রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বহু বছর ধরে বিভিন্ন কারণে আটকে থাকা পেনশনের এরিয়ারের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বকেয়া থাকা পেনশনের টাকা ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়া হবে।
শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। বৈঠকে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, প্রথম পর্যায়ে আনুমানিক হিসাবের ভিত্তিতে প্রত্যেক যোগ্য পেনশনভোগীকে তাঁদের মোট বকেয়ার ৫০ শতাংশ চলতি মাসেই দেওয়া হবে। অবশিষ্ট অর্থ নির্দিষ্ট অডিট ও বিস্তারিত হিসাব যাচাইয়ের পর পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।
জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালের আগে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের ডিজিটাল পরিকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর না থাকায় বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর পেনশনের এরিয়ারের অর্থ আটকে যায়। সেই প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার পেনশনভোগী তাঁদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাঁদের পেনশনের এরিয়ার প্রযুক্তিগত সমস্যা বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এতদিন মেটানো সম্ভব হয়নি, তাঁরাও এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। কোনও আলাদা নগদ বিতরণের পরিবর্তে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হবে।
পেনশনভোগীদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বহু শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পুরসভার কর্মী, পঞ্চায়েত কর্মী এবং অন্যান্য অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বছরের পর বছর তাঁদের ন্যায্য পাওনা পাননি। শুক্রবারের বৈঠকের পর সেই জট কাটার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈঠকে শুধু পেনশন নয়, হোমগার্ডদের বকেয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত ঘোষণা করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট দাবিগুলি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।
এর পাশাপাশি সম্প্রতি রাজ্য সরকারের ঘোষিত মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। বাজেটে সরকারি কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ডিএ-র হার বেড়ে ৩৮ শতাংশে পৌঁছাবে।
সরকার ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে। তবে সংশোধিত হারে ডিএ কার্যকর হবে আগামী অক্টোবর মাস থেকে। অর্থাৎ সরকারি কর্মীরা অক্টোবরের বেতন থেকেই বর্ধিত হারে মহার্ঘ ভাতার সুবিধা পাবেন।
দীর্ঘদিনের বকেয়া পেনশন পরিশোধের সিদ্ধান্তে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের একাংশ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বহু বছর ধরে আটকে থাকা অর্থ হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তাঁদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।



