Home/India/রুশ তেলে ১০০% শুল্কের ক্ষমতা, অথচ ইউরেনিয়ামে ছাড়! মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঘিরে প্রশ্ন
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

রুশ তেলে ১০০% শুল্কের ক্ষমতা, অথচ ইউরেনিয়ামে ছাড়! মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঘিরে প্রশ্ন

রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা দিতে চলেছে আমেরিকা। ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’ ইতিমধ্যেই মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই পাশ হয়েছে এবং এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায়। ভারত ও চিনের মতো রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতারা এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। কিন্তু একই আইনে রাশিয়ার সঙ্গে অসামরিক পরমাণু সহযোগিতা এবং নির্দিষ্ট low-enriched uranium আমদানির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নীতির সামঞ্জস্য নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 18, 2026
•5 min read•
20
Share:
রুশ তেলে ১০০% শুল্কের ক্ষমতা, অথচ ইউরেনিয়ামে ছাড়! মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঘিরে প্রশ্ন

রুশ জ্বালানি কিনলে ১০০% পর্যন্ত শুল্কের বিধান

রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রি থেকে আয় কমানোর লক্ষ্যেই নতুন করে কঠোর পদক্ষেপের পথে ওয়াশিংটন। ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’-এ এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা নির্দিষ্ট দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে।

মার্কিন House of Representatives গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি অনুমোদন করে। এর আগে Senate-এও বিলটি পাস হয়েছিল। ফলে কংগ্রেসের আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে এখন সেটি প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিল পাশ হওয়া এবং ১০০ শতাংশ শুল্ক বাস্তবে কার্যকর হওয়া এক বিষয় নয়। ট্রাম্পের প্রশাসন সেই ক্ষমতা ব্যবহার করবে কি না এবং করলে কোন দেশ বা পণ্যের ক্ষেত্রে কী হারে শুল্ক বসবে, তা পরবর্তী সিদ্ধান্তের বিষয়।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানি রফতানি থেকে আয় কমানো। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের যুক্তি, তৃতীয় দেশগুলি রুশ তেল ও গ্যাস কিনে গেলে মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বজায় থাকে। সেই কারণেই সরাসরি রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রুশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলির উপরও অর্থনৈতিক চাপ তৈরির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ভারত-চিনের উপর কেন নজর?

এই আইনের সম্ভাব্য প্রভাবের তালিকায় ভারত ও চিনের নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছে। দুই দেশই গত কয়েক বছরে রাশিয়ার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।

মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিতে রুশ জ্বালানি কেনা মস্কোর রাজস্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। সেই অর্থ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও যুদ্ধ-সংক্রান্ত সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে—এমন যুক্তির ভিত্তিতেই নতুন নিষেধাজ্ঞা কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

House-এ আলোচনার সময়ও ভারত ও চিনের মতো দেশগুলির উপর সম্ভাব্য শুল্কের বিষয়টি সামনে আসে। তবে আইনটি কোনও নির্দিষ্ট দেশকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০০ শতাংশ শুল্কের আওতায় নিয়ে আসছে না। আইন প্রেসিডেন্টকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিচ্ছে এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ‘ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসে গিয়েছে’ বলা ঠিক নয়। বরং বলা যায়, ভারত-সহ রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতাদের উপর ভবিষ্যতে এমন শুল্ক বসানোর আইনি ক্ষমতা তৈরি হয়েছে।

তাহলে ইউরেনিয়ামে কেন ব্যতিক্রম?

বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এখানেই। একই আইনের রাশিয়া-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা কাঠামোয় অসামরিক পরমাণু সহযোগিতার জন্য বিশেষ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

আইনের পাঠ অনুযায়ী, আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে Atomic Energy Act-এর Section 123-এর আওতায় হওয়া civilian nuclear cooperation agreement-এর অধীনে পরিচালিত কার্যক্রম এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট ধরনের low-enriched uranium, যা পারমাণবিক চুল্লিতে ব্যবহৃত হয়, তার আমদানির ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট medical isotopes-এর ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থেকে ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

এর অর্থ হল, রাশিয়ার সঙ্গে সব ধরনের পরমাণু সম্পর্ক একইভাবে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। বরং মার্কিন পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে কিছু সরবরাহ ও সহযোগিতা চালু রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।

কেন এই ছাড় গুরুত্বপূর্ণ?

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে enriched uranium এবং nuclear fuel supply chain-এর ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

আমেরিকা ২০২৪ সালে রুশ low-enriched uranium আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আইন করেছিল। তবে সেই আইনে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প সরবরাহ না থাকলে waiver-এর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। মার্কিন আইনে এমন পরিস্থিতিতে Energy Secretary-র মাধ্যমে নির্দিষ্ট আমদানির অনুমোদনের সুযোগ রয়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞা কাঠামোয় civilian nuclear cooperation এবং নির্দিষ্ট nuclear fuel imports-এর জন্য ব্যতিক্রম রাখা সেই বাস্তবতার সঙ্গেই সম্পর্কিত। অর্থাৎ মার্কিন পরমাণু শিল্পকে এমন কোনও অবস্থায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে না, যেখানে রুশ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা nuclear reactor operations সরাসরি সমস্যায় পড়ে।

তেল বনাম পরমাণু জ্বালানি—দুই ক্ষেত্রে আলাদা নীতি?

