প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ না হলেও কর্মসূচি
ভোটে অনিয়মের অভিযোগ, Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar-এর পদত্যাগের দাবিতে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিলেন বিরোধী নেতারা। সেই উদ্দেশ্যে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করে INDIA জোট।
তবে প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে রবিবার রাতে ইমেলের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়, তিনি বিরোধী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না। ফলে স্মারকলিপি সরাসরি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তা সত্ত্বেও বিরোধীরা জানিয়েছে, পদযাত্রা বাতিল করা হচ্ছে না।
‘দিল্লি চলো—মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ নামের এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক দাবিগুলি সামনে আনতে চায় বিরোধী শিবির। তাদের বক্তব্য, গণতন্ত্র, নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
রাহুল, মমতা, অখিলেশদের নেতৃত্বে পদযাত্রার পরিকল্পনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ Connaught Place ও Barakhamba Road সংযোগস্থলে জমায়েত হওয়ার কথা বিরোধী নেতাদের। সেখান থেকে Rahul Gandhi, Mamata Banerjee, Akhilesh Yadav, Tejashwi Yadav, Mallikarjun Kharge এবং Priyanka Gandhi-সহ একাধিক নেতার নেতৃত্বে পদযাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, India Gate থেকে Supreme Court পর্যন্ত যাওয়ার কথা এই মিছিলের। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ না হলেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধীরা। তবে নির্ধারিত রুটে পদযাত্রা কতটা এগোতে পারবে, তা নির্ভর করবে পুলিশের অনুমতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নির্দেশের উপর।
অভিযানের আগে Rahul Gandhi একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে কর্মসূচির উদ্দেশ্য হিসেবে প্রেম, ভ্রাতৃত্ব এবং দেশপ্রেমের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, এই পদযাত্রার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হবে।
সেন্ট্রাল দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা
বিরোধীদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সেন্ট্রাল দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে সংবাদসূত্রের খবর। RAF ও CRPF-এর পাশাপাশি পুলিশকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, রাস্তা এবং সুপ্রিম কোর্টের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। স্টেশনগুলি হল—
Patel Chowk
Janpath
Rajiv Chowk
Mandi House
Central Secretariat
Barakhamba Road
এই স্টেশনগুলি বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার যাত্রীদের যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে। কর্মসূচির সময় যান চলাচল ও গণপরিবহণের পরিস্থিতির উপরও নজর থাকবে প্রশাসনের।
তবে স্টেশনগুলি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে, নাকি নির্দিষ্ট প্রবেশপথ বা পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তা দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের (DMRC) সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
১৬৩ ধারা জারি, মিছিল ঘিরে বিধিনিষেধ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধীদের পদযাত্রা ঘিরে দিল্লিতে BNSS-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই ধারার অধীনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি করতে পারে। জমায়েত, চলাচল বা নির্দিষ্ট কর্মসূচির উপর কী ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট আদেশের উপর নির্ভর করে।
পদযাত্রা আটকাতে বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন এই পদক্ষেপ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে নির্দেশটি ঠিক কোন কোন এলাকায় কার্যকর, কত দিন বলবৎ থাকবে এবং মিছিলের ক্ষেত্রে কী শর্ত রাখা হয়েছে, তা সরকারি নির্দেশিকা দেখে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
বড় জমায়েতের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক দাবি সামনে আনার সিদ্ধান্তে অনড়।
কেন সাক্ষাৎ করতে রাজি নন প্রধান বিচারপতি?
প্রধান বিচারপতি Surya Kant-এর দপ্তর থেকে বিরোধী নেতাদের জানানো হয়েছে, তাঁরা যে বিষয়গুলি উত্থাপন করতে চান, সেগুলির কয়েকটি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এভাবে প্রশাসনিক স্তরে সাক্ষাৎ করার এক্তিয়ার আদালতের নেই বলেও জানানো হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের মূল কাজ হল আবেদন গ্রহণ করা, মামলার শুনানি করা এবং আইন অনুযায়ী রায় দেওয়া। রাজনৈতিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে স্মারকলিপি গ্রহণ করা বিচারবিভাগের স্বাভাবিক কাজের অংশ নয়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ নেই। প্রধান বিচারপতির দপ্তরের বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের দরজা সব নাগরিকের জন্য খোলা থাকার এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালতের দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আইনি লড়াই—দুই পথেই বিরোধীরা
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ার পরও বিরোধীরা রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভোটে অনিয়ম, SIR এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে আইনি পদক্ষেপের পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে একদিকে বিরোধীদের পদযাত্রা, অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা—দুটি বিষয়ই সোমবারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, পুলিশ মিছিলের অনুমতি দেয় কি না এবং কোনও নতুন বিধিনিষেধ জারি হয় কি না, সে দিকেই নজর থাকবে।
গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে বিরোধীদের দাবিগুলি আদালতে কীভাবে উত্থাপিত হয় এবং বিচারাধীন মামলাগুলির পরবর্তী শুনানিতে কী উঠে আসে, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: প্রকাশের আগে ১৬৩ ধারার সরকারি নির্দেশ, ছ’টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার DMRC বিজ্ঞপ্তি, পদযাত্রার অনুমোদিত রুট এবং প্রধান বিচারপতির দপ্তরের ইমেল যাচাই করুন। প্রতিবেদনে কর্মসূচি ঘোষণার তথ্য রয়েছে; পদযাত্রা বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা আলাদা করে নিশ্চিত না করে অতীতকালের ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়।



