Home/Kolkata/পশ্চিমবঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর কারখানার সম্ভাবনা, মিৎসুবিশির সঙ্গে নবান্নে বৈঠক; বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজও
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

পশ্চিমবঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর কারখানার সম্ভাবনা, মিৎসুবিশির সঙ্গে নবান্নে বৈঠক; বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজও

পশ্চিমবঙ্গে উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাপানের বহুজাতিক সংস্থা মিৎসুবিশি রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে নবান্নে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। একই দিনে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজও তাদের উৎপাদন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছে। শিল্পমহলের মতে, এই দুই বৈঠক রাজ্যের শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Jul 9, 2026
5 min read
5
Share:
পশ্চিমবঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর কারখানার সম্ভাবনা, মিৎসুবিশির সঙ্গে নবান্নে বৈঠক; বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজও

পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের ইতিবাচক ফল মিলতে শুরু করেছে বলেই মনে করছে শিল্পমহল। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের মতো কৌশলগত ক্ষেত্রে জাপানের বহুজাতিক সংস্থা মিৎসুবিশির আগ্রহ রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদন সম্প্রসারণে নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের অন্যতম পোশাক প্রস্তুতকারী সংস্থা লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

বুধবার নবান্নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শিল্প বিনিয়োগের এই সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান অশোক টোডি। একই সময়ে মিৎসুবিশির প্রতিনিধিদল রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে। বৈঠকে সম্ভাব্য শিল্প প্রকল্প, জমি, পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে রাজ্যের বড় লক্ষ্য

বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক গাড়ি, টেলিকম, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে প্রতিরক্ষা শিল্প—প্রায় প্রতিটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য। সেই কারণেই এই শিল্পে বিনিয়োগকে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, মিৎসুবিশি ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য বিনিয়োগের প্রাথমিক সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শিল্প স্থাপনের জন্য দুটি সম্ভাব্য জায়গার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড় এবং হুগলির ডানকুনি। এই দুই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্প পরিকাঠামো এবং জমির প্রাপ্যতা বিবেচনা করেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

চলতি মাসের মধ্যেই সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা পশ্চিমবঙ্গে এসে সম্ভাব্য প্রকল্প এলাকার সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই বিনিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজের সম্প্রসারণ

সেমিকন্ডাক্টরের পাশাপাশি উৎপাদন শিল্পেও নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ। সংস্থার চেয়ারম্যান অশোক টোডি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ডানকুনির কারখানার সম্প্রসারণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন।

জানা গিয়েছে, সম্প্রসারণ প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন তিনি। নতুন বিনিয়োগের ফলে উৎপাদন ক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনই কর্মসংস্থানের সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্প দপ্তরের মতে, বর্তমান কারখানার সম্প্রসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রকল্পের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে রাজ্যে উৎপাদন শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

জুলাই মাসেই একাধিক বড় প্রকল্প

রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, জুলাই মাসে অন্তত দুটি বড় শিল্প প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজের সম্প্রসারণ প্রকল্প, যার শিলান্যাস নির্ধারিত হয়েছে ১১ জুলাই।

অন্যদিকে, বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের নতুন সম্প্রসারণ প্রকল্পের শিলান্যাস হওয়ার কথা ১৮ জুলাই। দুই ক্ষেত্রেই কয়েকশো কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে শিল্প দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো শিল্পের সম্প্রসারণ যেমন বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতীক, তেমনই নতুন প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের আগমন রাজ্যের অর্থনীতিতে আরও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব

শুধু সেমিকন্ডাক্টর নয়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পগুলিকেও অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাজ্য সরকার। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence), ডেটা সেন্টার, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC), উন্নত ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলিতে বিনিয়োগ টানার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পাট ও চা শিল্পের আধুনিকীকরণেও জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, প্রচলিত শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ

শিল্প বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজ্য সরকার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। শিল্প অনুমোদনের সময় কমানো, জমি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলেই দেশি-বিদেশি একাধিক সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ইতিমধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদন, ভারী শিল্প এবং ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।

শিল্পমহলের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে শুধু প্রকল্প ঘোষণা নয়, দ্রুত বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে রাজ্য সরকার।

কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা

মিৎসুবিশির সম্ভাব্য সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু বিনিয়োগ নয়, দক্ষ জনশক্তির জন্যও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক এবং দক্ষ কারিগরি কর্মীদের চাহিদা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

একইভাবে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও শ্যাম স্টিলের সম্প্রসারণ প্রকল্পও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শিল্পের সঙ্গে ছোট ও মাঝারি সহায়ক শিল্পও গড়ে ওঠে, যার প্রভাব গোটা শিল্প অর্থনীতিতেই পড়ে।

রাজ্য সরকারও পূর্ব ভারতে পশ্চিমবঙ্গকে অন্যতম প্রধান শিল্প ও বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। আগামী কয়েক মাসে এই প্রকল্পগুলির অগ্রগতি সেই লক্ষ্য কতটা সফল হবে, সেদিকেই নজর থাকবে শিল্পমহল ও বিনিয়োগকারীদের।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10