Home/India/সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণ নয়, আরও বড় ভূমিকায় ইসরো! ৯ কর্মী সংগঠনের চিঠির জবাব দিল মহাকাশ গবেষণা সংস্থা
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণ নয়, আরও বড় ভূমিকায় ইসরো! ৯ কর্মী সংগঠনের চিঠির জবাব দিল মহাকাশ গবেষণা সংস্থা

মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ার পর থেকেই ইসরোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল। সেই উদ্বেগ থেকেই সংস্থার ন’টি কর্মী সংগঠন চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিল, ইসরোকে কি ধীরে ধীরে বেসরকারিকরণের পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? এবার সেই আশঙ্কা সরাসরি খারিজ করল ইসরো। সংস্থার স্পষ্ট বক্তব্য, ইসরোকে বেসরকারিকরণ করার কোনও পরিকল্পনা নেই এবং ভবিষ্যতেও এর গুরুত্ব কমবে না। বরং বেসরকারি ক্ষেত্রের প্রসারের ফলে ইসরো আরও উন্নত ও জটিল মহাকাশ গবেষণায় মন দিতে পারবে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 7, 2026
•5 min read•
29
Share:
সম্পূর্ণ বেসরকারিকরণ নয়, আরও বড় ভূমিকায় ইসরো! ৯ কর্মী সংগঠনের চিঠির জবাব দিল মহাকাশ গবেষণা সংস্থা

বেসরকারিকরণ নিয়ে কেন উঠেছিল প্রশ্ন?

ভারতের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই ইসরো ছিল মূল চালিকাশক্তি। উপগ্রহ উৎক্ষেপণ থেকে শুরু করে চন্দ্র ও মঙ্গল অভিযান—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই সংস্থার নাম।

কিন্তু গত কয়েক বছরে মহাকাশ ক্ষেত্রকে বেসরকারি সংস্থার জন্য আরও উন্মুক্ত করার সরকারি নীতির ফলে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। মহাকাশ গবেষণা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ইসরোর কর্মীদের একাংশের মধ্যে ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।

তাঁদের প্রশ্ন ছিল, বেসরকারি সংস্থাগুলি যদি ধীরে ধীরে মহাকাশ প্রযুক্তির বড় অংশের দায়িত্ব নেয়, তাহলে ইসরোর কাজের পরিধি কতটা থাকবে? সংস্থার গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং উৎক্ষেপণ কর্মসূচির ভবিষ্যৎই বা কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তর চেয়েই ন’টি কর্মী সংগঠন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছিল।

৯ কর্মী সংগঠনের চিঠি, সরাসরি জবাব ইসরোর

ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে লেখা চিঠিতে কর্মী সংগঠনগুলি মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে সরকারের বেসরকারি অংশগ্রহণের নীতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। একইসঙ্গে ইসরোর ভবিষ্যৎ দায়িত্ব এবং কর্মীদের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

রবিবার সংস্থার তরফে সেই উদ্বেগের জবাব দেওয়া হয়। ইসরোর বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট—সংস্থাটিকে বেসরকারিকরণের কোনও পরিকল্পনা নেই।

অর্থাৎ বেসরকারি সংস্থাগুলি মহাকাশ ক্ষেত্রে প্রবেশ করছে মানেই রাষ্ট্রীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার দায়িত্ব কমে যাচ্ছে, এমনটা নয়। ইসরোর দাবি, তার মূল বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত দায়িত্ব আগের মতোই থাকবে।

ইসরোর গুরুত্ব কমবে না

কর্মী সংগঠনগুলির আশঙ্কা দূর করতে ইসরো জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সংস্থার গুরুত্ব কোনওভাবেই কমানো হবে না।

বরং মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজের ধরন বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে ইসরোর দায়িত্বের চরিত্র আরও উন্নত হতে পারে। বর্তমানে যে ধরনের প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই তৈরি এবং পরীক্ষিত, সেগুলির উৎপাদন ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থাগুলি নিলে ইসরোর বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়াররা আরও নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

অর্থাৎ মহাকাশ শিল্পের সম্প্রসারণকে ইসরো নিজের জায়গা সংকুচিত হওয়ার পরিবর্তে গবেষণার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছে।

বেসরকারি সংস্থার কাজ কী হবে?

ইসরোর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি শিল্পের অংশগ্রহণের একটি বড় উদ্দেশ্য হল ইতিমধ্যে তৈরি ও পরীক্ষিত প্রযুক্তিকে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন করা।

কোনও প্রযুক্তি গবেষণাগারে তৈরি হওয়ার পর সেটিকে ব্যাপকভাবে উৎপাদন এবং বাজারজাত করার জন্য আলাদা পরিকাঠামো প্রয়োজন হয়। সেই জায়গায় বেসরকারি শিল্প এগিয়ে এলে ইসরোর উপর উৎপাদন ও বাণিজ্যিকীকরণের চাপ কমতে পারে।

ফলে ইসরোর বিজ্ঞানীরা একই প্রযুক্তির পুনরুৎপাদন বা বাণিজ্যিক প্রয়োগের বদলে নতুন প্রজন্মের মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় বেশি সময় দিতে পারবেন।

গবেষণায় আরও বেশি মন দিতে পারবে ইসরো

ইসরোর বক্তব্যের মূল জায়গাটি এখানেই। বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণ বাড়লেও সংস্থার গবেষণার দায়িত্ব কমছে না। বরং তুলনামূলকভাবে পুরনো বা প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তির উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা অন্যদের হাতে গেলে ইসরো তার বৈজ্ঞানিক সক্ষমতাকে আরও ভবিষ্যতমুখী প্রকল্পে কাজে লাগাতে পারবে।

