কি না, এবং মার্কিন বা ইজরায়েলি জাহাজকে অবাধে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে কি না। এই দুই বিষয়ই দ্বিতীয় দফার বৈঠকে মূল আলোচ্য হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump আগেই জানিয়েছিলেন, হরমুজ দ্রুত খুলে দেওয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য জরুরি। সেই প্রেক্ষিতে ইরানের এই সম্ভাব্য নরম অবস্থানকে অনেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক চাপের ফল বলেই দেখছেন।
এখন নজর দ্বিতীয় দফার বৈঠকের দিকে— সেখানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও হরমুজে স্বাভাবিকতা ফেরানো নিয়ে কোনও রফাসূত্র বেরোয় কি না, সেটাই দেখার।



