Home/India/সাংসদ পদ নিয়ে জবাব দিতে ফের সময় চাইলেন সুদীপ-কাকলিরা, কলকাতায় আজ রণকৌশল বৈঠক
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

সাংসদ পদ নিয়ে জবাব দিতে ফের সময় চাইলেন সুদীপ-কাকলিরা, কলকাতায় আজ রণকৌশল বৈঠক

তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে পরে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জটিলতা আরও বাড়ল। তাঁদের সাংসদ পদ কেন খারিজ করা হবে না, সেই ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবারই তার শেষ দিন। তার মধ্যেই আরও দু’সপ্তাহ সময় চেয়ে ফের স্পিকারের দ্বারস্থ হচ্ছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ সংশ্লিষ্ট সাংসদরা। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার কলকাতায় বৈঠকে বসছেন ২০ সাংসদ। সুপ্রিম কোর্টেও বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় গোটা পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Oct 8, 2026
•5 min read•
19
Share:
সাংসদ পদ নিয়ে জবাব দিতে ফের সময় চাইলেন সুদীপ-কাকলিরা, কলকাতায় আজ রণকৌশল বৈঠক

তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদের সাংসদ পদ নিয়ে টানাপোড়েন আপাতত কাটছে না। বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার বদলে ফের সময় চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, তাঁদের জবাব দেওয়ার জন্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দেওয়া সময়সীমা শেষ হচ্ছে। তার আগেই আরও ১৪ দিন সময় চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন এনসিপিআইয়ের ওই সাংসদরা।

এই ২০ সাংসদের মধ্যে রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ তৃণমূলের একাধিক পরিচিত মুখ। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের সময় তাঁরা তৃণমূলের সংসদীয় দল থেকে বেরিয়ে এনসিপিআই বা Nationalist Citizens Party of India-তে যোগ দেন। নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে গিয়ে তাঁরা কেন্দ্রের NDA সরকারের প্রতি সমর্থনের কথাও জানান। সেই রাজনৈতিক অবস্থান বদলের পর থেকেই তাঁদের সাংসদ পদ নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠেছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, যে প্রতীকে ভোটে জিতে ওই সাংসদরা লোকসভায় পৌঁছেছিলেন, পরবর্তীকালে সেই দল ছেড়ে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সরাসরি দলবদলবিরোধী আইনের আওতায় পড়ে। এই যুক্তিতেই তাঁদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। তৃণমূলের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার স্পিকারের কাছে এই বিষয়ে আবেদনও করেন।

অন্যদিকে, এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া সাংসদদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনকে সরাসরি দলত্যাগ হিসেবে দেখা যায় না। তাঁরা এটিকে বৈধ রাজনৈতিক সংযুক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। সেই কারণে সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের সদস্যপদ বাতিল করা যাবে না বলেই তাঁদের পক্ষের যুক্তি।

এই দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন লোকসভার স্পিকারের হাতে। তবে বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে স্পিকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াও এখন আরও বেশি নজরকাড়া হয়ে উঠেছে।

সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে যে অভিযোগ উঠেছে, তার জবাব দিতে এর আগে একাধিকবার সময় চেয়েছিলেন এনসিপিআইয়ের সাংসদরা। তাঁদের বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের ভিত্তিতে তাঁদের কাছে বেশ কিছু নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে। সেই প্রশ্নগুলির জবাব প্রস্তুত করতে প্রয়োজনীয় সময় লাগছে। সেই কারণেই তাঁরা সময় বাড়ানোর আবেদন করছেন।

স্পিকারও ইতিমধ্যে তাঁদের একাধিকবার সময় দিয়েছেন। তিন দফায় সময়সীমা বাড়ানোর পর শেষবার ৮ অক্টোবরের মধ্যে নিজেদের অবস্থান জানাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমার শেষ দিনেও নির্দিষ্ট জবাব না দিয়ে ফের দুই সপ্তাহের সময় চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাংসদরা।

