রিয়াধ বিমানবন্দরের টার্মিনালে বিস্ফোরণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের হামলার পর প্রায় দু’দিনের ব্যবধানে ফের রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আক্রান্ত হয়েছে। বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে একটি অজ্ঞাতপরিচয় বস্তু এসে আছড়ে পড়ে। তার পরেই বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় বিমানবন্দরের একাংশ।
এই ঘটনার পর বিমানবন্দরমুখী আরও একটি ক্রুজ মিসাইলকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি প্রশাসন। পাশাপাশি, খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া একটি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করার দাবি করা হয়েছে।
তবে বিমানবন্দরের কোন অংশে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না এবং বিমান চলাচল কতটা প্রভাবিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ঘিরে পরপর হামলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
দাম্মামের কিং ফাহদ বিমানবন্দরেও হামলার অভিযোগ
শুধু রিয়াধ নয়, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের দাম্মামেও হামলার খবর সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রবিবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। এর ফলে বিমানবন্দরের একটি অংশে আগুন ধরে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত যাত্রীদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। বিমানবন্দর খালি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে এই ঘটনার পর হতাহতের সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং বিমান চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রিয়াধ ও দাম্মামের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরকে ঘিরে একের পর এক হামলার খবর সৌদির আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের যাতায়াত এবং হজ ও ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
হামলার দায় হাউথিদের, পালটা হুঁশিয়ারি
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হাউথি গোষ্ঠী। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের ১২৪টি স্থানে সৌদি আরবের তরফে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তারই পালটা পদক্ষেপ হিসেবে সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানার কথা বলা হয়েছে।
হাউথিদের তরফে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, ইয়েমেনে হামলা বন্ধ না হলে সৌদি আরবকে এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে ইয়েমেনে ১২৪টি স্থানে হামলার দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। একই ভাবে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলিতে হামলার সঙ্গে ইয়েমেনে চালানো অভিযানের সরাসরি যোগসূত্র কতটা, তা নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এই পালটা হামলা ও হুঁশিয়ারির আবহে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু সৌদি আরব ও ইয়েমেন নয়, বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
শনিবারের হামলায় প্রাণহানির দাবি
এর আগেও শনিবার রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার খবর সামনে এসেছিল। সেই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওতে বিমানবন্দরে উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। বিস্ফোরণের পর অনেকে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। বিমানবন্দরের ছাদের কিছু অংশ ভেঙে পড়ার দৃশ্যও ফুটেজে দেখা গিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ওই হামলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর সামনে আসায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আহতের সংখ্যার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। কোথাও ১১ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, আবার পরবর্তী অংশে ৩৮ জনেরও বেশি আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ভারতীয় নাগরিক বলে উল্লেখ রয়েছে।
এই সংখ্যাগত অসঙ্গতির কারণে হতাহতের চূড়ান্ত হিসাব নিশ্চিত করতে সৌদি প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রয়োজন। আহতদের পরিচয়, তাঁদের চিকিৎসার অবস্থা এবং মৃতদের জাতীয়তা সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসা জরুরি।
নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলি আন্তর্জাতিক যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে সেখানে হামলার ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব স্থানীয় নিরাপত্তার গণ্ডি ছাড়িয়ে বহু দেশের যাত্রীদের উপর পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে সৌদি আরবে যাতায়াতকারী কর্মী, পর্যটক এবং ধর্মীয় তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
পরপর হামলার অভিযোগের মধ্যে সৌদি প্রশাসন একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে। তবে বিমানবন্দরগুলির সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং বিমান চলাচলের স্বাভাবিকতা নিয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য প্রয়োজন।
এদিকে হাউথিদের পালটা হুঁশিয়ারি এবং ইয়েমেনে সৌদি হামলার দাবি সংঘাতের নতুন পর্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়ার উপর।



