Home/India/সাংসদ পদ খারিজের নোটিস, স্পিকারের কাছে ৩ সপ্তাহ সময় চাইলেন এনসিপিআইয়ের ২০ সাংসদ
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

সাংসদ পদ খারিজের নোটিস, স্পিকারের কাছে ৩ সপ্তাহ সময় চাইলেন এনসিপিআইয়ের ২০ সাংসদ

তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের সাংসদ পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে আইনি টানাপোড়েন আরও বাড়ল। দলবদলের কারণ ব্যাখ্যা করে তাঁদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নোটিস পাঠিয়েছিলেন। সেই নোটিসের জবাব দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে মঙ্গলবার আরও তিন সপ্তাহ সময় চেয়ে লোকসভা সচিবালয়ের দ্বারস্থ হলেন এনসিপিআইয়ের সাংসদরা। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, জবাব প্রস্তুতির জন্যই এই অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 2, 2026
•5 min read•
19
Share:
সাংসদ পদ খারিজের নোটিস, স্পিকারের কাছে ৩ সপ্তাহ সময় চাইলেন এনসিপিআইয়ের ২০ সাংসদ

স্পিকারের নোটিস, জবাব দিতে বাড়তি সময়ের আবেদন

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদকে ঘিরে সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। তাঁদের দলবদল আইনসঙ্গত কি না এবং কেন তাঁদের সাংসদ পদ বাতিল করা হবে না, সেই প্রশ্নে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নোটিস পাঠিয়েছিলেন।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবারের মধ্যেই ওই নোটিসের জবাব দেওয়ার কথা ছিল সংশ্লিষ্ট সাংসদদের। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিয়ে আরও প্রায় তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার লোকসভা সচিবালয়ের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়ে এই অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়।

লোকসভায় এনসিপিআইয়ের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ২০ জন সাংসদ একসঙ্গে লোকসভা সচিবালয়ের কাছে চিঠি দিয়ে তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। এখন সেই আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।

নির্বাচনের পরই তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ

এই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের সূত্রপাত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর। নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ফল আশানুরূপ না হওয়ার পর দলের একাধিক সাংসদ দলত্যাগ করেন।

অধিকাংশ সাংসদ একসঙ্গে তৃণমূল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইতে যোগ দেন। নতুন দলে যোগ দেওয়ার পর তাঁরা এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথাও ঘোষণা করেন।

দলবদলের পর সংসদে তাঁদের বসার জায়গাতেও পরিবর্তন আসে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ সংশ্লিষ্ট সাংসদদের আসন অদলবদল করা হয়। তবে সংসদীয় নথিতে তাঁদের এখনও এনসিপিআইয়ের সাংসদ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

ফলে দলবদলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও তাঁদের সাংসদ পদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অনিশ্চয়তাই এখন স্পিকারের নোটিস এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টেও গড়িয়েছে মামলা

বিষয়টি শুধু লোকসভা সচিবালয়েই সীমাবদ্ধ নেই। এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া সাংসদদের পদ খারিজের দাবিতে শীর্ষ আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের লোকসভা দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাদল অধিবেশন চলাকালীন তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইসঙ্গে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছেও চিঠি দিয়ে সাংসদ পদ বাতিলের দাবি জানানো হয়।

এই আবেদনের পর গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিস জারি করে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ মোট ২০ জন সাংসদকেও নোটিস দেওয়া হয়।

শুধু দলবদলু সাংসদদের নয়, লোকসভার স্পিকারকেও নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের সাংসদ পদ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে, তা জানতে চেয়েছিল শীর্ষ আদালত।

স্পিকারের দপ্তরেও শুরু হয়েছে প্রক্রিয়া

সুপ্রিম কোর্টে মামলার পাশাপাশি স্পিকারের দপ্তরেও বিষয়টি নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়। আদালতে স্পিকার জানিয়েছিলেন, কালীঘাট তৃণমূলের আবেদনের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট সাংসদদের অবস্থান জানতে নোটিস পাঠানো হয়েছে।

অর্থাৎ, দলত্যাগের অভিযোগের বিষয়ে সাংসদদের নিজেদের বক্তব্য জানানো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্পিকারের নোটিসের জবাবের উপর পরবর্তী সংসদীয় প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশ নির্ভর করতে পারে।

এই পরিস্থিতিতেই এনসিপিআই সাংসদরা সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিষয়টি আইনি ও সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিস্তারিত জবাব প্রস্তুত করতে আরও সময় প্রয়োজন।

আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন দলবদলু সাংসদরা

স্পিকারের নোটিস পাওয়ার পর থেকেই এনসিপিআইয়ের ২০ সাংসদ নিজেদের অবস্থান নিয়ে আইনি প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে খবর।