এখানেই তৈরি হয়েছে নীতিগত বিতর্ক। একদিকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলিকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন অসামরিক পরমাণু ক্ষেত্রের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত কিছু রুশ uranium supply এবং civilian nuclear cooperation-এর জন্য ছাড় রাখা হয়েছে।

তবে দুটি ক্ষেত্রকে সম্পূর্ণ এক করে দেখা যায় না। রুশ তেল ও গ্যাসের উপর ব্যবস্থা মূলত রাশিয়ার energy revenue কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি। অন্যদিকে uranium-এর ক্ষেত্রে মার্কিন পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও fuel supply security একটি আলাদা বিষয়।

ফলে সমালোচকেরা এটিকে নীতিগত অসামঞ্জস্য হিসেবে দেখলেও, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের দৃষ্টিতে এই ব্যতিক্রমের উদ্দেশ্য হতে পারে আমেরিকার নিজস্ব nuclear energy infrastructure-কে সরবরাহ-সংকট থেকে রক্ষা করা।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ‘রাশিয়া থেকে সব ধরনের আমদানি নিষিদ্ধ’—এমন কোনও সাধারণ নিষেধাজ্ঞা এই আইনে নেই। বরং কোন খাতে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা ব্যতিক্রম থাকবে, তা আলাদা করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভারতের জন্য এর তাৎপর্য কী?

ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাশিয়া দেশের অন্যতম বড় crude oil supplier হয়ে উঠেছে। রুশ তেলের তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক দাম ভারতের refinery sector এবং বৃহত্তর energy security-র জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নতুন মার্কিন আইন কার্যকর হয়ে যদি ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়, তাহলে ভারতের রফতানিকারকদের উপর বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সেই প্রভাব নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসন আদৌ শুল্ক আরোপ করে কি না, করলে কোন পণ্যের উপর করে এবং কত হারে করে তার উপর।

অন্যদিকে, রুশ তেল আমদানি কমানোর সিদ্ধান্ত নিলে ভারতকে বিকল্প উৎস থেকে crude সংগ্রহ করতে হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ, দাম, refinery compatibility এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি—সবকিছুর উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।

তাই এই আইন ভারতের জন্য শুধু বাণিজ্যিক সমস্যা নয়, জ্বালানি নীতির ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

আমেরিকার জন্যও রয়েছে অর্থনৈতিক সমীকরণ

রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো ওয়াশিংটনের ঘোষিত লক্ষ্য হলেও, মার্কিন নীতিনির্ধারকদের সামনে নিজেদের অর্থনীতির প্রশ্নও রয়েছে।

বিশ্বের বড় crude oil buyers-দের উপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহের ভারসাম্য বদলাতে পারে। ভারত ও চিনের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলি রুশ তেল কেনা কমালে বিকল্প উৎসের উপর চাহিদা বাড়বে।

একইভাবে nuclear fuel supply-এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ মার্কিন পারমাণবিক বিদ্যুৎ শিল্পের উপরও চাপ তৈরি করতে পারে। এই কারণেই আইনটিতে civilian nuclear cooperation এবং নির্দিষ্ট uranium imports-এর ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে বলে আইনের কাঠামো থেকে বোঝা যায়।

‘দ্বিচারিতা’ বিতর্ক কোথায়?

এই পরিস্থিতিকে কেউ কেউ মার্কিন নীতির ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন—রাশিয়ার তেল কেনা অন্য দেশগুলির উপর শাস্তিমূলক শুল্কের হুমকি, অথচ নিজেদের পারমাণবিক শিল্পের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে রুশ uranium-এর জন্য ছাড়।

তবে এটি একটি রাজনৈতিক ও নীতিগত ব্যাখ্যা, কোনও প্রতিষ্ঠিত আইনি সত্য নয়। মার্কিন পক্ষ থেকে এর পাল্টা যুক্তি হতে পারে, তেল ও uranium-এর বাজার, ব্যবহার এবং কৌশলগত গুরুত্ব এক নয়। তাই একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা সব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়নি।

ফলে বিতর্কের মূল প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে—আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নীতিতে জাতীয় স্বার্থের জন্য ব্যতিক্রম রাখা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। রুশ জ্বালানি কেনা দেশগুলির উপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের nuclear fuel security নিশ্চিত করার এই দ্বৈত নীতি আগামী দিনে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিলটি এখন প্রেসিডেন্টের কাছে রয়েছে। ট্রাম্প স্বাক্ষর করলে এটি আইনে পরিণত হবে। এরপর প্রশাসন কীভাবে এবং কোন দেশগুলির ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ক্ষমতা ব্যবহার করে, সেটিই ভারতের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে উঠবে।

একইসঙ্গে রুশ uranium এবং civilian nuclear cooperation-এর ক্ষেত্রে আইনে থাকা ব্যতিক্রমগুলি কীভাবে প্রয়োগ করা হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

অর্থাৎ, কংগ্রেসে বিল পাশ হওয়া মাত্রই ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে না। কিন্তু রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে Washington-এর চাপ যে আইনি কাঠামোর পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা স্পষ্ট। একই আইনে nuclear sector-এর জন্য রাখা ব্যতিক্রম সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগ এবং আমেরিকার নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্নও সামনে আনছে।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10