Home/India/টাটা সন্সে ফের চন্দ্রশেখরন, নোয়েল টাটার আপত্তি! চেয়ারম্যান পদে ৫ বছরের মেয়াদে ‘গৃহযুদ্ধ’
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

টাটা সন্সে ফের চন্দ্রশেখরন, নোয়েল টাটার আপত্তি! চেয়ারম্যান পদে ৫ বছরের মেয়াদে ‘গৃহযুদ্ধ’

টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষস্তরে ফের প্রকাশ্যে এল মতবিরোধ। মাত্র এক মাস আগে আর চেয়ারম্যান পদে থাকতে চান না বলে বোর্ডকে জানিয়েছিলেন N Chandrasekaran। কিন্তু বৃহস্পতিবার Tata Sons-এর বোর্ড তাঁকেই আরও পাঁচ বছরের জন্য Executive Chairman পদে পুনর্নিয়োগ করেছে। সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন Tata Trusts-এর চেয়ারম্যান Noel Tata। চারজন পরিচালক প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও নোয়েলের আপত্তিতে নতুন করে তৈরি হয়েছে নেতৃত্ব ও কর্পোরেট গভর্ন্যান্স নিয়ে সংঘাত। একইসঙ্গে Tata Sons-এর সম্ভাব্য listing নিয়েও বোর্ডের সিদ্ধান্তে দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 18, 2026
•5 min read•
48
Share:
টাটা সন্সে ফের চন্দ্রশেখরন, নোয়েল টাটার আপত্তি! চেয়ারম্যান পদে ৫ বছরের মেয়াদে ‘গৃহযুদ্ধ’

এক মাসেই সিদ্ধান্ত বদল চন্দ্রশেখরনের

N Chandrasekaran-এর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। এর আগে ১২ আগস্ট তিনি বোর্ডকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর চেয়ারম্যান পদে পুনর্নিয়োগ চাইবেন না। Tata Trusts-এর বক্তব্য, এটি ছিল তাঁর নিজস্ব এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত, যা Trusts মেনে নিয়েছিল।

কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। Tata Sons-এর Nomination and Remuneration Committee ৩ সেপ্টেম্বর চন্দ্রশেখরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করে এবং তাঁকে পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানায়। শেষ পর্যন্ত ১৭ সেপ্টেম্বরের বোর্ড বৈঠকে তিনি বোর্ডের অনুরোধ মেনে নেন। এরপর ভোটাভুটিতে আরও পাঁচ বছরের জন্য তাঁকে Executive Chairman করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অর্থাৎ, যে চেয়ারম্যান নিজেই কয়েক সপ্তাহ আগে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন, তিনিই এবার নতুন পাঁচ বছরের মেয়াদে Tata Sons-এর নেতৃত্বে থাকার পথে ফিরলেন।

নোয়েল টাটার একমাত্র বিরোধিতা

বোর্ডের ভোটাভুটিতে চারজন পরিচালক চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের পক্ষে ভোট দেন। Noel Tata প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই ভোটের ফল ৪-১ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Noel Tata-র আপত্তির মূল জায়গা শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়। তাঁর বক্তব্য, চন্দ্রশেখরন নিজেই যখন ১২ আগস্ট আর পুনর্নিয়োগ না চাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্ত Tata Trusts গ্রহণ করেছিল, তখন পরে বোর্ডের মাধ্যমে সেটিকে বদলে ফেলার প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়ে।

Tata Trusts-এর প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ওই সিদ্ধান্তটি বোর্ডের কোনও প্রস্তাব বা পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার ফল ছিল না। ফলে পরে পুনর্নিয়োগের উদ্যোগকে Trusts বৈধ বলে মনে করছে না।

‘বেআইনি’ বলছে Tata Trusts

চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে আইনি বৈধতা নিয়ে। Tata Trusts প্রকাশ্যে জানিয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বরের বোর্ড সিদ্ধান্তকে তারা ‘legal nullity’ বা আইনগতভাবে অকার্যকর বলে মনে করছে।

