Home/India/পাকিস্তানের কূটনৈতিক অস্বস্তি বাড়াল ব্রিকস, পহেলগাঁও হামলার নিন্দায় একসঙ্গে চিন-ইরান-রাশিয়া
Advertisement
#16
Advertisement
#17
Advertisement
#18
Advertisement
#19
Advertisement
#20

পাকিস্তানের কূটনৈতিক অস্বস্তি বাড়াল ব্রিকস, পহেলগাঁও হামলার নিন্দায় একসঙ্গে চিন-ইরান-রাশিয়া

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা নিয়ে এবার ব্রিকসের মঞ্চে বড় কূটনৈতিক বার্তা। দিল্লি ঘোষণাপত্রে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও হামলার নিন্দা করেছে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি। বিশেষ তাৎপর্য তৈরি হয়েছে চিন ও ইরানের অবস্থান ঘিরে। কারণ, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও দুই দেশই হামলার নিন্দায় সম্মতি দিয়েছে। সীমান্তপারের সন্ত্রাস, জঙ্গিদের অর্থ জোগান এবং নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়েছে ব্রিকস।

Joyjit Sengupta

Joyjit Sengupta

Author from Orange Prime News

Sep 13, 2026
•5 min read•
19
Share:
পাকিস্তানের কূটনৈতিক অস্বস্তি বাড়াল ব্রিকস, পহেলগাঁও হামলার নিন্দায় একসঙ্গে চিন-ইরান-রাশিয়া

পহেলগাঁও হামলা নিয়ে এক মঞ্চে ব্রিকস

শনিবার ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশ্যে আসার পরই সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঘোষণাপত্রে কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম করে অভিযোগ না তুললেও পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার নিন্দা করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের যে কোনও রূপের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করার অঙ্গীকারও জানিয়েছে সদস্য দেশগুলি। জঙ্গিদের সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে অর্থ সাহায্য এবং তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ বন্ধ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ভারতের কাছে এই অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই নয়াদিল্লি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সীমান্তপারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

চিন-ইরানের অবস্থানেই বাড়ল তাৎপর্য

ব্রিকসের ঘোষণাপত্রে পহেলগাঁও হামলার নিন্দার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি নজর পড়েছে চিন ও ইরানের দিকে। দুই দেশই পাকিস্তানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে।

চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গেও পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগ রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় পহেলগাঁও হামলার নিন্দা করা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।

তবে এটিকে চিন বা ইরানের পাকিস্তানবিরোধী অবস্থান হিসেবে সরাসরি ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। বরং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ নীতিগত অবস্থানের মধ্যেই পহেলগাঁও হামলার নিন্দা এসেছে। তবু ভারতের জন্য এই সমর্থনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব যথেষ্ট।

অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপটে ঘোষণাপত্র

পহেলগাঁও হামলার পর ভারত যে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিল, তার সঙ্গেও এই ঘোষণাপত্রের সময়কাল গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত।

২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে হামলায় ২৬ জন নিরস্ত্র মানুষ নিহত হন। হামলার সঙ্গে লস্কর-ই-তইবার ছায়া সংগঠন হিসেবে পরিচিত দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট বা টিআরএফের জঙ্গিদের যোগ থাকার অভিযোগ ওঠে।

এরপর ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালানোর কথা জানায় নয়াদিল্লি।

এরপর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা-পালটা হামলা হয়। ভারতও পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে পালটা ব্যবস্থা নেয় বলে জানানো হয়।

শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষবিরতির মাধ্যমে সেই পর্বের অবসান ঘটে। কিন্তু পহেলগাঁও হামলার পর সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান আরও জোরালো হয়েছে।

‘দ্বিমুখী নীতি’ মানবে না ব্রিকস

ব্রিকসের ঘোষণাপত্রে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দ্বিমুখী নীতির বিরোধিতা করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা কৌশলগত সুবিধার কারণে এক ধরনের সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন এবং অন্য ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করা যাবে না—এমন নীতিগত অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

এই বক্তব্য ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ। নয়াদিল্লি বরাবরই বলে এসেছে, সন্ত্রাসবাদকে ‘ভাল’ বা ‘খারাপ’ হিসেবে ভাগ করে দেখার সুযোগ নেই।

