আমেরিকার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাত মিটিয়ে শান্তিচুক্তির পথে এগোচ্ছে ইরান। এমনই ইঙ্গিত মিলল তেহরানের তরফে। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানিয়েছেন, বর্তমানে যে পর্যায়ে আলোচনা চলছে, তার মূল লক্ষ্যই হল যুদ্ধের অবসান এবং একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছনো।
ইরানের সংবাদসংস্থা ‘তাসনিম’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বলেন, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। তাঁর কথায়, “আলোচনা অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্যেই পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল তেহরানে রয়েছে।”
ইসমাইল জানান, ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবকে ভিত্তি করেই আলোচনা এগোচ্ছে। যদিও তিনি আমেরিকার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতির অভিযোগও তোলেন। তাঁর বক্তব্য, সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব না হলেও কিছু নির্দিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতে সমঝোতার রাস্তা তৈরি হচ্ছে।
তবে হরমুজ় প্রণালী নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। ইসমাইল বলেন, “এই জলপথের সঙ্গে আমেরিকার কোনও সম্পর্ক নেই। উপকূলীয় দেশ হিসাবে আমাদের এবং ওমানের মধ্যে এই বিষয়ে কার্যপ্রণালী ঠিক হওয়া উচিত।” আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে হরমুজ় প্রণালীর গুরুত্ব সম্পর্কে ইরান সম্পূর্ণ সচেতন বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। তাঁর কথায়, শুধু কিছু বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা বাকি রয়েছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চুক্তির পর হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া হবে।
ভারত সফরে এসে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োও রহস্যময় ইঙ্গিত দেন। দিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, “আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গোটা বিশ্ব একটা সুখবর পেতে চলেছে।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর ইঙ্গিত ছিল ইরান-আমেরিকা সমঝোতা নিয়েই।



