নিশানা তেহরান: আসরে নামল অদৃশ্য ঘাতক বি-৫২
ইরানকে পুরোপুরি ‘ভাতে মারতে’ এবং তাদের সামরিক পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে এবার নিজেদের তুরুপের তাস ব্যবহার করল আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এই প্রথম ইরানের উদ্দেশে পাড়ি জমিয়েছে আমেরিকার বিখ্যাত বি-৫২ (B-52) বোমারু যুদ্ধবিমান। মার্কিন বিমান বাহিনীর জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিমানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি রাডারের নজর এড়াতে সক্ষম। মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং পরমাণু পরিকাঠামো ধ্বংস করতেই এই ‘অদৃশ্য ঘাতক’কে পাঠানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে মানবিক বিপর্যয়
রণক্ষেত্রের ডামাডোলের মাঝে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালীতে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই রুটটি বন্ধ থাকায় প্রায় ৩০০০ জাহাজ মাঝসমুদ্রে আটকে পড়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই জাহাজগুলোতে আটকে আছেন ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ২০ হাজারেরও বেশি নাবিক।
ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (ITF)-এর কাছে পাঠানো আর্তবার্তায় এক নাবিক জানিয়েছেন, "আমরা এখানে মরতে চাই না। আমাদের উদ্ধার করুন।" জাহাজগুলোতে মজুত খাবার এবং পানীয় জল প্রায় শেষ হতে চলেছে। একদিকে মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া মিসাইলের ভয়, অন্যদিকে তিলে তিলে অভুক্ত থেকে মৃত্যুর আতঙ্ক—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ কর্মীরা।
লেবানন সীমান্তে অব্যাহত রক্তপাত
কেবল ইরান নয়, যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে লেবাননের দক্ষিণ প্রান্তেও। ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (IDF) দক্ষিণ লেবাননের একাধিক জায়গায় মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ করছে। পালটা জবাব দিচ্ছে হেজবোল্লা বাহিনীও। আল মনসুরিতে এমনই এক সংঘর্ষে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
উপসংহার
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী আর দুই সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ থামবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ ইরান যেভাবে পালটা প্রতিরোধের ডাক দিচ্ছে এবং আমেরিকা যেভাবে বি-৫২-এর মতো মারণাস্ত্র মোতায়েন করছে, তাতে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। তবে এই শক্তির লড়াইয়ের মাঝে হরমুজে আটকে থাকা ২০ হাজার মানুষের জীবন এখন সুতোর ওপর ঝুলছে। বিশ্ব বাণিজ্য সচল রাখা নাকি সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা—কোনটি এখন অগ্রাধিকার পাবে, তার ওপরই নির্ভর করছে ২০ হাজার নাবিকের ভবিষ্যৎ।



