Home/India/সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি নেই মমতার তৃণমূলের, ফ্রিজই ৪ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট—আদালতের হস্তক্ষেপে না
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি নেই মমতার তৃণমূলের, ফ্রিজই ৪ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট—আদালতের হস্তক্ষেপে না

প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা থাকা চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই আবেদনে হস্তক্ষেপ করল না শীর্ষ আদালত। ফলে কলকাতা হাই কোর্টের আগের নির্দেশই বহাল থাকল এবং চারটি অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি লেনদেন আপাতত বন্ধই থাকছে। তবে দলীয় দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য আগে থেকে থাকা বিশেষ ব্যবস্থাটি কার্যকর রয়েছে। একইসঙ্গে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটও মামলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Oct 1, 2026
•5 min read•
37
Share:
সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি নেই মমতার তৃণমূলের, ফ্রিজই ৪ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট—আদালতের হস্তক্ষেপে না

চার অ্যাকাউন্ট নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ব্যবহার নিয়ে আইনি লড়াই নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এই চারটি অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছিল।

অ্যাকাউন্টগুলি রাষ্ট্রায়ত্ত বা সরকারি মালিকানাধীন ব্যাঙ্কে রয়েছে। সেগুলির উপর debit freeze আরোপের পর মমতা-শিবিরের তৃণমূল কলকাতা হাই কোর্টে যায়। কিন্তু হাই কোর্ট ওই চারটি অ্যাকাউন্ট সরাসরি পরিচালনার অনুমতি দেয়নি।

এরপর সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় দলটি। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালত হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করেনি।

কেন ফ্রিজ করা হয়েছিল অ্যাকাউন্ট?

এই মামলার সূত্রপাত একটি ফৌজদারি অভিযোগ এবং তার ভিত্তিতে তদন্তকে কেন্দ্র করে। চারটি অ্যাকাউন্ট West Bengal Police-এর মাধ্যমে debit-freeze করা হয়েছিল বলে আদালতের আগের শুনানিতে উঠে এসেছে।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট FIR নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। দলের বক্তব্য ছিল, অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনা করতে না পারলে রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হবে।

অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফৌজদারি মামলার তদন্ত আইন মেনেই এগোচ্ছে এবং তদন্তকারী সংস্থাকে তার কাজ করতে দেওয়া প্রয়োজন।

এই আইনি অবস্থানের মধ্যেই চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে মমতা-শিবির আদালতের দ্বারস্থ হয়।

প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা, কেন চাইছে তৃণমূল অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি?

তৃণমূলের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, রাজনৈতিক দলের নিয়মিত কাজ চালাতে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। দলের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মীদের বেতন, অফিসের খরচ, আইনজীবীদের পারিশ্রমিক এবং অন্যান্য সাংগঠনিক ব্যয় মেটাতে নিয়মিত অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।

এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট তিনটি অন্য debit-frozen অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। অবসরপ্রাপ্ত হাই কোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে Special Officer হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

সেই ব্যবস্থায় তৃণমূলের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীরা নির্দিষ্ট খরচের জন্য চেক জমা দিতে পারেন এবং Special Officer খরচ যাচাই করার পর অর্থ ছাড়ার প্রক্রিয়া এগোয়।

তবে মমতা-শিবিরের বক্তব্য, এই ব্যবস্থায় সব ধরনের দলীয় খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সভা, প্রচার এবং অন্যান্য সাংগঠনিক প্রয়োজনের জন্য আরও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।

হাই কোর্ট কেন চার অ্যাকাউন্ট খুলতে দেয়নি?

আগস্টে কলকাতা হাই কোর্ট চারটি অ্যাকাউন্ট সরাসরি পরিচালনার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, আগের নির্দেশে দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য যে ব্যবস্থা করা হয়েছে, তার বাইরে আবার চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দিলে আগের ব্যবস্থাই কার্যত অর্থহীন হয়ে যেতে পারে।

এই চারটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ₹৮০৪ কোটি টাকা রয়েছে বলে তৃণমূলের আইনজীবী জানিয়েছিলেন। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, রাজনৈতিক দলের দৈনন্দিন অস্তিত্ব এবং প্রয়োজনীয় খরচের জন্য ইতিমধ্যেই একটি ব্যবস্থা রয়েছে।

তাই চারটি অ্যাকাউন্টের উপর থেকে সম্পূর্ণ debit freeze তুলে দেওয়ার মতো কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

হাই কোর্ট একইসঙ্গে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা বিরোধের বিষয়টিও সামনে এনেছিল। কোন গোষ্ঠী তৃণমূলের নাম, প্রতীক এবং সম্পদের উপর অধিকার রাখবে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ বলে আদালত উল্লেখ করেছিল।

সুপ্রিম কোর্টে কী যুক্তি দিল তৃণমূল?