Trusts-এর যুক্তি, Tata Sons-এর Articles of Association-এ চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে Tata Trusts-এর মনোনীত পরিচালকদের ভূমিকা রয়েছে। Noel Tata-র বিরোধী ভোটের কারণে বোর্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত যথেষ্ট কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

অন্যদিকে Tata Sons-এর অবস্থান হল, বোর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে চন্দ্রশেখরনকে পুনর্নিয়োগ করেছে। ফলে দুই পক্ষের আইনি ব্যাখ্যার মধ্যে ফারাক তৈরি হয়েছে।

সংঘাতের কেন্দ্রে Tata Sons-এর listing

চেয়ারম্যান পদ নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি Tata Sons-এর ভবিষ্যৎ listing নিয়েও দুই পক্ষের মতপার্থক্য রয়েছে। RBI সম্প্রতি Tata Sons-এর Core Investment Company বা CIC কাঠামো থেকে স্বেচ্ছায় বেরিয়ে যাওয়ার আবেদন খারিজ করেছে। এর ফলে সংস্থাটিকে RBI-এর নিয়ম অনুযায়ী stock market listing-এর পথে এগোতে হতে পারে।

১৭ সেপ্টেম্বরের বোর্ড বৈঠকে Tata Sons listing-এর প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ফলে চেয়ারম্যান পদে চন্দ্রশেখরনের প্রত্যাবর্তন এবং listing—দুই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত একই বৈঠকে সামনে এসেছে।

এখানেই Tata Trusts এবং Tata Sons-এর মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। Trusts-এর হাতে Tata Sons-এর প্রায় ৬৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। তাই কোম্পানির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে তাদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।

RBI-এর সিদ্ধান্ত কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

Tata Sons দীর্ঘদিন ধরে RBI-এর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে রয়েছে। RBI ২০২২ সালে Tata Sons-কে Upper Layer NBFC হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছিল। পরবর্তী সময়ে সংস্থাটি এই কাঠামো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন করে।

কিন্তু সেপ্টেম্বরের শুরুতে RBI সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। ফলে Tata Sons-এর উপর listing সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক চাপ বহাল থাকে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই সংস্থাটির IPO বা stock market listing নিয়ে আলোচনা নতুন করে জোরদার হয়।

এখন Tata Sons-এর বোর্ড listing-এর দিকে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর পরবর্তী প্রক্রিয়া, সময়সীমা এবং কাঠামো নিয়ে এখনও একাধিক বিষয় পরিষ্কার হওয়া বাকি।

নেতৃত্ব বদলের পরিকল্পনা কোথায় গেল?

চন্দ্রশেখরন আগস্টে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করার পর Tata Sons-এর পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছিল। Tata Trusts-এর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নতুন চেয়ারম্যান বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এগোনোর কথা ছিল।

কিন্তু Nomination and Remuneration Committee তাঁকে পুনরায় বিবেচনা করতে বলার পর সেই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে। শেষ পর্যন্ত চন্দ্রশেখরন বোর্ডের অনুরোধ গ্রহণ করেন এবং পুনর্নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

ফলে নতুন চেয়ারম্যান খোঁজার সম্ভাব্য প্রক্রিয়া আপাতত পিছিয়ে গেল। বরং বর্তমান নেতৃত্বই আরও পাঁচ বছর থাকার প্রস্তাব পেয়েছে।

AGM-এ কী হবে, নজর সেদিকে

বোর্ডের সিদ্ধান্তই শেষ কথা নয়। Tata Sons-এর Annual General Meeting বা AGM-এ এই সিদ্ধান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। Tata Trusts-এর হাতে কোম্পানির প্রায় ৬৬ শতাংশ অংশীদারি থাকায় সেখানে তাদের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অর্থাৎ বোর্ডে চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ অনুমোদিত হলেও পরবর্তী shareholder-level প্রক্রিয়া এবং Tata Trusts-এর অবস্থান গোটা বিষয়টির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এই কারণে আগামী দিনে আইনি ব্যাখ্যা, shareholder approval এবং Tata Sons-এর Articles of Association—তিনটি বিষয়ই নজরে থাকবে।

টাটা গোষ্ঠীর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সংঘাত?

