রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে শহর থেকে গ্রাম কিংবা দীর্ঘ দূরত্বের সরকারি বাস পরিষেবাতেও কোনও ভাড়া দিতে হচ্ছে না মহিলা যাত্রীদের। বর্তমানে বাসে ওঠার সময় তাঁদের জিরো-ভ্যালু টিকিট দেওয়া হচ্ছে। তবে এই ব্যবস্থা অস্থায়ী। ভবিষ্যতে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা পেতে প্রত্যেক যোগ্য মহিলা যাত্রীর কাছে ‘পিংক কার্ড’ থাকা বাধ্যতামূলক হবে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং পরিষেবার স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার তৈরি হওয়ায় সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থার পরিচালনাও আরও কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনলাইনে আবেদন করবেন যেভাবে
পিংক কার্ডের জন্য ঘরে বসেই আবেদন করা যাবে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্ধারিত সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে পিংক কার্ড সংক্রান্ত নির্দিষ্ট লিঙ্কে ক্লিক করার পর নতুন আবেদনকারীদের মোবাইল নম্বর ও নাম দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
নিবন্ধনের পর আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। এরপর চাওয়া নথিগুলির স্ক্যান কপি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে আপলোড করতে হবে। সমস্ত তথ্য যাচাই করে আবেদনপত্র জমা দিলে একটি অ্যাকনলেজমেন্ট বা রিসিট তৈরি হবে। ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে সেই রিসিট সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবেদন করতে যে নথিগুলি প্রয়োজন
পিংক কার্ডের জন্য আবেদন করার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে। সেগুলি হল—
আধার কার্ড
ভোটার পরিচয়পত্র
স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র
সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি
সচল মোবাইল নম্বর
আবেদনপত্রে দেওয়া সমস্ত তথ্য সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। কোনও অসঙ্গতি থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় তথ্য ও নথি সঠিকভাবে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অফলাইনে আবেদন করার সুযোগও থাকছে
যাঁরা অনলাইনে আবেদন করতে স্বচ্ছন্দ নন, তাঁদের জন্য অফলাইন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) দপ্তরে গিয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। অন্যদিকে, পুরসভা বা নগর এলাকার বাসিন্দাদের নিজ নিজ পুরসভা অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
সেখানে প্রয়োজনীয় নথির কপি জমা দিয়ে নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করতে হবে। আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য যাচাই করবে। সমস্ত নথি ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনকারীর নামে পিংক কার্ড ইস্যু করা হবে।
কেন চালু হচ্ছে পিংক কার্ড?
বর্তমানে জিরো-ভ্যালু টিকিটের মাধ্যমে মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াত করলেও দীর্ঘমেয়াদে সেই পদ্ধতি বজায় রাখা কঠিন। তাই সুবিধাভোগীদের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ এবং ভুয়ো দাবি রোধ করতে পিংক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি বাসে যাতায়াত আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে বলে প্রশাসনের আশা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ভিত্তিক কার্ড চালু হলে যাত্রী যাচাই সহজ হবে এবং সরকারি ভর্তুকির হিসাবও আরও নির্ভুলভাবে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পরিবহণ ব্যবস্থায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়বে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি পরিষেবার সঙ্গেও এই কার্ড যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এখনও পর্যন্ত আবেদন শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ বা কার্ড বিতরণের সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত ঘোষণা হয়নি। সরকার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে সেই অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। আবেদনকারীদের সরকারি ঘোষণার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



