মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar-এর পদত্যাগের দাবিতে CJP-র বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য জমায়েতের কথা মাথায় রেখে একাধিক এলাকায় বিধিনিষেধ জারি, ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং পরিবহণ ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণের খবর সামনে এসেছে। তবে ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার পদক্ষেপ নিয়ে আপত্তি ওঠায় বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আগাম নোটিশ জমা না পড়া এবং আগের কর্মসূচিতে নির্দেশিকা লঙ্ঘনের অভিযোগকে অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। প্রশাসনের বক্তব্য, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বিক্ষোভের প্রস্তুতি ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েনের পাশাপাশি রেল, মেট্রো এবং ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানা গিয়েছে। ফলে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচির প্রভাব শুধু যন্তর মন্তরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবনেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ
CJP-র কর্মসূচি ঘিরে দিল্লি পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট। অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আয়োজন করা যাবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পুলিশের দাবি, এই ধরনের কর্মসূচির আগে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আগাম নোটিশ জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এবারের কর্মসূচির ক্ষেত্রে সেই নোটিশ পাওয়া যায়নি।
এছাড়া আগের বিক্ষোভের সময় নির্দেশিকা অমান্য করার অভিযোগও তুলেছেন আধিকারিকরা। তাঁদের বক্তব্য, সম্ভাব্য জমায়েতের ফলে যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।
মধ্য দিল্লির একাধিক এলাকায় Bharatiya Nagarik Suraksha Sanhita (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা কার্যকর রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারার অধীনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জরুরি নির্দেশ জারি করা যায়। সেই নির্দেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ।
তবে অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন কি না, এবং প্রশাসনের সঙ্গে তাঁদের কোনও সমঝোতা হয় কি না, তা পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।
জনপথ-কর্তব্যপথ এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ
বিক্ষোভের দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অংশ হিসেবে জনপথ-কর্তব্যপথ ক্রসিংয়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল এবং তাতে সাড়া পাওয়া গিয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ঠিক কোন কোন পরিষেবা ও এলাকায় এই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকলে ওই এলাকার বাসিন্দা, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী এবং যাতায়াতকারী যাত্রীদের অসুবিধা হতে পারে। ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন যোগাযোগ, নেভিগেশন এবং জরুরি তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসনের যুক্তি, নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িক বিধিনিষেধ প্রয়োজন হতে পারে। তবে এই ধরনের পদক্ষেপের পরিধি ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যাতে অপ্রয়োজনীয় সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী
যন্তর মন্তরের কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কোথাও ২৩ হাজার, আবার প্রতিবেদনের অন্য অংশে পুলিশ ও আধাসেনা মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার কর্মী মোতায়েনের দাবি করা হয়েছে। ফলে মোট মোতায়েনের সঠিক সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনে অসংগতি রয়েছে। সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে সেই সংখ্যা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে এমন এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তার কথাও প্রকাশিত খবরে উঠে এসেছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং জনজীবনে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়ানো।
তবে নিরাপত্তার এই ব্যবস্থার ফলে রাজধানীর বিভিন্ন অংশে চলাচল কতটা স্বাভাবিক রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিক্ষোভের স্থানকে কেন্দ্র করে রাস্তা বন্ধ বা যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে তার প্রভাব পড়তে পারে অফিসযাত্রী, ব্যবসায়ী এবং জরুরি প্রয়োজনে বেরনো মানুষের উপর।
ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
বিক্ষোভের জেরে রেল ও মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখার পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে ওঠে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি Surya Kant, বিচারপতি Joymalya Bagchi এবং বিচারপতি V. Mohana-র বেঞ্চের নির্দেশ, ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যাবে না।
প্রতিবেদনে আদালতের পর্যবেক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, “মাছি মারতে কেউ হাতুড়ি চালায় না!” এই মন্তব্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পদক্ষেপ যেন প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কঠোর না হয়, সেই বিষয়টি সামনে এসেছে বলে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। তবে আদালতের নির্দেশের পূর্ণাঙ্গ ভাষা ও প্রেক্ষাপট সরকারি নথি থেকে যাচাই করা জরুরি।
রেল ও মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কর্মস্থলে যাওয়া, চিকিৎসার প্রয়োজনে যাত্রা এবং দূরপাল্লার ট্রেন ধরার ক্ষেত্রে যাত্রীরা বিপাকে পড়তে পারেন। তাই নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা বজায় রেখেও পরিবহণ পরিষেবা চালু রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কলকাতা-দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস বাতিলের খবর
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, New Delhi Railway Station এবং Hazrat Nizamuddin Railway Station-এ ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে একাধিক ট্রেনের উপর প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে কলকাতা থেকে দিল্লিগামী জোড়া Rajdhani Express বাতিল হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কোন তারিখের কোন ট্রেন বাতিল হয়েছে, ট্রেনের নম্বর কী এবং যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি দেখে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে যাত্রীদের যাত্রার আগে রেলের সরকারি তথ্য যাচাই করা উচিত।
রাজধানীতে যাতায়াতের উপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ হলে তার প্রভাব পড়ে বহু রাজ্যের যাত্রীদের উপর। কলকাতা থেকে দিল্লিগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও ট্রেন বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তনের খবর গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা জরুরি কাজ, চিকিৎসা বা পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানের জন্য যাত্রা করছেন, তাঁদের বিকল্প পরিকল্পনা রাখার প্রয়োজন হতে পারে।
মদের দোকানও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে দিল্লির মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবগারি দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, শুক্রবার ও শনিবার দোকান বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি।
প্রশাসনের আশঙ্কা, বিক্ষোভ চলাকালীন উত্তেজনা বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হতে পারে। সেই কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে কোন কোন এলাকায় এই নির্দেশ কার্যকর, সব ধরনের মদের দোকান এর আওতায় রয়েছে কি না এবং নির্দেশের নির্দিষ্ট সময়সীমা কী—এসব বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।
আন্দোলন, জননিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
CJP-র বিক্ষোভকে ঘিরে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং পরিবহণ পরিষেবায় সম্ভাব্য বিঘ্নের ফলে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। একদিকে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। অন্যদিকে, নিরাপত্তার নামে নেওয়া পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাতে অযথা ব্যাহত না হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ, রেল ও মেট্রো চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এবং দোকানপাট বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপের প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের উপর। তাই বিধিনিষেধ কতটা প্রয়োজনীয়, কতক্ষণ তা কার্যকর থাকবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কীভাবে পরিষেবা পুনরায় চালু করা হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য থাকা জরুরি।
সব মিলিয়ে, Gyanesh Kumar-এর পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। তবে ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে না বলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের খবর পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ, আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি এবং রাজধানীর স্বাভাবিক জনজীবন কত দ্রুত ফিরতে পারে, সেদিকে।



