মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিল তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী Abbas Araghchi জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ পর্যন্ত হরমুজ় প্রণালী সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
শুক্রবার এই ঘোষণা সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। এর প্রভাব পড়েছিল বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি Donald Trump ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিলেন। সেই আবহেই হরমুজ় খোলার সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে হরমুজ় খোলার খবর সামনে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্পের পাল্টা মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রথমে তিনি সোশাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে “ধন্যবাদ” জানান। পরে আবার স্পষ্ট করে বলেন, চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকা প্রয়োজন হলে প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে।
এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবহণ হয়। ফলে এই রুটে সামান্য অস্থিরতাও সরাসরি জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।
এদিকে তেহরান সূত্রে খবর, কয়েকটি দেশের জাহাজকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ভারতের পতাকাবাহী কিছু জাহাজও রয়েছে। ফলে ভারতের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে আপাতত বড় কোনও বাধা তৈরি হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে।
এখন নজর আসন্ন শান্তি বৈঠকের দিকে— যুদ্ধবিরতি কি স্থায়ী সমাধানের পথে এগোবে, নাকি ফের সংঘাতের মেঘ ঘনাবে, সেটাই দেখার।



