Home/Kolkata/তৃণমূলের তহবিল বিতর্কে কালীঘাট শিবিরকে স্বস্তি দিল না হাই কোর্ট, দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

তৃণমূলের তহবিল বিতর্কে কালীঘাট শিবিরকে স্বস্তি দিল না হাই কোর্ট, দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ

তৃণমূল কংগ্রেসের তহবিল ঘিরে চলা আইনি লড়াইয়ে ফের ধাক্কা খেল কালীঘাট শিবির। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং শতকোটি টাকার তহবিল সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্ট খারিজ করে দেয়। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নির্ধারিত তালিকা মেনেই মামলার শুনানি হবে। তবে রাজ্যের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 30, 2026
5 min read
3
Share:
তৃণমূলের তহবিল বিতর্কে কালীঘাট শিবিরকে স্বস্তি দিল না হাই কোর্ট, দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক বিভাজনের পর দলের তহবিল নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা আরও গভীর হল। কলকাতা হাই কোর্ট মঙ্গলবার কালীঘাটপন্থী শিবিরের করা দ্রুত শুনানির আবেদন নাকচ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, মামলাটি নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ীই শুনানি হবে, তা আগে আনা সম্ভব নয়।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি উঠলে আবেদনকারী পক্ষ দ্রুত শুনানির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে। তবে আদালত জানিয়ে দেয়, বিচার প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙে এই মামলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

তৃণমূল কংগ্রেসে বিভাজনের পর থেকেই দলের প্রতীক, সাংগঠনিক অধিকার এবং আর্থিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পৃথক গোষ্ঠী আত্মপ্রকাশ করার পর সেই বিরোধ আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছায়।

দলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলির কাছে আবেদন করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হোক যাতে কোনও পক্ষই একতরফাভাবে অর্থ ব্যবহার করতে না পারে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন স্থগিত করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।

এই অর্থের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবহার এবং বৈধ কর্তৃত্ব নিয়েই বর্তমানে আইনি লড়াই চলছে। আদালতের সামনে মূল প্রশ্ন, কোন পক্ষ প্রকৃতপক্ষে ওই তহবিল পরিচালনার অধিকারী এবং সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অর্থের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।

অন্যদিকে, ঋতব্রতপন্থী শিবিরও আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সমস্ত লেনদেন ও আর্থিক অবস্থার নিরপেক্ষ মূল্যায়নের জন্য বিশেষ অডিটর নিয়োগ করা প্রয়োজন। সেই প্রস্তাবও আইনি আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।

সোমবার মামলার প্রাথমিক শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, এই বিরোধের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় পক্ষকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শুধু আবেদনকারী পক্ষ নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারকেও মামলার পক্ষ হিসেবে যুক্ত করার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি প্রত্যেককে যথাযথ নোটিস পাঠানোর কথাও বলেন আদালত।

এই নির্দেশের পর মঙ্গলবার ফের আবেদন করা হয়, যাতে মামলার দ্রুত শুনানি করে তহবিল সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানো যায়। কিন্তু আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। বিচারপতি জানান, নির্ধারিত বিচার তালিকার বাইরে গিয়ে মামলাটি শোনা হবে না।

যদিও দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ হয়েছে, তবু মামলার অগ্রগতি যাতে বিলম্বিত না হয়, সেই আবেদন জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এই মামলায় সরকারের পক্ষে সওয়াল করছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি আদালতের কাছে অনুরোধ করেন, যদি অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ শুনানি সম্ভব না-ও হয়, তাহলে অন্তত বৃহস্পতিবার মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হোক এবং উভয় পক্ষকে সওয়াল-জবাবের সুযোগ দেওয়া হোক।

আদালত সেই আবেদন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানাবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মামলা কেবল একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নয়, বরং দলীয় সাংগঠনিক কর্তৃত্বের প্রশ্নের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ তহবিলের নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সংগঠন পরিচালনা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

এদিকে দুই শিবিরই নিজেদের অবস্থানে অনড়। কালীঘাটপন্থী নেতৃত্ব দাবি করছে, দলীয় সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী তারাই বৈধ কর্তৃত্ব বহন করছে। অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থী শিবির আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছে।

ফলে আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির। বিশেষ করে তহবিল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য অডিট—এই তিনটি বিষয় আগামী শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10