Home/Kolkata/শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে ছুটি, নতুন জেলা ও ডিএ ঘোষণা—বড় বাজেট পেশ রাজ্যে
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে ছুটি, নতুন জেলা ও ডিএ ঘোষণা—বড় বাজেট পেশ রাজ্যে

রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড় চমক নিয়ে এল এবারের বাজেট ঘোষণা। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা থেকে শুরু করে নতুন জেলা গঠন, সরকারি কর্মীদের জন্য ৩৮ শতাংশ ডিএ, বিপুল নিয়োগ পরিকল্পনা এবং একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প—সব মিলিয়ে এবারের বাজেটকে “বহুমুখী উন্নয়ন নথি” হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই বড় অঙ্কের বরাদ্দের ইঙ্গিত মিলেছে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jun 22, 2026
5 min read
2
Share:
শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে ছুটি, নতুন জেলা ও ডিএ ঘোষণা—বড় বাজেট পেশ রাজ্যে

রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বিধানসভায় যে বাজেট পেশ করেছেন, তাতে একাধিক নতুন ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি খাতের ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক প্রকল্পের সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে এবারের বাজেটকে এক ধরনের নির্বাচনী রূপরেখা বলেও ব্যাখ্যা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়, রাজ্যের মোট ব্যয় বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, এই অর্থ শুধু উন্নয়ন নয়, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার দিকেও ব্যবহার করা হবে। সরকারের লক্ষ্য আগামী দুই বছরে প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং শিল্প বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা।

সবচেয়ে আলোচিত ঘোষণা হল সরকারি কর্মীদের জন্য ৩৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ। দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি সপ্তম বেতন কমিশন আগামী অর্থবর্ষে কার্যকর করার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও কর্মীদের স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চাকরি সংক্রান্ত ঘোষণায় রাজ্যে এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। পুলিশ বিভাগে প্রায় ২০ হাজার এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া সরকারি ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে এককালীন ২৫ হাজার টাকা সহায়তার কথাও জানানো হয়।

সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পেও বড় সম্প্রসারণ দেখা গেছে। বৃদ্ধ, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ভাতা মাসে ৫০০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি ও আশাকর্মীদের বেতন বৃদ্ধি, সিভিক ভলান্টিয়ার ও গ্রিন পুলিশের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও বাজেটে জায়গা পেয়েছে। এই সমস্ত পদক্ষেপকে গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

নারী কল্যাণে একাধিক নতুন প্রকল্পের ঘোষণা এসেছে। “অন্নপূর্ণা যোজনা”-র আওতায় মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলছুট কমাতে বিশেষ উদ্যোগ, কলেজ পড়ুয়াদের সহায়তা এবং প্রসূতি সহায়তা প্রকল্প সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে। শহরাঞ্চলে নতুন মা আহার কেন্দ্র খোলার ঘোষণা দিয়ে কম দামে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ইঙ্গিত রয়েছে বাজেটে। কাঁথি, কালিয়াচক ও ফলতায় মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ঝাড়গ্রামে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় একটি করে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় গড়ে তোলার কথাও উঠে এসেছে। রাজ্যে ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে উত্তরবঙ্গে এইমস প্রতিষ্ঠার ঘোষণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর ও কালিম্পংয়ে নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জেলা হাসপাতালগুলির আধুনিকীকরণ এবং পিপিপি মডেলে চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত করার কথাও বলা হয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নে বড় প্রকল্পের ঘোষণা এসেছে। পুরুলিয়া ও মালদহে নতুন বিমানবন্দর, কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি বিমানবন্দর এবং দার্জিলিং, কালিম্পং ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে চিংড়িহাটা–নিউটাউন করিডর, মেট্রো সম্প্রসারণ এবং নতুন রেল ও সড়ক প্রকল্পের কথাও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্লাস্টার গঠন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকার ফান্ড ঘোষণা করা হয়েছে। গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

পর্যটন ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কালীঘাট, তারাপীঠ ও অন্যান্য ধর্মীয় কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে তীর্থ পর্যটন সার্কিট গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দার্জিলিংকে ইকো-অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম হাব হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।

সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনকে সরকারি ছুটি ঘোষণা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়ার ঘোষণাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

বাজেট শেষে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যকে “ডবল ইঞ্জিন” উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিরোধীদের তরফে অবশ্য এই বাজেটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের বাজেট রাজ্যের উন্নয়ন নীতি, রাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক দিকনির্দেশ—তিনটিরই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার, ঘোষণাগুলির কতটা বাস্তব রূপ আগামী অর্থবছরে পাওয়া যায়।

Tags:Kolkata
Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10