ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে আইনজীবী মহল। আগামী পাঁচ সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।
আদালতে কী জানাল দুই পক্ষ
শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবী কিশোর দত্ত দাবি করেন, একটি এফআইআরের ভিত্তিতে পুলিশ হঠাৎ করেই ভোররাতে বাড়িতে পৌঁছে যায় এবং তল্লাশি চালায়। তাঁর অভিযোগ, অভিযানের সময় যথাযথ ওয়ারেন্ট ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলার মূল অভিযুক্ত হিসেবে অভিষেকের নাম না থাকলেও শুধুমাত্র একজন আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে এই অভিযান চালানো হয়েছে, যা অতিরিক্ত পদক্ষেপ।
বিচারপতি এ সময় প্রশ্ন তোলেন, এতদিন পরে এখন এই মামলায় কী ধরনের নির্দেশ চাওয়া হচ্ছে। জবাবে আবেদনকারীর আইনজীবী সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের আবেদন জানান।
অন্যদিকে রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি যাতে পালিয়ে যেতে না পারে, সেই কারণেই দ্রুত তল্লাশি চালানো প্রয়োজন হয়েছিল। পুলিশের পদক্ষেপকে ‘প্রক্রিয়াগত’ বলেও ব্যাখ্যা করা হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন, তল্লাশি ও জব্দ অভিযানের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং অডিও-ভিডিও রেকর্ড সুরক্ষিত রাখতে হবে। কোনোভাবেই যাতে সেই প্রমাণ নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
একইসঙ্গে আদালত জানায়, চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে সম্পূর্ণ ঘটনার বিবরণসহ হলফনামা জমা দিতে হবে। এরপর আবেদনকারী পক্ষকে আরও দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে হবে।
ঘটনার পটভূমি
গত ১৩ জুন শালবনি থানার পুলিশ জমি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সুমিত রায়কে খুঁজতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। অভিযোগ, মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে সেই ঠিকানা পাওয়া যায় এবং ভোররাত প্রায় তিনটে নাগাদ পুলিশ সেখানে পৌঁছে যায়।
অভিযান চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ও তালা ভেঙে প্রবেশের অভিযোগ ঘিরে পরে বিতর্ক তৈরি হয়। ওই ঘটনার বৈধতা নিয়েই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে এই আদালত নির্দেশের পর। আইনজীবীদের একাংশের মতে, সিসিটিভি সংরক্ষণের নির্দেশ ভবিষ্যতের শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সমস্ত নথি ও ফুটেজ সুরক্ষিত রাখা হবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া স্বাভাবিক নিয়মেই এগোবে।
আগামী শুনানিতে এই মামলার গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর এখন রাজনৈতিক মহল ও আইনজীবী মহলের।