বৃহস্পতিবারের শুনানিতে তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী মুকুল রোহতগি নয়, সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল/মনু সিংভির নেতৃত্বে আইনি যুক্তি তুলে ধরা হয়—এমন বিভিন্ন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। আপনার দেওয়া কপিতে মনু সিংভির বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়, দলের মাসিক খরচ প্রায় ১২ কোটি টাকা। সামনে উপনির্বাচন থাকায় দলীয় কার্যক্রম চালাতে দ্রুত অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি প্রয়োজন।

এই যুক্তির মূল বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে আর্থিকভাবে অচল না হয়ে যায়, সে জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

তবে আদালত শেষ পর্যন্ত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। এর ফলে চারটি অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে আগের freeze-ই বহাল থাকল।

রাজ্যের পালটা যুক্তি কী?

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই আবেদনের বিরোধিতা করা হয়। সরকারের যুক্তি, অ্যাকাউন্টগুলিকে ঘিরে যে ফৌজদারি তদন্ত চলছে, তা চলতে দেওয়া প্রয়োজন।

তদন্তের মধ্যে আদালত সরাসরি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দিলে তদন্তের উপর প্রভাব পড়তে পারে—এমন যুক্তিও সামনে এসেছে।

আগের শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছিল, তৃণমূলের কিছু অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং তদন্তে বিভিন্ন অর্থের গতিপথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ

এই মামলার সঙ্গে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধও জড়িয়ে রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধ চলছে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের নাম ও প্রচলিত প্রতীক নিয়ে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সেই সিদ্ধান্তের পর কোন গোষ্ঠী দলীয় সম্পদ ও অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অধিকার পাবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আজকের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এই বৃহত্তর বিরোধের প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। আদালত সরাসরি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অনুমতি না দিয়ে বিদ্যমান আইনি কাঠামোকেই বজায় রেখেছে।

নির্বাচন কমিশনের কাছে দুই পক্ষের দাবি ও পালটা দাবির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দলীয় সম্পদ ব্যবহারের প্রশ্নটিও জটিল থাকবে।

আগের তিন অ্যাকাউন্টে কী ব্যবস্থা রয়েছে?

চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহারের অনুমতি না মিললেও মমতা-শিবিরের তৃণমূল পুরোপুরি অর্থহীন অবস্থায় নেই।

আগের একটি মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট তিনটি অন্য debit-frozen অ্যাকাউন্ট থেকে দলের দৈনন্দিন খরচ মেটানোর জন্য Special Officer নিয়োগ করেছিল। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মীদের বেতন, কিছু অফিসের ভাড়া এবং প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন খরচ মেটানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা সুপ্রিম কোর্টও বহাল রেখেছিল। ফলে চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে না পারলেও নির্দিষ্ট শর্তের মধ্যে দলীয় দৈনন্দিন খরচ চালানোর একটি আইনি পথ এখনও রয়েছে।

সামনে উপনির্বাচন, আর্থিক লড়াইটিও গুরুত্বপূর্ণ

পশ্চিমবঙ্গে সামনে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলির জন্য সাংগঠনিক কার্যক্রম, প্রচার এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে বড় অঙ্কের অর্থ থাকা চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে না পারা মমতা-শিবিরের জন্য একটি প্রশাসনিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা তৈরি করছে—এমনটাই দলের বক্তব্য।

তবে আদালতের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী সক্ষমতা সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা যায় না। এটি মূলত নির্দিষ্ট চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অনুমতি সংক্রান্ত আইনি সিদ্ধান্ত।

অ্যাকাউন্টগুলির বিষয়ে তদন্ত এবং দলীয় নাম-প্রতীক সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়া—দুই বিষয়ই এখন পরবর্তী আইনি গতিপথ নির্ধারণ করবে।

এখন কী হবে?

সুপ্রিম কোর্ট চারটি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অনুমতি না দেওয়ায় আপাতত সেগুলি debit-frozen অবস্থাতেই থাকবে। তবে মূল আইনি বিরোধের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।

কলকাতা হাই কোর্টে চারটি অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলাটি পরবর্তী সময়ে ফের শুনানি হবে। একইসঙ্গে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তদন্তে অ্যাকাউন্টগুলির আর্থিক লেনদেন নিয়ে কী তথ্য সামনে আসে, সেটিও মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের চারটি বড় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের আবেদন আপাতত খারিজ হয়েছে। প্রায় ₹৮০৪ কোটি থাকা অ্যাকাউন্টগুলির উপর debit freeze বহাল রয়েছে। তবে দলীয় দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য আগে থেকে থাকা Special Officer-এর ব্যবস্থাটি কার্যকর। এখন নজর কলকাতা হাই কোর্টের পরবর্তী শুনানি এবং নির্বাচন কমিশনের দলীয় নাম-প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10