এখন প্রশ্ন উঠছে, স্পিকার তাঁদের আরও সময় দেবেন কি না। কারণ বিষয়টি আর শুধুমাত্র সংসদীয় স্তরে আটকে নেই। সুপ্রিম কোর্টেও এই সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন। শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিস পাঠিয়েছিল। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ সাংসদকে নোটিস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে লোকসভার স্পিকারের কাছেও জানতে চাওয়া হয়েছে, এই সাংসদদের সদস্যপদ সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে।

অর্থাৎ, একদিকে স্পিকারের কাছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে, অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টও পুরো প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইছে। ফলে ২০ সাংসদের সামনে এখন আইনি এবং রাজনৈতিক—দুই ধরনের চাপই রয়েছে।

শীর্ষ আদালত মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাংসদরা আরও ১৪ দিনের সময় চাইলে স্পিকার সেই আবেদন কীভাবে বিবেচনা করেন, সেটিই এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। স্পিকার সময় বাড়ালে তাঁদের নিজেদের অবস্থান বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ মিলবে। আর সময় না দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটিও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার কলকাতায় বৈঠকে বসছেন এনসিপিআইয়ের ২০ সাংসদ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বৈঠককে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। স্পিকারের কাছে ফের সময় চাওয়ার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আগামী দিনে কীভাবে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টির মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা।

বৈঠকে সাংসদদের সামনে একাধিক বিষয় থাকতে পারে। প্রথমত, স্পিকারের কাছে দেওয়া জবাব কীভাবে প্রস্তুত করা হবে। দ্বিতীয়ত, দলত্যাগবিরোধী আইন নিয়ে তাঁদের যে অবস্থান, সেটিকে কীভাবে সাংবিধানিক ও আইনি যুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা যায়। তৃতীয়ত, সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেই বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য গোটা ঘটনাকে দলবদলের অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দলের যুক্তি, তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীকে জয়ী হওয়ার পর অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সাংসদদের বিরুদ্ধে সংবিধানের দশম তফসিল কার্যকর হওয়া উচিত। সেই ভিত্তিতেই তাঁদের লোকসভা সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে এনসিপিআইয়ের সাংসদরা নিজেদের অবস্থানকে বৈধ রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁদের মতে, শুধু রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণে দলত্যাগবিরোধী আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয় না। তাঁদের এই যুক্তির গ্রহণযোগ্যতা কতটা, শেষ পর্যন্ত তারই পরীক্ষা হবে স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং আদালতের পর্যবেক্ষণে।

এই বিতর্কের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল লোকসভায় সাংসদদের আসন পরিবর্তন। এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়ার পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়দের মতো সাংসদদের আসনেও পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। তাঁরা নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে সংসদীয় কার্যকলাপে অংশ নেওয়ার অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু এখনও তাঁদের এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি।

ফলে রাজনৈতিক অবস্থান বদল করলেও সংসদে তাঁদের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্নটি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। স্পিকারের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে। আর সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের ফলে বিষয়টি এখন জাতীয় স্তরের আইনি নজরদারির মধ্যেও রয়েছে।

সব মিলিয়ে ৮ অক্টোবরের সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনটি ২০ সাংসদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা ফের সময় চেয়েছেন। সেই আবেদন স্পিকার গ্রহণ করবেন কি না, নাকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁদের অবস্থান জানাতে নির্দেশ দেবেন, তা এখন দেখার। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানিতেও স্পিকারের প্রক্রিয়ার অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই আবহেই কলকাতার বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ স্পিকারের কাছে সময় চাওয়ার পাশাপাশি ২০ সাংসদ নিজেদের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও আলোচনা করতে চলেছেন। আইনি লড়াই, সংসদীয় অবস্থান এবং রাজনৈতিক বার্তা—তিনটি দিক কীভাবে একসঙ্গে সামলানো হবে, সেই পরিকল্পনাই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য হতে পারে।

এখন মূল নজর দুটি জায়গায়—লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ২০ সাংসদের নতুন করে সময় চাওয়ার আবেদন গ্রহণ করেন কি না এবং সুপ্রিম কোর্টের নজরদারির মধ্যে সাংসদ পদ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া কত দ্রুত এগোয়। এই দুই সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ ২০ সাংসদের রাজনৈতিক ও সংসদীয় ভবিষ্যতের পরবর্তী অধ্যায়।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10