Home/Kolkata/সই জাল বিতর্কে শোভনদেবের বাড়িতে সিআইডি, তদন্তে নতুন মোড়; রেজোলিউশনের কপি তুলে দিলেন প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

সই জাল বিতর্কে শোভনদেবের বাড়িতে সিআইডি, তদন্তে নতুন মোড়; রেজোলিউশনের কপি তুলে দিলেন প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক

তৃণমূল বিধায়কদের সই জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই তদন্তে নতুন গতি পেল সিআইডি। শনিবার সকালে ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রবীণ নেতা ও বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছয় তদন্তকারী দল। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সূত্রের খবর, বিতর্কিত রেজোলিউশন, সই সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তদন্তকারীরা। শোভনদেবও তদন্তে সহযোগিতা করে সংশ্লিষ্ট নথির কপি তুলে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 20, 2026
5 min read
4
Share:
সই জাল বিতর্কে শোভনদেবের বাড়িতে সিআইডি, তদন্তে নতুন মোড়; রেজোলিউশনের কপি তুলে দিলেন প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক

সই জাল বিতর্কে শোভনদেবের বাড়িতে সিআইডি, তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বে বাড়ছে চাপ

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবং বিধায়কদের সই জালিয়াতির অভিযোগকে ঘিরে তদন্ত ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে। সেই আবহে শনিবার সকালে তৃণমূলের প্রবীণ নেতা ও বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ভবানীপুরের বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডির একটি দল। ছয় সদস্যের ওই তদন্তকারী টিম প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে তাঁর সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাক্রম সম্পর্কে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত বিতর্কিত রেজোলিউশনের কপি, সই সংগ্রহের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট বৈঠকের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন আধিকারিকরা। অভিযোগ, তৃণমূল বিধায়কদের নামে যে রেজোলিউশন তৈরি হয়েছিল, তাতে কয়েকজনের সই জাল করা হয়েছে। সেই অভিযোগ সামনে আসার পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

এই ঘটনার জেরেই তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও প্রকাশ্যে চলে আসে। দলের একাংশের বিধায়ক প্রকাশ্যে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করতে শুরু করেন। তাঁদের নেতৃত্বে উঠে আসেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়।

সিআইডি সূত্রে খবর, শোভনদেবের কাছে জানতে চাওয়া হয় সই সংগ্রহের দিন কারা উপস্থিত ছিলেন, কোথায় বৈঠক হয়েছিল এবং কোন পরিস্থিতিতে রেজোলিউশনে সই নেওয়া হয়েছিল। বিশেষভাবে কালীঘাটের পার্টি অফিসে হওয়া বৈঠক সম্পর্কেও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়।

তদন্তকারীদের সামনে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, সই নেওয়ার সময় প্রায় সব বিধায়কই উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাত্র একজন বিধায়ক ছাড়া বাকি সবাই সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি তদন্তকারীদের হাতে বিতর্কিত রেজোলিউশনের একটি কপিও তুলে দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, এই প্রথম নয়। এর আগেও প্রায় দশ দিন আগে সিআইডি আধিকারিকরা শোভনদেবের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তখনও একই বিষয়ে তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়েছিল। তবে তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসায় দ্বিতীয় দফায় ফের তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা হল বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, সই জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ইতিমধ্যেই একাধিক তৃণমূল নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। কালীঘাটের সংশ্লিষ্ট পার্টি অফিসে গিয়েও নথিপত্র খতিয়ে দেখেছেন তদন্তকারীরা। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয়েছে। পাশাপাশি দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

শুধু তাই নয়, তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার ঘটনাও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্যে কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন।

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডির সাম্প্রতিক সফরকে তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ, তিনি দীর্ঘদিনের সংগঠক এবং দলের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একজন নেতা। তাঁর বক্তব্য তদন্তের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, শোভনদেব এদিন বিদ্রোহী শিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, গোটা বিতর্কের নেপথ্যে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে। তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় দাবি করেছেন, দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করার উদ্দেশ্যেই এই বিতর্ক উসকে দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, বিধায়কদের অবস্থান পরিবর্তন এবং সই জালিয়াতির অভিযোগ— এই তিনটি বিষয় এখন পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। ফলে তদন্তের অগ্রগতি শুধু একটি ফৌজদারি অভিযোগের নিষ্পত্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তার রাজনৈতিক অভিঘাতও সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সিআইডির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তদন্তে নতুন করে কারও নাম উঠে আসে কি না, আরও কোনও নেতা বা বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় কি না, তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। আপাতত শোভনদেবের বাড়িতে সিআইডির উপস্থিতি স্পষ্ট করে দিয়েছে, সই জালিয়াতি বিতর্কের তদন্ত এখনও শেষ পর্যায়ে পৌঁছয়নি; বরং নতুন তথ্যের সন্ধানে তদন্ত আরও গভীরে প্রবেশ করছে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10