সূত্রের দাবি, তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি দেশের একাধিক শীর্ষ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।

দলবদলের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা, দলত্যাগ বিরোধী আইনের প্রয়োগ এবং সাংসদ পদ বজায় রাখার আইনি সুযোগ—এই সমস্ত বিষয় নিয়েই আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

তবে তাঁদের আইনি যুক্তি বা স্পিকারের নোটিসের জবাবে ঠিক কী বক্তব্য রাখা হবে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তিন সপ্তাহের সময় পেলে সেই জবাব আরও বিস্তারিতভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সাংসদরা।

সাংসদ পদ বাতিল হবে কি?

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত ওই ২০ জন সাংসদের পদ থাকবে কি না। দলবদল বিরোধী আইনের আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। অন্যদিকে এনসিপিআই সাংসদরা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ চাইছেন।

এই ধরনের ক্ষেত্রে স্পিকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংশ্লিষ্ট সাংসদদের বক্তব্য এবং মামলার বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হতে পারে।

তবে এখনই তাঁদের সাংসদ পদ বাতিল হয়ে যাচ্ছে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং প্রক্রিয়াটি এখনও নোটিসের জবাব এবং তার পরবর্তী শুনানি বা সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছে।

ফলে মঙ্গলবারের তিন সপ্তাহ সময় চাওয়ার আবেদনও এই আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব পড়তে পারে

২০ জন সাংসদের ভবিষ্যৎ শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের প্রশ্ন নয়, সংসদের অঙ্কের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দিয়ে তাঁরা এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

ফলে তাঁদের অবস্থান সংসদীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার সমীকরণের সঙ্গেও যুক্ত। সাংসদ পদ বহাল থাকলে তাঁরা নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে সংসদে সক্রিয় থাকতে পারবেন। কিন্তু পদ খারিজ হলে তাঁদের সংসদীয় ভূমিকা শেষ হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

এই কারণেই বিষয়টি নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যেই আইনি প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। একদিকে তৃণমূল তাঁদের দলবদলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চাইছে, অন্যদিকে এনসিপিআইয়ের সাংসদরা নিজেদের সাংসদ পদ রক্ষার জন্য আইনি পথ খুঁজছেন।

সুপ্রিম কোর্টের নজরও গুরুত্বপূর্ণ

লোকসভার স্পিকারের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের মামলাটিও এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ। শীর্ষ আদালত ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিস দিয়েছে এবং স্পিকারের কাছ থেকেও প্রক্রিয়ার অগ্রগতি জানতে চেয়েছে।

ফলে স্পিকারের সিদ্ধান্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপের উপর আদালতের নজর থাকছে। সংসদীয় কর্তৃপক্ষ এবং বিচার বিভাগের প্রক্রিয়া কীভাবে পাশাপাশি এগোয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এখন এনসিপিআই সাংসদদের সময় বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর হয় কি না, তার পর তাঁরা কী জবাব দেন এবং স্পিকার সেই বক্তব্য কীভাবে বিবেচনা করেন—এই তিনটি বিষয়ই পরবর্তী পর্যায়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে।

আপাতত বাড়ছে আইনি টানাপোড়েন

তৃণমূল থেকে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদের দলবদল নিয়ে বিতর্ক এখন রাজনৈতিক গণ্ডি ছাড়িয়ে সংসদীয় ও আইনি পরিসরেও পৌঁছেছে। স্পিকারের নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য তিন সপ্তাহ সময় চাওয়ার মাধ্যমে আপাতত আরও কিছুটা সময় পেলেন তাঁরা।

তবে এই সময়ের মধ্যে তাঁদের আইনি অবস্থান কী হবে, দলত্যাগের অভিযোগের বিরুদ্ধে কী যুক্তি দেওয়া হবে এবং সাংসদ পদ বহাল রাখার জন্য কোন সাংবিধানিক ভিত্তি তুলে ধরা হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়।

সব মিলিয়ে, ২০ জন এনসিপিআই সাংসদের সাংসদ পদ নিয়ে সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া আরও কিছুটা পিছিয়ে গেল। তৃণমূলের আবেদনের পর স্পিকারের নোটিস, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ এবং এবার অতিরিক্ত সময়ের আবেদন—পরপর এই ঘটনাগুলি দেখিয়ে দিচ্ছে, দলবদলের এই বিতর্ক এখনও সহজে মিটছে না। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সাংসদরা কী জবাব দেন এবং স্পিকার কী সিদ্ধান্ত নেন, তার উপরই পরবর্তী রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10