ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ় এজেন্সিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তালিকায় উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেতুর নাম রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমেদ আল-সাবা সমুদ্র সেতু, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শেখ জায়েদ, আল মাকতা এবং শেখ খলিফা সেতু। এছাড়া বাহরিন ও সৌদি আরবকে যুক্ত করা কিং ফাহদ কজ়ওয়ে এবং জর্ডনের কিং হুসেন, দামিয়া ও আবদুন সেতুও রয়েছে এই তালিকায়।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ইরানের আলবোর্জ় প্রদেশের কারাজ শহরে অবস্থিত B1 সেতুতে বোমাবর্ষণ চালায় আমেরিকা ও ইজ়রায়েল। এই সেতুটি তেহরান এবং পশ্চিম ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। এখনও নির্মাণাধীন এই সেতুর একটি বড় অংশ হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
এই হামলার পরই প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের অন্যতম বড় সেতুকে সম্পূর্ণভাবে অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যে, ইরানের শক্তিকেন্দ্রগুলিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
তবে এই হুঁশিয়ারির জবাবে ইরান যে পিছু হটার পাত্র নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের তরফে প্রকাশিত তালিকা কার্যত পাল্টা বার্তা—যদি হামলা চলতে থাকে, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও বিপদের মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, B1 সেতুতে হামলায় অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৯৫ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সেতু বা অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি শুধুমাত্র সামরিক সংঘাত নয়, বরং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাকেও বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।
এখন দেখার, এই উত্তেজনা কূটনৈতিক স্তরে থামে, নাকি তা আরও বড় সংঘাতে রূপ নেয়।



