Home/War/৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল নিয়ে জল্পনার মাঝেই ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, ‘ইরানকে এক পয়সাও দিচ্ছে না আমেরিকা’
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল নিয়ে জল্পনার মাঝেই ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, ‘ইরানকে এক পয়সাও দিচ্ছে না আমেরিকা’

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে যখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের খবর সামনে আসে। তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে কোনও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 16, 2026
5 min read
5
Share:
৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল নিয়ে জল্পনার মাঝেই ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, ‘ইরানকে এক পয়সাও দিচ্ছে না আমেরিকা’

ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের নতুন অধ্যায় নিয়ে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে, তখনই একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হলে ইরানে বিনিয়োগের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয় জোর চর্চা।

কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আমেরিকা ইরানকে কোনও অর্থ দিচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের খবর ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো হচ্ছে এবং এর নেপথ্যে রয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির অপপ্রচার।

সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির পর ইরানে বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশি সংস্থাগুলিকে উৎসাহিত করতে একটি বৃহৎ আর্থিক তহবিল তৈরি করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে সেখানে এটাও উল্লেখ করা হয়, এই অর্থ সরাসরি ইরান সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। বরং যেসব সংস্থা ইরানে শিল্প, অবকাঠামো বা অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তারাই ওই তহবিল থেকে সুবিধা পেতে পারে।

এই প্রতিবেদনের পরই মঙ্গলবার ভারতীয় সময় সকালে প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানকে ৩০ হাজার কোটি ডলার দেওয়ার খবরের কোনও ভিত্তি নেই। তাঁর দাবি, মার্কিন প্রশাসন এমন কোনও পদক্ষেপ করছে না এবং বিষয়টি নিয়ে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।

তবে ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র না রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। যদিও সম্ভাব্য চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

এদিকে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা প্রক্রিয়া চলছে, তা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তাঁর বক্তব্য, ইতিমধ্যেই একটি সমঝোতা স্মারক বা মউ স্বাক্ষরিত হলেও সেটি মূল চুক্তি নয়। বরং এটি ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

ভান্স জানিয়েছেন, দেড় পাতার ওই মউ-তে কোনও বিশদ নীতি বা আর্থিক কাঠামোর উল্লেখ নেই। দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা এখনও চলমান এবং চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই তার মূল বিষয়গুলি প্রকাশ করা হবে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, যদি সরাসরি ইরানকে আর্থিক সহায়তা না-ই দেওয়া হয়, তাহলে বিনিয়োগ তহবিলের ধারণাটি কীভাবে সামনে এল? কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সম্ভাব্য তহবিলটি হয়তো ইরানে বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার একটি অর্থনৈতিক কাঠামো হতে পারে, যা ইরানের সরকার নয়, বরং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য তৈরি করা হবে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প তাঁর পোস্টে বিনিয়োগমুখী তহবিলের বিষয়টি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে এ বিষয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসন সত্যিই এমন কোনও পরিকল্পনা বিবেচনা করছে কি না, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা মেলেনি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, সেখানে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে সম্ভাব্য কোনও বিনিয়োগ কাঠামো নিয়ে আলোচনা হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, অন্তত প্রকাশ্যে তিনি ইরানকে সরাসরি আর্থিক সহায়তার ধারণা থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছেন। রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক—দুই দিক থেকেই এই অবস্থান তাঁর প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন নজর শুক্রবারের দিকে। কারণ, মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, তার আগেই শান্তিচুক্তির খসড়ার মূল বিষয়গুলি প্রকাশ্যে আসতে পারে। সেই নথিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ঠিক কী উল্লেখ থাকে, তার উপরই নির্ভর করবে পশ্চিম এশিয়ার নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10