Home/Kolkata/তৃণমূলের ৩ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘তালা’, ৪৪০ কোটি টাকার লেনদেন স্থগিত; অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসল পুলিশ
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

তৃণমূলের ৩ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘তালা’, ৪৪০ কোটি টাকার লেনদেন স্থগিত; অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসল পুলিশ

রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের আর্থিক কাঠামোয় বড় ধাক্কা। অভিযোগের ভিত্তিতে দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে। ‘ঋতপন্থী’ তৃণমূল বিধায়কদের অভিযোগের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সক্রিয় হয় পুলিশ ও সাইবার সেল। আপাতত এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে কোনও অর্থ তোলা বা লেনদেন করা যাবে না, যা দলীয় কর্মকাণ্ডে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 20, 2026
5 min read
0
Share:
তৃণমূলের ৩ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘তালা’, ৪৪০ কোটি টাকার লেনদেন স্থগিত; অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসল পুলিশ

৪৪০ কোটি টাকার তহবিল ঘিরে বিতর্ক, তৃণমূলের তিন অ্যাকাউন্টে আপাতত বন্ধ লেনদেন

রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মাঝেই সামনে এল নতুন বিতর্ক। দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সাময়িকভাবে লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা জমা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন ‘ঋতপন্থী’ হিসেবে পরিচিত তৃণমূলের ১০ জন বিধায়ক। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি সাইবার সেলের নজরে আসে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ রাজ্য পুলিশের সাইবার সেলকে চিঠি পাঠিয়ে অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এর ফলে আপাতত ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে কোনও অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা অন্য ধরনের আর্থিক লেনদেন করা সম্ভব হবে না। যদিও এই সিদ্ধান্ত সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই বিতর্কের সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ দাবি করে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দলের মধ্যে বর্তমানে যে অস্থিরতা ও বিরোধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে তহবিলের অপব্যবহারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেই কারণেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অ্যাকাউন্টগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা প্রয়োজন।

অরূপের এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছিলেন বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওই তহবিলে থাকা অর্থের উৎস কী এবং সেখানে কোনও বেআইনি অর্থ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর দাবি ছিল, গোটা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

এর পরেই ‘ঋতপন্থী’ বিধায়করা পুলিশের দ্বারস্থ হন। তাঁদের দাবি ছিল, দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের আবহে এই অ্যাকাউন্টগুলিতে লেনদেন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আইনি ও আর্থিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টগুলিকে স্থগিত রাখাই শ্রেয়।

অন্যদিকে, তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্ব অরূপ বিশ্বাসের দাবিকে মানতে নারাজ। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৫ জুন শুভাশিস চক্রবর্তীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। সেই তথ্য ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ফলে অরূপ বিশ্বাস কোন ক্ষমতাবলে নিজেকে কোষাধ্যক্ষ দাবি করছেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে দলের বর্তমান নেতৃত্ব।

তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন স্থগিত হওয়ার খবর তাঁদের কাছেও পৌঁছেছে এবং দল বিষয়টির উপর নিবিড় নজর রাখছে। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি অবশ্যই কিছু প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক সমস্যার সৃষ্টি করবে, কারণ রাজনৈতিক দল পরিচালনার জন্য নিয়মিত অর্থের প্রয়োজন হয়। তবে প্রয়োজন হলে বিকল্প অর্থের উৎস খোঁজা হবে এবং আইনি পথেও এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে।

এদিকে বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন। ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অ্যাকাউন্টগুলিতে লেনদেন হওয়া উচিত নয়। তাঁর দাবি, তহবিলের অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে জমা হয়েছে এবং সেই অর্থ ব্যবহারের অধিকার কার রয়েছে— সব কিছুই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি শুধু আর্থিক নয়, এর গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক ও পরিষদীয় কাঠামোয় টানা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিধানসভায় দলের পরিষদীয় কাঠামোয় ভাঙন দেখা দিয়েছে। সংসদীয় দল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে দলের প্রতীক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।

এই আবহে দলের তহবিল সংক্রান্ত জটিলতা আরও বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ রাজনৈতিক সংগঠন পরিচালনা, সাংগঠনিক কর্মসূচি, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য দলীয় তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, দলের ভেতরে চলতে থাকা ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অ্যাকাউন্টগুলিতে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল কিছুটা চাপে পড়তে পারে।

তবে দলীয় নেতৃত্ব এখনও আশাবাদী যে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব হবে। আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

সব মিলিয়ে, তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৪৪০ কোটি টাকা আটকে যাওয়ার ঘটনাকে তৃণমূলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলেই মনে করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের অবস্থান আগামী দিনে এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10