তেহরানের সামরিক কমান্ড শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, যতক্ষণ না আমেরিকা ইরানে আসা-যাওয়া করা জাহাজের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করছে, ততক্ষণ হরমুজ় প্রণালী “কঠোর নিয়ন্ত্রণে” থাকবে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুক্রবারের পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত থেকে দ্রুত সরে এল ইরান।
শুক্রবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী Abbas Araghchi জানিয়েছিলেন যে, লেবানন-ইজরায়েল যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সময়ের জন্য হরমুজ় সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খোলা থাকবে। সেই ঘোষণার পরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমতেও শুরু করেছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump পরে স্পষ্ট করে দেন যে, ইরানের বন্দর ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধ “পূর্ণ শক্তিতে” জারি থাকবে যতক্ষণ না একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি হয়।
এই মন্তব্যের পরই ইরান ফের কড়া অবস্থান নেয়। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমেরিকা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং সেই কারণেই আবার প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ জারি করা হচ্ছে।
হরমুজ় প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও LNG এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে নতুন করে অবরোধ জারি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও তেল ও গ্যাসের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারত-সহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলিতে জ্বালানির দাম এবং মুদ্রাস্ফীতির উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
এই নতুন সিদ্ধান্তে আমেরিকা-ইরান দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বৈঠকের আগে দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিল।



