Home/India/তৃণমূলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ, কংগ্রেসের নিশানায় কমিশন! মমতা শিবিরের পাশে বিরোধী দল
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

তৃণমূলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ, কংগ্রেসের নিশানায় কমিশন! মমতা শিবিরের পাশে বিরোধী দল

উপনির্বাচনের মুখে বড় ধাক্কা তৃণমূলের। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে আপাতত ‘All India Trinamool Congress’ নাম এবং দলের ঐতিহ্যবাহী ‘Flowers & Grass’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর কেউই। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল সিদ্ধান্তটিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে ‘উপহার’ বলে কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে বিজেপি ও সিপিএম কমিশনের সিদ্ধান্তকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 18, 2026
•5 min read•
32
Share:
তৃণমূলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ, কংগ্রেসের নিশানায় কমিশন! মমতা শিবিরের পাশে বিরোধী দল

কেন তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করল কমিশন?

বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন জানায়, তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী নিজেদের আসল দল হিসেবে দাবি করছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির, অন্যদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী। এই পরিস্থিতিতে দলের নাম এবং সংরক্ষিত প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সময় প্রয়োজন বলে কমিশন মনে করেছে।

সেই কারণেই আপাতত দুই পক্ষকেই মূল দলের নাম ও ‘Flowers & Grass’ প্রতীক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কমিশনের এই নির্দেশ আগামী পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনগুলিতে কার্যকর হবে।

কমিশন দুই গোষ্ঠীকেই বিকল্প নাম এবং বিনামূল্যে উপলব্ধ প্রতীকের তালিকা থেকে পছন্দ জানাতে বলেছে। শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে তিনটি করে নাম এবং তিনটি করে প্রতীকের পছন্দ জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর কমিশন প্রতিটি গোষ্ঠীর জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে।

উপনির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে আসন্ন উপনির্বাচনে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই গোষ্ঠীই এবার নিজেদের পরিচিত প্রতীক ছাড়া ভোটের ময়দানে নামবে।

বিশেষ করে ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত এসেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত নাম ও প্রতীকের বদলে দুই পক্ষকে নতুন পরিচয়ে প্রার্থী দিতে হবে।

তবে এটি স্থায়ীভাবে তৃণমূলের নাম বা প্রতীক বাতিল করে দেওয়া নয়। কমিশনের নির্দেশটি অন্তর্বর্তী। দুই পক্ষের সাংগঠনিক দাবিদাওয়া এবং প্রমাণ খতিয়ে দেখে পরবর্তী সময়ে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

কংগ্রেসের তীব্র আপত্তি

কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরই কংগ্রেসের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল সমাজমাধ্যমে কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তের ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি এই সিদ্ধান্তকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে নির্বাচন কমিশনের ‘উপহার’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে শিবসেনা ও এনসিপির দলীয় প্রতীক সংক্রান্ত পুরনো বিতর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে।

তবে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই অবস্থান এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়াকে এক করে দেখা যাচ্ছে না। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, কোনও দলের প্রতীক ফ্রিজ হওয়ার দায় নির্বাচন কমিশনের উপরই বর্তায়। ফলে এই ইস্যুতে কংগ্রেসের অভ্যন্তরেও বক্তব্যের ভিন্নতা রয়েছে।

বিজেপির প্রতিক্রিয়া কী?

অন্যদিকে বিজেপি কমিশনের সিদ্ধান্তকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল হিসেবে দেখিয়েছে। দলের রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে।

বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের বক্তব্য, তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফল হিসেবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দলের প্রতীককে কেন্দ্র করে অতীতে যে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছে, তার পরিণতিতেই এখন প্রতীক ব্যবহারের প্রশ্ন উঠেছে।

এই বক্তব্যগুলি অবশ্য বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের নিজস্ব ব্যাখ্যা হল, দুই গোষ্ঠীই যখন একই দলের নাম ও প্রতীকের দাবি করছে, তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকে সমান অবস্থানে রাখা প্রয়োজন।

সিপিএমের কটাক্ষ

কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সিপিএমও তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণেই এখন দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী দাবি করেছেন, দলটি একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতীক নিয়ে কার দাবি গ্রহণ করা হবে, সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

সিপিএমের সমাজমাধ্যমের পোস্টেও কমিশনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৃণমূলের রাজনৈতিক সংকটের কথা তুলে কটাক্ষ করা হয়েছে।

মমতা শিবিরে জরুরি বৈঠক

কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর পরিস্থিতি নিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তিনি নিজের বাসভবনে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে ডেকে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

এখন মূল প্রশ্ন, নতুন নাম এবং প্রতীক কী হবে। কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পছন্দের নাম ও প্রতীক জানাতে হবে। এরপর উপনির্বাচনে কোন পরিচয়ে মমতা শিবির লড়বে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অন্য গোষ্ঠীকেও একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ফলে দুই পক্ষের সাংগঠনিক পরিচয় এবং নির্বাচনী প্রচারের কৌশল—দুটিই দ্রুত বদলাতে হতে পারে।

২৮ বছরের পরিচয়ে সাময়িক বিরতি

১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। দীর্ঘ সময় ধরে দলের পরিচয়ের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে ‘Flowers & Grass’ প্রতীকটি।

নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে প্রথমবারের মতো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকেই সেই পরিচিত প্রতীক ছাড়া লড়াই করতে হবে। ফলে দলীয় সংগঠন এবং ভোটারদের কাছে প্রতীকের পরিচিতির বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

তবে এই পরিস্থিতি কতদিন থাকবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে তৃণমূলের নাম ও প্রতীকের সাংগঠনিক অধিকার কার হাতে থাকবে।

এখন নজর কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তে

এই মুহূর্তে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—দুই গোষ্ঠী কোন বিকল্প নাম চায়, কোন প্রতীক পছন্দ করে এবং কমিশন তাদের কী বরাদ্দ করে।

তার পাশাপাশি মূল দলীয় নাম ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ বর্তমান নির্দেশটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নয়; এটি মূলত চলতি উপনির্বাচনের আগে দুই পক্ষকে আলাদা পরিচয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।

কংগ্রেসের আপত্তি, বিজেপি ও সিপিএমের রাজনৈতিক কটাক্ষ এবং তৃণমূলের দুই শিবিরের পাল্টাপাল্টি দাবি—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র। তবে শেষ পর্যন্ত কোন গোষ্ঠী ‘All India Trinamool Congress’ নাম ও ‘Flowers & Grass’ প্রতীকের অধিকার পাবে, তার উত্তর মিলবে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10