Home/Kolkata/তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়ে শোকের ছায়া, একে একে নিভছে বিহারের শ্রমিক পরিবারের জীবনপ্রদীপ
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়ে শোকের ছায়া, একে একে নিভছে বিহারের শ্রমিক পরিবারের জীবনপ্রদীপ

কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর উদ্ধারকাজ চলছেই। ধ্বংসস্তূপ সরাতে গিয়ে একের পর এক দেহ উদ্ধার হচ্ছে, আর প্রতিটি সন্ধানই বাড়াচ্ছে শোকের গভীরতা। বিহার থেকে কাজের খোঁজে আসা একই পরিবারের ছয় সদস্যের মধ্যে তিন ভাইয়ের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই শেষ দেহ শনাক্ত হয়। ঘটনায় ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭, আতঙ্ক ও শোক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 27, 2026
5 min read
0
Share:
তারাতলা গোডাউন বিপর্যয়ে শোকের ছায়া, একে একে নিভছে বিহারের শ্রমিক পরিবারের জীবনপ্রদীপ

তারাতলার নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক গোডাউন ধসের ভয়াবহ ঘটনায় ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে এক হৃদয়বিদারক মানবিক ট্র্যাজেডি। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বিহার থেকে জীবিকার খোঁজে আসা এক পরিবারের তিন ভাই। প্রথমে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছিল ঘটনাস্থলেই। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। অবশেষে ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধার করা হয় তৃতীয় ভাইয়ের নিথর দেহ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিহারের মুঙ্গের জেলা থেকে মোট ছয়জন সদস্য একসঙ্গে কলকাতায় কাজ করতে এসেছিলেন। জীবিকার তাগিদে নির্মাণকাজে যুক্ত হন তারা। কিন্তু হঠাৎই তারাতলার ওই নির্মীয়মাণ কাঠামো ভেঙে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু শেষ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় দুপুরের ব্যস্ত কর্মঘণ্টা চলছিল, আর সেই সময়ই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বিশাল গোডাউন কাঠামো।

ঘটনার দিনই ঘি কুমার নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। এরপর বুধবার রাতে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর ভাই মন্নু কুমারের। কিন্তু পরিবারের তৃতীয় সদস্য শিরচাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। উদ্ধারকারী দল, দমকল, এনডিআরএফ এবং সেনা যৌথভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যায়, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

পরিবারের সদস্যদের আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছিল, তবুও উদ্ধারকাজ থামেনি। অবশেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ধ্বংসস্তূপের একটি গভীর অংশ থেকে শিরচাঁদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু তাঁর শরীর এতটাই ক্ষতবিক্ষত ছিল যে সরাসরি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁর মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়, যা থেকেই নিশ্চিত করা যায় তাঁর পরিচয়।

এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং এক অভিবাসী শ্রমিক পরিবারের সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার গল্প। একসঙ্গে কাজ করতে আসা ছয়জনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে, আর বাকি তিনজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকরা কিছুটা স্থিতিশীলতার কথা বললেও আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।

স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকাজ এখনো শেষ হয়নি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, নির্মাণকাজে নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে মানা হয়নি, যার ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নির্মাণকাজ চলাকালীন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না বলে তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। কিন্তু সেই অভিযোগ সত্ত্বেও কাজ চলছিল। এখন এই দুর্ঘটনার পর সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে—কার গাফিলতিতে এই প্রাণহানি?

অন্যদিকে, মৃত শ্রমিকদের পরিবারগুলির আর্তনাদ পরিস্থিতিকে আরও ভারী করে তুলেছে। বিহারের গ্রামে খবর পৌঁছাতেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারগুলির একমাত্র আয়ের উৎস ছিল এই শ্রমিকরা। তাঁদের মৃত্যুতে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্বজনরা।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি দরকার। নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

উদ্ধারকাজে যুক্ত এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ অত্যন্ত জটিল অবস্থায় রয়েছে। ভারী যন্ত্র ব্যবহার করেও ধীরে ধীরে কাজ করতে হচ্ছে, যাতে অন্য কোনো অংশ আবার ভেঙে না পড়ে। সেই কারণে উদ্ধারকাজ সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠছে।

এই বিপর্যয় আবারও শহরের দ্রুত নগরায়ন ও নির্মাণখাতে নিরাপত্তার অভাবকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ইঞ্জিনিয়ারিং পরিকল্পনা ও নিয়মিত পরিদর্শন না থাকলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।

তারাতলার এই ঘটনা এখন শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং শ্রমিক নিরাপত্তা, নির্মাণ নীতি ও প্রশাসনিক নজরদারির ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। একদিকে চলমান উদ্ধারকাজ, অন্যদিকে শোকস্তব্ধ পরিবার—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো গভীরভাবে উদ্বেগজনক।

Tags:Kolkata
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10