২৪ জুলাই ভোট, বিজ্ঞপ্তি জারি নির্বাচন কমিশনের
পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনে উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ জুলাই ভোটগ্রহণ হবে। একই দিন ভোট শেষ হওয়ার পর গণনাও সম্পন্ন করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যে বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করেছে কমিশন।
কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৪ জুলাই। ১৫ জুলাই মনোনয়নপত্র যাচাই বা স্ক্রুটিনি হবে। ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপর ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শেষ হওয়ার পর বিকেল ৫টা থেকে গণনা শুরু হবে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
তিন সাংসদের পদত্যাগেই শূন্য হয়েছিল আসন
এই তিনটি আসন শূন্য হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের তিন রাজ্যসভার সাংসদের পদত্যাগের ফলে। দলের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সাংসদ পদ ছাড়েন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক।
এই পদত্যাগের ফলে দীর্ঘদিন ধরেই শূন্য ছিল তিনটি আসন। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল, নির্বাচন কমিশন কবে উপনির্বাচনের ঘোষণা করবে। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দিনক্ষণ জানিয়ে দিল কমিশন।
বিদ্রোহের আবহেই তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক সংকট
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে একাধিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন সামনে আসে। প্রথমে বিধায়ক স্তরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে। পরে সেই প্রভাব পড়ে সংসদীয় রাজনীতিতেও।
একাংশ সাংসদ দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হন। পরবর্তী সময়ে কয়েকজন সাংসদ বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র প্রতি সমর্থনের কথা জানান। পরে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতে তাঁরা অন্য একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।
এই অস্থিরতার মধ্যেই রাজ্যসভার তিন সদস্য পদত্যাগ করায় সংসদের উচ্চকক্ষে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্বে তিনটি শূন্যস্থান তৈরি হয়।
কার কত দিনের মেয়াদ বাকি ছিল
পদত্যাগকারী তিন সাংসদের মধ্যে সুখেন্দু শেখর রায়ের রাজ্যসভার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ছিল। অন্যদিকে সুস্মিতা দেবের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০৩০ সালে। প্রকাশ চিক বরাইকের কার্যকালও ২০২৯ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল।
অর্থাৎ নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই তাঁরা পদ ছেড়ে দেওয়ায় এই আসনগুলিতে উপনির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়।
বিধানসভার সংখ্যার অঙ্কেই নির্ধারিত হবে ফল
রাজ্যসভার উপনির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা অংশ নেন না। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচিত সদস্যরাই ভোট দিয়ে সাংসদ নির্বাচন করেন। ফলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান সংখ্যার সমীকরণই এই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মনোনয়ন দাখিলের পর থেকেই প্রার্থী নির্বাচন এবং বিভিন্ন দলের কৌশল ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূলে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই নির্বাচনকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।
নজরে প্রার্থী নির্বাচন
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর মূলত বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দিকে। শাসক শিবির কাদের মনোনয়ন দেয়, বিরোধীরা আদৌ প্রার্থী দেয় কি না এবং ভোটাভুটির পরিস্থিতি তৈরি হয় কি না— তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ১৪ জুলাই হওয়ায় খুব শীঘ্রই রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর ২৪ জুলাইয়ের ভোটেই নির্ধারিত হবে রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনে নতুন প্রতিনিধিদের নাম।



