Home/Kolkata/তিনবার নোটিস এড়িয়ে অবশেষে থানায় অরূপ, ‘মেসি কাণ্ডে’ জেরার মুখে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

তিনবার নোটিস এড়িয়ে অবশেষে থানায় অরূপ, ‘মেসি কাণ্ডে’ জেরার মুখে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী

দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজির হলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। ‘মেসি কাণ্ডে’ পুলিশি তদন্তে টানা তিনবার অনুপস্থিত থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে থানায় পৌঁছন তিনি। আগে থেকেই তাঁর হাজিরার সম্ভাবনার ইঙ্গিত থাকায় থানার বাইরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মেসির ভারত সফরকে ঘিরে টিকিট বণ্টন, নিরাপত্তা বিধি ভঙ্গ এবং একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার সরাসরি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হলেন তৃণমূলের এই বর্ষীয়ান নেতা।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 18, 2026
5 min read
0
Share:
তিনবার নোটিস এড়িয়ে অবশেষে থানায় অরূপ, ‘মেসি কাণ্ডে’ জেরার মুখে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী

অবশেষে প্রকাশ্যে এলেন অরূপ বিশ্বাস। কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং আইনি টানাপোড়েনের মাঝে বৃহস্পতিবার সকালে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পৌঁছন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। সকাল প্রায় ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ তাঁর গাড়ি থানার সামনে পৌঁছতেই নিরাপত্তার বলয় আরও জোরদার করা হয়।

‘মেসি কাণ্ডে’ পুলিশের তরফে তাঁকে একাধিকবার তলব করা হয়েছিল। তবে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয়— তিনটি নোটিসই কার্যত উপেক্ষা করেন তিনি। বারবার অনুপস্থিতির কারণে তদন্তের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

যদিও এরই মধ্যে কলকাতা হাই কোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পেয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। আদালত জানিয়েছে, আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। তবে সেই সুরক্ষার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে— তদন্তে তাঁকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। সেই প্রেক্ষিতেই এদিন থানায় হাজিরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তদন্তের সূত্রপাত গত বছরের ডিসেম্বর থেকে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ভারত সফরকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনেন সফরের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। তাঁর অভিযোগ, মেসির সফর উপলক্ষে প্রায় ৭০ হাজার টিকিট ছাপানো হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২২ হাজার টিকিট নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তা অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতেই উঠে আসে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নাম।

শুধু টিকিট বণ্টন নয়, আরও গুরুতর অভিযোগ ওঠে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে। শতদ্রুর দাবি, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা প্রোটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা মেসির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির জন্য অরূপ বিশ্বাসকে একাধিকবার ডেকে পাঠানো হলেও তিনি হাজির হননি। ফলে তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। কোথায় রয়েছেন তিনি, কেন তদন্তকারীদের সামনে আসছেন না— এসব নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় জোর চর্চা।

বুধবার রাতেই শতদ্রু দত্ত সামাজিক মাধ্যমে ইঙ্গিত দেন যে, পরদিন প্রাক্তন মন্ত্রী তদন্তকারীদের সামনে হাজির হতে পারেন। সেই বার্তার পর থেকেই বিধাননগর দক্ষিণ থানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার কড়া বলয়ের মধ্যেই এদিন থানায় প্রবেশ করেন অরূপ বিশ্বাস।

এদিকে, এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে মেসির নিজস্ব ম্যানেজমেন্ট টিমের অভিযোগ। সম্প্রতি কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা ত্রুটির কথা তুলে ধরে। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মেসির মাঠে উপস্থিতির সময় একটি নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নীতি কার্যকর ছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের ভেতরে কোনও ভিআইপি, বিশেষ অতিথি বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রবেশের অনুমতি ছিল না। কেবলমাত্র সীমিত সংখ্যক অনুমোদিত কর্মী এবং ক্যামেরা অপারেটরদের থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

মেসির ম্যানেজমেন্ট টিমের অভিযোগ, সেই নিয়ম ভেঙেই তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। শুধু প্রবেশই নয়, নির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে গিয়ে তিনি একাধিকবার মেসির কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমনকি ছবি তোলার সময় অপ্রয়োজনীয় শারীরিক সংস্পর্শের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।

এই অভিযোগগুলি কতটা সত্য, তা অবশ্য তদন্ত সাপেক্ষ। পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি। তবে তদন্তকারীরা টিকিট বণ্টন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং সফরের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে সূত্রের খবর।

অন্যদিকে, অরূপ বিশ্বাসের সমর্থকদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁরা মনে করছেন, আদালতের দেওয়া সুরক্ষাই প্রমাণ করে যে, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনবার গরহাজিরার পর অবশেষে থানায় হাজির হওয়া তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। কারণ, এতদিন যে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন তদন্তকারীরা, এবার সরাসরি প্রাক্তন মন্ত্রীর বক্তব্য শোনার সুযোগ মিলবে।

এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য উঠে আসে, তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং ‘মেসি কাণ্ডে’ আর কারও নাম সামনে আসে কি না, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক ও ক্রীড়ামহল। আপাতত একটাই স্পষ্ট— দীর্ঘ নীরবতার পর অবশেষে তদন্তের কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

Tags:Kolkata
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10