তামান্না হত্যা মামলায় পুলিশের তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে তদন্তকারী দল। নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে হরিয়ানা থেকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবার মিলিয়ে অভিযানে জিয়ারুল শেখ, সাবির শেখ, ফকর শেখ ওরফে ইসমাইল শেখ, হাফিজুল শেখ এবং মিনারুল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মিনারুল শেখকে গুরগাঁও থেকে পাকড়াও করা হয়। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে ট্রানজিট রিমান্ডে রাজ্যে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নতুন করে পাঁচজন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তামান্না হত্যা মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু গ্রেপ্তার নয়, ঘটনার নেপথ্যে থাকা সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজও চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার বিধানসভায় তামান্না হত্যা প্রসঙ্গ তুলে সরকারে অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, নিহত কিশোরীর পরিবার ন্যায়বিচার পাবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও আপসের নীতি নেবে না। অতীতে রামপুরহাট, হাঁসখালি, কসবা ল কলেজ, কামদুনি এবং ধূপগুড়ির মতো ঘটনার ক্ষেত্রেও সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তামান্না হত্যা মামলায় দ্রুত পদক্ষেপের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। অপরাধীর পরিচয়, রাজনৈতিক সম্পর্ক বা সামাজিক অবস্থান কোনওভাবেই বিচারের পথে বাধা হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধ করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তামান্না হত্যা মামলাতেও একই নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে, তদন্তকারীরা মনে করছেন, মামলার সঙ্গে আরও কয়েকজনের যোগ থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পুরো চিত্র পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঘটনার আগে ও পরে অভিযুক্তদের গতিবিধি, যোগাযোগ এবং ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে চাইছে না। তবে আধিকারিকদের দাবি, প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।
তামান্না হত্যা মামলা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং একের পর এক গ্রেপ্তার সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরির চেষ্টা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। এখন নজর রয়েছে, ধৃতদের জেরা করে আর কারও নাম উঠে আসে কি না এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়।