ব্রিকসের মতো একটি বহুপাক্ষিক মঞ্চে এই ধরনের বক্তব্য উঠে আসায় ভারতের অবস্থান আন্তর্জাতিক স্তরে আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সীমান্তপারের সন্ত্রাস নিয়েও কড়া বার্তা

যৌথ ঘোষণায় সন্ত্রাসবাদীদের সীমান্ত পেরিয়ে যাতায়াত এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

ভারতের ক্ষেত্রে এই বিষয়টির গুরুত্ব আলাদা। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আসছে নয়াদিল্লি।

ব্রিকসের ঘোষণায় কোনও দেশকে সরাসরি দায়ী না করা হলেও সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়, অর্থের জোগান এবং সীমান্তপারের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তরুণ প্রজন্মকে উগ্রবাদ থেকে দূরে রাখার বার্তা

শুধু জঙ্গি সংগঠন বা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো নয়, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উগ্রপন্থী ভাবধারার প্রসার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ব্রিকস।

যুবসমাজকে চরমপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়া, অনলাইনে বা অন্য মাধ্যমে উগ্র মতাদর্শের বিস্তার এবং সন্ত্রাসবাদে তরুণদের জড়িয়ে পড়া ঠেকানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ব্রিকসের মতে, শুধু সামরিক অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর সামাজিক ও আদর্শগত শিকড়ও মোকাবিলা করতে হবে। সে কারণেই সদস্য দেশগুলির মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

জঙ্গিদের অর্থের জোগান বন্ধ করাই অন্যতম লক্ষ্য

সন্ত্রাসবাদ দমনে অর্থের উৎস বন্ধ করা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্রিকসের ঘোষণাতেও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে আর্থিক সহায়তার বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

কোনও জঙ্গি সংগঠন অস্ত্র কেনা, সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ বা হামলা পরিচালনার জন্য অর্থ না পেলে তাদের কার্যকলাপ দুর্বল করা সম্ভব—এটাই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলের অন্যতম ভিত্তি।

ভারত দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করে আসছে। ফলে ব্রিকসের এই অবস্থানও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রাশিয়ার অবস্থানও তাৎপর্যপূর্ণ

চিন ও ইরানের পাশাপাশি রাশিয়াও ব্রিকসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। মস্কোর সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক থাকলেও রাশিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানেরও সাম্প্রতিক সময়ে যোগাযোগ বেড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের ঘোষণায় পহেলগাঁও হামলার নিন্দা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তবে ঘোষণাপত্রকে কোনও নির্দিষ্ট দেশকে কোণঠাসা করার নথি হিসেবে দেখার বদলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বহুপাক্ষিক ঐকমত্য হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের জন্য সেটিই বড় অর্জন।

পাকিস্তানের জন্য কেন অস্বস্তিকর?

পাকিস্তান বরাবরই আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর ইস্যু সামনে এনে ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করে। কিন্তু পহেলগাঁও হামলার পর ভারত সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে আলোচনার দিক পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছে।

ব্রিকসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে পহেলগাঁও হামলার নিন্দা সেই কৌশলকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দেশগুলিও যৌথ ঘোষণায় সম্মতি দেওয়ায় ইসলামাবাদের কূটনৈতিক অস্বস্তি বাড়তে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ব্রিকসের সব সদস্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একক অবস্থান নিয়েছে। বরং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ নীতির মধ্যে পহেলগাঁওয়ের ঘটনা জায়গা পেয়েছে—এটাই গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে কী বার্তা?

ব্রিকসের এই অবস্থান ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পথ তৈরি করতে পারে। গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান, জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধ করা এবং উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ—এসব বিষয় আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পহেলগাঁও হামলার মতো ঘটনা এখন শুধু দ্বিপাক্ষিক ভারত-পাকিস্তান ইস্যু হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সেটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী আলোচনার অংশ হয়ে উঠছে।

সব মিলিয়ে, ব্রিকসের দিল্লি ঘোষণাপত্রে পহেলগাঁও হামলার নিন্দা ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা। চিন, ইরান এবং রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সম্মতিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান পাকিস্তানের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তবে এর আসল গুরুত্ব কোনও একটি দেশকে নিশানা করার মধ্যে নয়—বরং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ব্রিকসের ঐকমত্যকে আরও স্পষ্ট করে তোলার মধ্যেই।

Advertisement
#6
Advertisement
#7
Advertisement
#8
Advertisement
#9
Advertisement
#10