চন্দ্র, মঙ্গল এবং অন্যান্য মহাকাশ অভিযানে ভারত যে সাফল্য পেয়েছে, তার পরবর্তী ধাপ হিসেবে আরও জটিল মিশন, নতুন উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি এবং গভীর মহাকাশ গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীদের সময় ও সম্পদ প্রয়োজন। ইসরোর মতে, বেসরকারি ক্ষেত্রের প্রসার সেই সুযোগ তৈরি করতে পারে।

চন্দ্রযান-মঙ্গলযানের সাফল্যের পর নতুন লক্ষ্য

ভারতের মহাকাশ গবেষণার আন্তর্জাতিক পরিচিতি গত কয়েক বছরে অনেকটাই বেড়েছে। চন্দ্রযান কর্মসূচির সাফল্য এবং মঙ্গলযান অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বের মহাকাশ গবেষণার মানচিত্রে ভারত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে।

তবে ইসরোর সামনে এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চাঁদে ভবিষ্যৎ অভিযান, মানব মহাকাশযাত্রা, উন্নত উপগ্রহ প্রযুক্তি এবং গভীর মহাকাশ গবেষণার মতো ক্ষেত্রগুলিতে কাজ আরও বাড়াতে হবে।

ফলে প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তির উৎপাদন ও বাণিজ্যিকীকরণের একটি অংশ বেসরকারি সংস্থার হাতে গেলে ইসরোর মূল গবেষণামূলক কাজ আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

একশোর বেশি বিজ্ঞানী-ইঞ্জিনিয়রের ইস্তফা নিয়েও উদ্বেগ

বেসরকারিকরণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ইসরো থেকে সাম্প্রতিক সময়ে একশোরও বেশি বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়রের চলে যাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

কর্মী মহলের একাংশের দাবি, মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার প্রসার এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। যদিও প্রত্যেক কর্মীর ইস্তফার কারণ এক নয় এবং বেসরকারিকরণকেই একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।

তবু দক্ষ বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের সংস্থা ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ইসরোর মতো গবেষণানির্ভর প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কর্মী সংগঠনগুলির উদ্বেগের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরোর কাজের পরিধি কি বদলাবে?

ইসরো জানিয়েছে, পরিবর্তন হচ্ছে মূলত ভারতের মহাকাশ ব্যবস্থার পরিকাঠামো ও কাজের ধরনে। সংস্থার গুরুত্ব কমছে না।

এর অর্থ হল, মহাকাশ ক্ষেত্রকে এখন আর শুধুমাত্র সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না। উৎক্ষেপণ পরিষেবা, স্যাটেলাইট, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যিক প্রয়োগের মতো ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে।

এর ফলে একটি বৃহত্তর মহাকাশ শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এই ব্যবস্থায় ইসরো থাকবে মূলত গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান সংস্থা হিসেবে।

কর্মীদের আশঙ্কা কতটা কাটল?

ইসরোর এই বক্তব্যে কর্মী সংগঠনগুলির মূল উদ্বেগের একটি অংশের উত্তর মিলেছে। অন্তত সংস্থাকে সরাসরি বেসরকারিকরণ করার পরিকল্পনা নেই—এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট।

তবে ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে দায়িত্বের বিভাজন কীভাবে হবে, তা নিয়ে আরও প্রশ্ন থাকতে পারে। বিশেষ করে নতুন প্রযুক্তি তৈরি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইসরো ও বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকা কতটা আলাদা হবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মীদের জন্যও চাকরির কাঠামো, গবেষণার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্পের পরিধি নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বেসরকারি অংশগ্রহণ বনাম ইসরোর অস্তিত্ব—দুই বিষয় এক নয়

মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার প্রবেশকে ইসরোর বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়—এটাই কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মূল সুর।

একটি শক্তিশালী মহাকাশ অর্থনীতি তৈরি করতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি শিল্প—তিন পক্ষেরই প্রয়োজন হতে পারে। ইসরো নতুন প্রযুক্তি তৈরি করবে, আর বেসরকারি সংস্থাগুলি সেই প্রযুক্তিকে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ও বাণিজ্যিক ব্যবহারে নিয়ে যেতে পারে।

এমন মডেল সফল হলে ভারতের মহাকাশ শিল্পের পরিধি আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারে ভারতীয় সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতার সুযোগও বাড়বে।

সামনে ইসরোর জন্য আরও বড় পরীক্ষা

বেসরকারিকরণ নিয়ে কর্মী সংগঠনগুলির উদ্বেগ আপাতত ইসরোর স্পষ্ট জবাবে কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। কিন্তু আগামী দিনে সেই বক্তব্য বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তার উপরই আস্থা অনেকাংশে নির্ভর করবে।

ইসরো যদি গবেষণা ও উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আরও বড় প্রকল্প হাতে নিতে পারে এবং বেসরকারি শিল্প যদি প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তির উৎপাদন ও বাণিজ্যিকীকরণে কার্যকর ভূমিকা নেয়, তাহলে এই নতুন মহাকাশ ব্যবস্থার সুফল মিলতে পারে।

অন্যদিকে, দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখা, গবেষণার পরিবেশ বজায় রাখা এবং সরকারি মহাকাশ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার দরজা খোলা মানেই ইসরোর অবসান নয়—কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অন্তত সেটাই স্পষ্ট করছে। বরং সরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থাকে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের জটিল মিশনে কেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্যেই দায়িত্বের নতুন বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এখন দেখার, এই নীতি বাস্তবে ভারতের মহাকাশ গবেষণা এবং ইসরোর কর্মীদের জন্য কতটা ইতিবাচক ফল বয়ে আনে।

Tags:India
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10