Tata Group ভারতের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী। Tata Sons হল সেই গোষ্ঠীর holding company। ফলে চেয়ারম্যান পদে কে থাকবেন, সংস্থাটি stock market-এ যাবে কি না এবং Tata Trusts-এর সঙ্গে বোর্ডের সম্পর্ক কীভাবে এগোবে—এই সিদ্ধান্তগুলির প্রভাব শুধু একটি কোম্পানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে একইসঙ্গে তিনটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—চন্দ্রশেখরন শেষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের নতুন মেয়াদে দায়িত্ব নিতে পারবেন কি না, Tata Trusts-এর আপত্তি কীভাবে মেটানো হবে এবং RBI-এর listing সংক্রান্ত নির্দেশ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের প্রশ্ন। কারণ, Tata Sons-এর বোর্ড এবং তার সবচেয়ে বড় shareholder Tata Trusts যদি কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভিন্ন অবস্থান নেয়, তাহলে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়েও নতুন করে আলোচনা হতে পারে।

এক মাসের ‘ইউ-টার্ন’-এর আসল কারণ কী?

চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের পেছনে ঠিক কোন কারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। Tata Sons-এর বক্তব্য অনুযায়ী, Nomination and Remuneration Committee তাঁর অবদান এবং গোষ্ঠীর বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিল।

অন্যদিকে, RBI-এর listing সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পর Tata Sons-এর সামনে নতুন regulatory বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। চেয়ারম্যানের ধারাবাহিকতা এবং listing-এর প্রস্তুতি একই সময়ে এগোনোর সিদ্ধান্ত সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কারণকে চন্দ্রশেখরনের প্রত্যাবর্তনের নিশ্চিত কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো প্রকাশ্য প্রমাণ এখনও নেই।

এখন কী হতে পারে?

এই মুহূর্তে Tata Sons-এর সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রথমত, চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের পরবর্তী shareholder-level অনুমোদন। দ্বিতীয়ত, Tata Trusts-এর আইনি আপত্তির ভবিষ্যৎ। তৃতীয়ত, RBI-এর নিয়ম মেনে সম্ভাব্য listing-এর প্রস্তুতি।

একইসঙ্গে Tata Sons-এর বোর্ড এবং Tata Trusts-এর মধ্যে সমন্বয় কীভাবে তৈরি হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চেয়ারম্যান পদ নিয়ে মতপার্থক্য এবং listing নিয়ে ভিন্ন অবস্থান—দুই বিষয় একসঙ্গে চলতে থাকলে সংস্থার ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব পড়তে পারে।

চন্দ্রশেখরনের বর্তমান মেয়াদ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত। তাঁর নতুন পাঁচ বছরের মেয়াদ কার্যকর হওয়ার আগে এই সমস্ত প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলি কী হয়, এখন নজর সেদিকেই।

সব মিলিয়ে, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে Tata Sons-এর নেতৃত্ব নিয়ে পরিস্থিতি আমূল বদলেছে। একদিকে বোর্ড চন্দ্রশেখরনকে আরও পাঁচ বছর রাখতে চাইছে, অন্যদিকে Tata Trusts-এর চেয়ারম্যান Noel Tata সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছেন। সঙ্গে RBI-এর listing সংক্রান্ত চাপ। ফলে Tata Group-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ holding company-কে ঘিরে আগামী কয়েক মাসে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, নেতৃত্ব এবং মালিকানা কাঠামো—তিন ক্ষেত্রেই বড় সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10